দেশের তিনটি বিশ্ব ঐতিহ্যের মধ্যে দুটিই বাগেরহাটে অবস্থিত। একটি খানজাহানের অমর সৃষ্টি ঐতিহাসিক ষাটগুম্বুজ মসজিদ অপরটি প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি সুন্দরবন। যা দেশ-বিদেশের ভ্রমণ পিপাসুদের কাছে আর্কষণীয় স্থান রূপে বিবেচিত।
এ দুটি স্থানকে ঘিরে বাগেরহাটে আরো কয়েকটি পর্যটনস্পট গড়ে উঠেছে। এসব দর্শনীয় স্থানে সারা বছরই কমবেশি দর্শনার্থী আসে দেশ বিদেশ থেকে। তবে বিশেষ কিছু দিনকে কেন্দ্র করে এই দর্শনার্থীর সংখ্যা অনেকগুণ বেড়ে যায়।
গেল দুই বছর করোনা মহামারির কারণে ঈদের ছুটিতে পর্যটন স্পটগুলো অনেকটাই বন্ধ ছিল। ইচ্ছা থাকার পরও পরিবার নিয়ে বেড়াতে আসতে পারেননি অনেকে। দীর্ঘ বন্ধের পর এ বছর পর্যটন স্পটগুলো পুরোপুরি খুলে দেওয়া হয়েছে। তাই ঈদুল ফিতরের ছুটিতে লোকসান পুষিয়ে নিতে চান সংশ্লিষ্টরা।
পবিত্র ঈদ-উল ফিতরের লম্বা ছুটিতে বাগেরহাটে আগত পর্যটক ও দর্শনার্থীদের বরণে প্রস্তুত রাখা হয়েছে জেলার অন্যতম পর্যটন স্পট সুন্দরবন ও ষাটগুম্বুজ মসজিদ। বাইরে থেকে আসা হাজার হাজার পর্যটকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাগেরহাট পূর্ব সুন্দরবন বিভাগ ও জেলা প্রত্মতত্ত্ব অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ। ঈদের ছুটি বতিল করা হয়েছে সুন্দরবন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারিদের।
ষাটগম্বুজ মসজিদ, খানজাহান আলীর মাজার, সদর উপজেলার হাকিমপুরে অবস্থিত ভারতের তাজমহলের আদলে করা ‘চন্দ্রমহল’ ইকো পার্ক, বারাকপুরে অবস্থিত সুন্দরবন রির্সোট সেন্টার, শহরের দশানী পার্কসহ জেলার পর্যটনস্পটগুলো পর্যটকদের কছে আকর্ষণীয় করতে নেওয়া হয়েছে নানা উদ্যোগ।
বাগেরহাট ষাট গম্বুজ মসজিদের কাস্টডিয়ান মো. জায়েদ জানান, পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে বিশ্ব ঐতিহ্য ষাটগম্বুজ মসজিদে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের ব্যাপক আগমন ঘটে। জেলার বাইরে থেকে চোখে পড়ার মতো দর্শনাথীরা এখানে ঘুরতে আসে। এ বছর লম্বা সরকারি ছুটির কারণে পর্যটক আরো বেশি আসতে পারে। পর্যাটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীসহ প্রত্মতত্ত্ব অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে সকল প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
হাকিমপুরের চন্দ্রমহলের ব্যবস্থাপক মহব্বত আলী চাকলাদার বলেন, গত দুই বছর করোনার কারণে ঈদে তাদের ইকোপার্ক বন্ধ ছিল। তাই দর্শনার্থী আসতে পারেনি। এ বছর টানা ছুটিতে অনেক বেশি দর্শনার্থী আসবে। এজন্য সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।
পূর্ব সুন্দরবনের করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজাদ কবির বলেন, রমজান ও প্রচণ্ড গরমের কারণে এ বছর পর্যটক খুবই কম। ঈদুল ফিতর উপলক্ষ্যে করমজলে দেশি-বিদেশি পর্যাটকদের ব্যাপক আগমন ঘটে। ঈদের দিন মূলত স্থানীয় লোকজন এখানে ঘুরতে আসেন। ঈদের পরদিন থেকে দর্শনার্থী বা পর্যটকের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। এবারও ঈদ উপলক্ষে করমজলকে পর্যটকদের কাছে আরো আকর্ষণীয় করে তুলতে বিভিন্ন প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।
বাগেরহাট পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মো. বেলায়েত হোসেন জানান, ঈদে সুন্দরবনের করমজল, কচিখালী, হিরণ পয়েন্ট ও দুবলারচরসহ পর্যটন স্পটগুলোতে আগমন ঘটে প্রচুর পর্যটকদের। ঈদের ছুটিতে সুন্দরবনের চাঁদপাই রেঞ্জের করমজল, শরণখোলা রেঞ্জসহ সন্নিহিত বন লোকালয়ে ট্যুরিস্ট স্পটগুলোতে আগত দেশি-বিদেশি ইকোট্যুরিস্টদের নিরাপত্তা ও বন্যপ্রাণীসহ বনজ সম্পদ রক্ষার জন্য সুন্দরবন বিভাগের কর্মকর্তা-কর্মচারির ঈদের ছুটি বতিল করা হয়েছে।
বাগেরহাট ট্যুরিস্ট পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোশারফ হোসেন বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য ট্যুরিস্ট পুলিশের দুইটি টিম কাজ করছে।
এফএ/জিকেএস