দেশজুড়ে

সিরাজগঞ্জে কমেছে যমুনার পানি, বেড়েছে ভাঙন

সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি কমতে থাকায় তীরবর্তী এলাকায় ভাঙন বৃদ্ধি পেয়েছে। শাহজাদপুর উপজেলায় গত ২৪ ঘণ্টায় ছয়টি গ্রামের অর্ধশত বাড়িঘর যমুনা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে বলে জানা গেছে।

Advertisement

খোঁজ নিয়ে জানা গেলো, সিরাজগঞ্জে গত ১২ ঘণ্টায় যমুনা নদীর পানি ১০ সেন্টিমিটার কমেছে। বুধবার (২৫ মে) সকালে এখানে পানি ছিল ১২ দশমিক ৩৫ সেন্টিমিটার। বিকেলে তা কমে গিয়ে ১২ দশমিক ২৫ সেন্টিমিটার দাঁড়িয়েছে।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের গজ রিডার হাসানুর রহমান জাগো নিউজকে এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেন, গত ১২ ঘণ্টায় ১০ সেন্টিমিটার পানি কমে যাওয়ায় নদী তীরবর্তী এলাকায় ভাঙন আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, যমুনার পানি কমতে থাকায় নদী তীরবর্তী শাহজাদপুর উপজেলার জালালপুর ইউনিয়নের আরকান্দি, ঘাটাবাড়ি, জালালপুর, পাকুরতলা, কৈজুরি ইউনিয়নের ভেকা ও পাচিল গ্রামে ভাঙন আরও তীব্র আকার ধারণ করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় এ ছয় গ্রামের অন্তত অর্ধশতাধিক বাড়িঘর যমুনা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। গৃহহীন হয়ে পড়েছেন প্রায় দুই শতাধিক মানুষ।

Advertisement

ভাঙনে বাড়িঘর হারানো পাচিল গ্রামের আম্বিয়া খাতুন, আনু খাতুন, নূর ইসলাম, ইয়াসিন সরকার, আব্দুর রাজ্জাকসহ কয়েকজন বলেন, বন্যার পানি কমতে থাকায় ভাঙন আরও তীব্র হয়েছে। গত একদিনে আমাদের গ্রামের অন্তত ২০টি বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য গ্রাম মিলিয়ে উপজেলার প্রায় অর্ধশত বাড়িঘর যমুনাগর্ভে চলে গেছে। সর্বস্ব হারিয়ে আমরা এখন সন্তানদের নিয়ে খোলা আকাশের নিচে মানবেতর জীবনযাপন করছি।

তাদের অভিযোগ, চলতি বছর পাচিল-আরকান্দি যমুনার তীর সংরক্ষণ বাঁধ নির্মাণ কাজের ঠিকাদাররা সময়মতো বস্তা ফেললে এখন এ অবস্থা হতো না। এজন্য তারা ঠিকাদারের লোকজনকে দায়ী করেছেন।

এ বিষয়ে কৈজুরি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন খোকন বলেন, পাচিল গ্রামে যমুনা নদীর তীর সংরক্ষণ কাজে ঠিকাদারের গাফিলতিতে এবছর গ্রামের মানুষ নদী ভাঙনের কবলে পড়ে নিঃস্ব হয়েছে। তারা সময়মতো বস্তা ফেললে এ ক্ষতি হতো না।

এদিকে, বুধবার দুপুরে পাচিল গ্রাম ঘুরে দেখা যায়, নদী তীর সংলগ্ন এলাকায় দমকা বাতাসের সঙ্গে মাটির বড় বড় চাপ নদীতে ভেঙে পড়ছে। মানুষজন তাদের ঘরের আসবাবপত্র সরিয়ে নিতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। সর্বস্ব হারানো লোকজন কান্নাকাটি করছেন। অনেকে তাদের গবাদিপশু কোথায় সরিয়ে নেবেন তা নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

Advertisement

জালালপুর গ্রামের আলহাজ আলী, কামরুল ইসলাম, মহির মেম্বার বলেন, ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য এখনো কোনো সহায়তা কেউ করেননি। ভুক্তভোগীরা রোদ-বৃষ্টিতে ভিজে মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

এ বিষয়ে জালালপুর ইউনিয়নর চেয়ারম্যান সুলতান মাহমুদ বলেন, আমি স্থানীয় ইউপি সদস্যদের নিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য দ্রুত সহযোগিতা চেয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানিয়েছি। কিন্তু এখনো কোনো বরাদ্দ পাইনি। পেলে ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে বিতরণ করা হবে।

এ বিষয়ে শাহজাদপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আবুল কালাম আজাদ বলেন, সরেজমিন এলাকা পরিদর্শন করে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এমআরআর/জেআইএম