জাতীয়

রোহিঙ্গাদের জন্য আরও সহায়তার আবেদন ইউএনএইচসিআর প্রধানের

জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার ফিলিপ্পো গ্র্যান্ডি বাংলাদেশে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও স্থানীয় জনগোষ্ঠীর জন্য টেকসই ও পরিকল্পিত সহায়তার আবেদন করেছেন। অনুকূল পরিবেশে শরণার্থীদের স্বেচ্ছায় মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার যে আশা রয়েছে, তা বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তাও তুলে ধরেন তিনি।

Advertisement

বুধবার (২৫ মে) জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।

শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনার ফিলিপ্পো গ্র্যান্ডি আজ বাংলাদেশে তার পাঁচদিনের সফর শেষ করছেন। সফরে তিনি রোহিঙ্গা শরণার্থী, দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব, ইউএনএইচসিআরের দাতা অংশীদার এবং মানবিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।

কক্সবাজার ও ভাসানচরের শরণার্থী শিবির পরিদর্শনের পর ফিলিপ্পো গ্র্যান্ডি বলেন, গত পাঁচ বছর ধরে রোহিঙ্গা শরণার্থী ও তাদের আশ্রয় দেওয়া স্থানীয় জনগোষ্ঠী যে সংকট মোকাবিলা করছে, তা বিশ্বকে অবশ্যই মনে রাখতে হবে। শরণার্থীদের জীবন নির্ভর করে তাদের সহায়তায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আচরণের ওপর।

Advertisement

গ্র্যান্ডি বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে সরকারের নেতৃত্বে শরণার্থীদের জন্য মানবিক কার্যক্রমের গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির প্রশংসা করেন। এ অগ্রগতির মধ্যে আছে রোহিঙ্গা শরণার্থীদের করোনার টিকাদান কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্তিকরণ, যার মাধ্যমে ১৮ বছরের বেশি বয়সী রোহিঙ্গাদের ৮৮ শতাংশেরও বেশি ইতোমধ্যেই টিকা পেয়েছেন।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ প্রায় ১০ লাখ শরণার্থীর মানবিক সহায়তায় নেতৃত্ব দিচ্ছে। সেজন্য বাংলাদেশ আমাদের কাজের খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশীদার রাষ্ট্র। কিন্তু জীবন রক্ষাকারী সহায়তা দেওয়া ও আশানুরূপ ভবিষ্যতের জন্য নিরবচ্ছিন্ন চলমান আন্তর্জাতিক সহায়তা প্রয়োজন। বাংলাদেশ, এ দেশের মানুষ, এবং কয়েক দশক ধরে বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গা শরণার্থীদের কথা আমি তুলে ধরতে চাই। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে মনে করিয়ে দিতে চাই, রোহিঙ্গা শরণার্থীদের নিরাপদ প্রত্যাবাসনের আগ পর্যন্ত তাদের সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক সহায়তার গুরুত্বপূর্ণ।

গ্র্যান্ডি জানান, কক্সবাজারের ৯ লাখ ২০ হাজার রোহিঙ্গা শরণার্থী ও পাঁচ লাখ ৪০ হাজার স্থানীয় জনগণ। মোট প্রায় ১৪ লাখ মানুষের জন্য মানবিক সংস্থাগুলোর প্রয়োজন প্রায় ৮৮১ মিলিয়ন ডলার। ২০২২ সালের মে মাস পর্যন্ত এ জয়েন্ট রেসপন্স প্ল্যানের মাত্র ১৩ শতাংশের অর্থায়ন নিশ্চিত হয়েছে।

২০১৭ সালের ২৫ আগস্ট মিয়ানমারের রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর গণহত্যা চালানোর পর এটি ফিলিপ্পোর তৃতীয়বারের মতো বাংলাদেশ সফর। এরআগে তিনি ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বরে এবং ২০১৯ সালের এপ্রিলে বাংলাদেশ সফর করেন। দ্বিতীয়বার বাংলাদেশ সফরের এক মাস পর অর্থাৎ ২০১৯ সালের মে মাসে মিয়ানমার সফর করেছিলেন।

Advertisement

এএএইচ/জিকেএস