জাতীয়

জলাবদ্ধতা রোধে জলাধার ভরাট বন্ধ করতে হবে: আইপিডি

রাজধানীবাসীকে জলাবদ্ধতা থেকে বাঁচাতে ঢাকা মহানগরীর সব জলাধার ভরাট বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে ইনস্টিটিউট ফর প্ল্যানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (আইপিডি)।

Advertisement

রোববার (২২ মে) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই আহ্বান জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আশকোনায় ঢাকা মহানগরীর মহাপরিকল্পনা, বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা, নগর উন্নয়ন আইন, জলাধার সংরক্ষণ আইন ও পরিবেশ সংক্রান্ত আইন অমান্য করে জলাধার ভরাট করছে বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ (বেবিচক)। এ জলাশয় ভরাটের প্রতিবাদ জানাচ্ছে আইপিডি।

এতে আরও বলা হয়, জলাশয় ভরাটের ক্ষেত্রে প্রায়শঃই প্রভাবশালী মহল ও বেসরকারি উদ্যোগে গড়ে উঠা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান কিংবা প্রকল্পের নাম শোনা যায়। কিন্তু সরকারি প্রতিষ্ঠানও যখন রাজধানী শহরে কর্তৃপক্ষের উপস্থিতিতে দিবালোকেই এই ধরনের অন্যায়, অন্যায্য ও অবৈধ উদ্যোগ নেয়, তখন টেকসই ও বাসযোগ্য নগর গড়তে আমরা কেন ব্যর্থ হচ্ছি, সেই বিষয়টি স্পষ্ট হয়ে ওঠে।

Advertisement

ঢাকার বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনা প্রতিপালনে ব্যর্থ হলে ও জলাশয়-জলাধার রক্ষায় আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে না পারলে ঢাকাকে কোনোভাবেই বাঁচানো যাবে না বলে মনে করে আইপিডি। বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, আসন্ন বর্ষা মৌসু্মে ভারি বর্ষণে জলাবদ্ধতার শঙ্কায় ঢাকার নগরবাসী এমনিতেই ভয়ে আছে। ঢাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে বিভিন্ন ধরনের প্রকল্প নেওয়া হলেও জলাবদ্ধতা থেকে মুক্তি ও ড্রেনেজ ব্যবস্থার কার্যকারিতা অনেকাংশে নির্ভর করে জলাশয়-জলাধারসমূহের পানিধারন ক্ষমতার ওপর।

একটি নগরের ১২ থেকে ১৫ ভাগ এলাকায় জলাশয় থাকা দরকার হলেও ঢাকার জলাশয়-জলাধার এলাকা কমছে আশঙ্কাজনকভাবে। ঢাকার বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনায় চিহ্নিত জলাশয়-জলাধার নির্বিচার দখলের শিকার হচ্ছে।

ঢাকার বিশদ অঞ্চল পরিকল্পনায় চিহ্নিত আশকোনা এলাকার জলাশয় বিগত বেশ কিছুদিন যাবত নির্বিচারে ভরাট হলেও এটি বন্ধের জন্য রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি), ঢাকা জেলা প্রশাসন ও পরিবেশ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাসমূহ তেমন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি, যা অত্যন্ত উদ্বেগের। এর আগে, রাজধানীর কুড়িলে জলাধার ভরাট করে ফাইভ স্টার হোটেল নির্মাণের অনুমতি দেয় বাংলাদেশ রেলওয়ে। যা পরবর্তীতে ডিএনসিসির মেয়রের উদ্যোগে ও হাইকোর্টের আদেশে স্থগিত করা হয়। এই ঘটনাগুলোতে প্রতীয়মান হয় যে, রাজধানীর জলাশয়-জলাধার রক্ষার ব্যাপারে সরকারের নির্দেশনা সরকারি বিভিন্ন সংস্থা যথাযথভাবে প্রতিপালন করছে না। এটি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। আইপিডির বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, রাজধানীর মহাপরিকল্পনার অধীন যেকোনো পরিকল্পনা ও উন্নয়ন এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ভূমি ব্যবহার পরিবর্তনের জন্য টাউন ইমপ্রুভমেন্ট আইন-১৯৫৩ অনুযায়ী রাজউকের অনুমোদন নেওয়ার যে বিধান আছে তা কেন বিভিন্ন সরকারি সংস্থা মানছে না? সরকারের তার নির্মোহ বিশ্লেষণ করা দরকার।

একই সঙ্গে রাজউকসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য সংস্থাসমূহ কেন এই ধরনের জলাশয়-জলাধার ভরাটের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারছে না? সেই কারণগুলোও উদঘাটন হওয়া দরকার। আইপিডি জানায়, সরকারি সংস্থাগুলো যখন মহাপরিকল্পনা ও বিদ্যমান আইনের নির্দেশনা না মেনে জলাশয় ভরাটে উদ্যোগী হয়, তখন জলাশয় ভরাটের ক্ষেত্রে অন্যান্য দখলদারদের নিবৃত করতে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় রাষ্ট্র ও সরকারের নৈতিক অবস্থান অনেকটা দুর্বল হয়ে পড়ে।

Advertisement

আশকোনার এই জলাশয় ছাড়াও ঢাকার আশেপাশে আমিনবাজার-আশুলিয়াসহ অনেক এলাকার জলাশয়-জলাধার নির্বিচারে ভরাট হচ্ছে। ঢাকাকে জলাবদ্ধতার হাত থেকে রক্ষা করতে হলে সব ধরনের জলাশয়-জলাধার ভরাটের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া ও দোষীদের আইনের আওতায় নেওয়ার জন্য এ সময় জোর দাবি জানায় আইপিডি।

এমএমএ/এমপি/জিকেএস