দেশজুড়ে

নোয়াখালীর ভোটকেন্দ্র লক্ষ্মীপুরে স্থাপনে উত্তেজনা, সংঘর্ষের শঙ্কা

নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার হরণী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) নির্বাচনের চারটি ভোটকেন্দ্র লক্ষ্মীপুরের রামগতির চরগাজী ইউনিয়নের স্থাপন নিয়ে বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছে লোকজন। এতে যে কোনো সময় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

তবে নির্বাচন নিয়ে কোনো সদুত্তর দিতে না পারলেও লক্ষ্মীপুর জেলা ও পুলিশ প্রশাসন বলছে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় তারা সতর্ক রয়েছে। ১৫ জুন হরণী ইউনিয়নে নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে।

এদিকে ভোটকেন্দ্র স্থাপনের প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার (২ জুন) দিনব্যাপী চরগাজী ইউনিয়নের মীর আদর্শ গ্রাম, তেগাছিয়া বাজার ও টাংকি বাজারে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল ও সংবাদ সম্মেলন করেছেন স্থানীয়রা। কর্মসূচিতে এসব এলাকার বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা অংশ নিয়েছেন। তাদের সাফ কথা, হরণীর ভোটকেন্দ্র কোনোভাবেই চরগাজীতে মেনে নেওয়া হবে না। প্রয়োজনে টানা গণআন্দোলন করা হবে।

ভোট কেন্দ্রগুলো হলো- চরগাজীর টাংকি বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মোহাম্মদপুর তেগাছিয়া বাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, মোল্লা গ্রাম নূরানি মাদরাসা ও ফরেস্ট সেন্টার প্রাথমিক বিদ্যালয়।

কেন্দ্র চারটি সরিয়ে নিতে চরগাজী ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান তাওহীদুল ইসলাম সুমন সম্প্রতি ঢাকায় নির্বাচন কমিশনের সচিবের কাছে লিখিত আবেদন করেন। কমিশনের নির্দেশনায় ২৬ মে নোয়াখালী নির্বাচন কর্মকর্তা মেজবাহ উদ্দিন সরেজমিন ভোট কেন্দ্র এলাকা পরিদর্শন করেছেন।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, মোহাম্মদপুর তেগাছিয়া বাজার ও টাংকি বাজারে লক্ষ্মীপুর জেলা পুলিশের তত্ত্বাবধানে দুটি ক্যাম্প রয়েছে। স্থিতাবস্থার পরও হরণী ইউনিয়নের ভোটকেন্দ্রগুলো স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেয়  নির্বাচন কমিশন। বিষয়টি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে চরগাজী ইউনিয়নের ভোট কেন্দ্রগুলো হরনী ইউনিয়ন এলাকায় সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।

চরগাজী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তাওহীদুল ইসলাম সুমন বলেন, ‘আমাদের ইউনিয়নে হরণীর বাসিন্দা নেই। ভোটকেন্দ্রগুলো সরিয়ে নেওয়ার জন্য বিভিন্ন দফতরে আবেদন করেছি। কিন্তু নেওয়া হচ্ছে না। কেন্দ্র সরিয়ে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে দ্রুত কার্যকরী সিদ্ধান্তের প্রত্যাশা করছি।’

রামগতি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আবদুল ওয়াহেদ বলেন, ‘একজেলার লোক অন্য জেলায় ভোট দিবে, এটা কীভাবে সম্ভব! বিরল ঘটনার প্রতিবাদে এলাকার লোকজন চরম ক্ষুব্ধ। বর্তমানে ভোটকেন্দ্র নিয়ে শান্তি-শৃঙ্খলা ভঙ্গের আশঙ্কা রয়েছে।’

নোয়াখালী জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মেজবাহ উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, ‘ভোট কেন্দ্রগুলো সরেজমিন পরিদর্শন করা হয়েছে। এ সময় সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলা হয়। ওই কেন্দ্রগুলো নিয়ে সরকারি গেজেটও রয়েছে। কেন্দ্রগুলো সরানো সম্ভব নয়।’

লক্ষ্মীপুর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অপরাধ) পলাশ কান্তি নাথ জাগো নিউজকে বলেন, ‘ভোটকেন্দ্রগুলো সরিয়ে নিতে স্থানীয়রা বিক্ষোভ করেছে শুনেছি। তাদের দাবি ছিল, হাতিয়ার ভোটকেন্দ্র যেন তাদের এলাকায় না হয়। এ নিয়ে যেন আইনশৃঙ্খলার অবনতি যেন না ঘটে সেদিকে আমাদের লক্ষ্য রয়েছে।’

লক্ষ্মীপুর জেলা প্রশাসক (ডিসি) আনোয়ার হোছাইন আকন্দ জাগো নিউজকে বলেন, চরগাজীর তিনটি বিদ্যালয়ে হরণীর ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে চিঠি দিয়েছি। ওই এলাকায় কোনো বিশৃঙ্খলা ও আইন-শৃঙ্খলার অবনতি যেন না হয় পুলিশ প্রশাসনসহ আমরা সতর্ক রয়েছি। সীমানা বিরোধ দ্রুত সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট দফতরে আমরা চিঠি পাঠিয়েছি।’

নির্বাচন নিয়ে ডিসি বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে নোয়াখালীর সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাই বলতে পারবেন। স্থানীয়রা নির্বাচন হতে দেবে না, এ ধরনের কোনো পরিস্থিতি আমাদের জানা নেই। তবে আমরা সতর্ক রয়েছি।’

রামগতির চরগাজী ইউনিয়নের তিনটি মৌজা নিয়ে নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার সঙ্গে সীমানা বিরোধ রয়েছে। এ নিয়ে লক্ষ্মীপুর সাব জজ আদালতে মামলা চলমান। মামলাটি নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত বিরোধীয় এলাকায় স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আদেশ দেন আদালত। কিন্তু ১৫ জুন হাতিয়ার হরণী ইউপি নির্বাচনের চারটি ভোট কেন্দ্র চরগাজীতে স্থাপন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

কাজল কায়েস/এসজে/জিকেএস