যশোর শহরের নাজির শংকরপুর জিরো পয়েন্ট মোড়ে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছেন পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান বাবুল (৫৪)। সন্ত্রাসীরা তাকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করে। তিনি ওই এলাকার হাজী আফজাল হোসেনের ছেলে। সোমবার (৩০ মে) রাত ৮টার দিকে জিরো পয়েন্ট মোড়ে তার মাথায় কুড়ালের কোপ দিয়ে জখম করে সন্ত্রাসীরা। তাকে গুরুতর জখম অবস্থায় যশোর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
রোববার রাতে ঘটে যাওয়া আফজাল হত্যাকাণ্ডের জেরে কাউন্সিলর বাবুলের ওপর এই হামলা হয়েছে বলে স্থানীয়রা মনে করছেন। জিরো পয়েন্ট এলাকার লোকজন জানিয়েছেন, রোববার রাতে আফজাল হোসেন (২৮) নামে এক যুবক সন্ত্রাসী হামলায় নিহত হন। তার বাড়ি নাজির শংকরপুর চাতালের মোড়ে। স্থানটি পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের অন্তর্গত। সোমবার মাগরিবের নামাজের পর বেজপাড়ার কবরস্থানে নিহত আফজালের দাফন হয়। কাউন্সিলরসহ এলাকার লোকজন দাফন শেষে হেঁটে জিরো পয়েন্টের দিকে যাচ্ছিলেন। জিরো পয়েন্টের কাছাকাছি পৌঁছালে পেছন থেকে এক যুবক একটি কুড়াল দিয়ে কাউন্সিলর বাবুলের মাথার পেছনে কোপ মেরে দৌড়ে পালিয়ে যায়।
সে সময় চিৎকার শুনে আশেপাশের লোকজন রক্তাক্ত কাউন্সিলরকে একটি রিকশায় করে দ্রুত যশোর জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যায়। তার অবস্থা আশংকাজনক বলে হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। কাউন্সিলর বাবুল সন্ত্রাসী হামলার শিকার হওয়ার পর হাসপাতালে যান পৌরসভার ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর জাহিদ হোসেন মিলন। তিনি জানিয়েছেন, কাউন্সিলর বাবুল যশোর শহর আওয়ামী লীগের সহসাংগঠনিক সম্পাদক।
এ বিষয়ে যশোর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, জিরো পয়েন্টের মোড়ে কে বা কারা কাউন্সিলর অ্যাডভোকেট আসাদুজ্জামান বাবুলের মাথায় কোপ মেরে পালিয়ে গেছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে রয়েছে। আসামি আটকের চেষ্টা চালাচ্ছে।
নাজির শংকরপুর এলাকার লোকজন জানিয়েছে, রোববার আফজাল হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় জড়িত কোল্ডস্টোরেজ মোড়ের ট্যারা সুজনের মদদদাতা হিসেবে কাউন্সিলর বাবুলকে সন্দেহ করছে নিহতের পরিবারের লোকজন এবং তার সঙ্গীরা। তারা এই ঘটনার প্রতিশোধ নিতে কাউন্সিলর বাবুলের ওপর হামলা করতে পারে বলে ধারণা স্থানীয়দের।
মিলন রহমান/এফএ/জিকেএস