দেশজুড়ে

শরীয়তপুরে দুই পক্ষের সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ২০

শরীয়তপুরে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে একজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন অন্তত ২০ জন। এ ঘটনায় পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (৩ মে) সকাল সাড়ে ৮টার দিকে সদর উপজেলার চিতলিয়া ইউনিয়নের মজুমদার কান্দি গ্রামে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

নিহত ব্যক্তির নাম কুদ্দুস ব্যাপারী (৭৫)। তিনি একই গ্রামের রহম আলী ব্যাপারীর ছেলে।

আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

স্থানীয় ও পুলিশ সূত্র জানায়, চিতলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুস ছালাম হাওলাদারের সঙ্গে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হারুন অর রশিদ হাওলাদারের দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল। মঙ্গলবার সকালে ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মজুমদার কান্দি ছালাম ও হারুনের গ্রুপের সমর্থকদের মধ্যে বাগবিতণ্ডা হয়। এক পর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। সংঘর্ষের সময় উভয় পক্ষ টেঁটা, রামদা, বল্লম, চাইনিজ কুড়াল, লোহার রড, লাঠিসোটা নিয়ে একে অপরের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েন।

সংঘর্ষ চলাকালে কুদ্দুস ব্যাপারীকে টেঁটা দিয়ে গলায় আঘাত করলে তিনি গুরুতর আহত হন। তাকে সদর হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।

এ বিষয়ে চিতলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আব্দুস ছালাম হাওলাদার বলেন, ‘ঈদের নামাজ পড়ে আমার লোকজন মসজিদ থেকে বের হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হারুন হাওলাদারের লোকজন আমাদের ওপর হামলা চালায়। ওরা কুদ্দুস ব্যাপারীকে টেঁটা দিয়ে হত্যা করেছে। হামলাকারীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাই।’

চিতলিয়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হারুন অর রশিদ হাওলাদার বলেন, সকালে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষে আমাদের বেশ কয়েকজন লোক আহত হয়েছেন। তবে কুদ্দুস ব্যাপারীর ওপর তার সমর্থকদের হামলার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।

শরীয়তপুর সদরের পালং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আক্তার হোসেন বলেন, পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে।

ছগির হোসেন/এসআর/জেআইএম