লক্ষ্মীপুরে সড়ক দুর্ঘটনায় ছয়দিনে সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। সবশেষ শুক্রবার (৩ জুন) পিকআপের চাপায় একজন বাইসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হন আরও সাতজন।
নিহত ব্যক্তিদের মধ্যে রামগতি উপজেলার চারজন রয়েছেন। দুর্ঘটনারোধে সচেতনতা সৃষ্টি ও ট্রাফিক আইন মেনে চলার তাগিদ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শুক্রবার বেলা ১১টার দিকে সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর-রামগঞ্জ সড়কের জামিরতলী এলাকায় দ্রুতগতির পিকআপের চাপায় আবু তাহের (৫৮) নামের এক বাইসাইকেল আরোহী নিহত হন। এ সময় নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশে পিকআপটি উল্টে পড়ে আরও সাতজন আহত হন।
নিহত তাহের সদর উপজেলার উত্তর হামছাদী ইউনিয়নের মির্জাপুর হাসন্দি গ্রামের বাসিন্দা। আহতরা পিকআপের শ্রমিক।
এর আগে বৃহস্পতিবার (২ জুন) সকালে রামগতিতে মাছবাহী একটি পিকআপ নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে গাছের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। এতে দুই জেলের মৃত্যু হয়। তারা হলেন বেলাল হোসেন (৪০) ও গিয়াস উদ্দিন (৩৮)। আলেকজান্ডার-সোনাপুর সড়কের উপজেলার আজাদনগর এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় আরও তিনজন আহত হয়েছেন।
বুধবার (১ জুন) সন্ধ্যায় লক্ষ্মীপুর সদরের মজু চৌধুরীহাট সড়কের কাচারিবাড়ী এলাকায় মালবাহী ট্রাকচাপায় আবদুর রহমান (৪৫) নামের এক ব্যবসায়ীর মৃত্যু হয়। তিনি মোটরসাইকেলে করে যাচ্ছিলেন।
সদর মডেল থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. আবুল বাশার জানিয়েছেন, ট্রাকটি পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। পালিয়ে যাওয়ায় চালককে আটক করা সম্ভব হয়নি।
ওইদিন সকালে লক্ষ্মীপুর সড়ক ও জনপদ বিভাগের কার্যালয়ের সামনে অটোরিকশা উল্টে চালক জোহাম মাহমুদের (১৫) মৃত্যু হয়। সড়কের ওপর শ্রমিকের হাতে থাকা লোহার বস্তুর সঙ্গে ধাক্কা লেগে অটোরিকশাটি উল্টে যায়। এতে মাথায় আঘাত পান জোহাম।
রোববার (২৯ মে) রাতে রামগতি উপজেলার উপজেলার চরগাজী ইউনিয়নের করলা বাজার এলাকায় পিকআপ ও মোটরসাইকেলের মুখোমুখি সংঘর্ষে দুই ব্যক্তি নিহত হয়েছেন। তারা হলেন মো. রায়হান (৩২) ও বাবুল মাঝি (৪০)।
আহত মোটরসাইকেলের আরেক যাত্রীকে নোয়াখালী হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রামগতি থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা ইলিশভর্তি পিকআপটি ঘটনাস্থল পৌঁছালে মোটরসাইকেলের সঙ্গে মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
স্কুলশিক্ষক দেলোয়ার হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, ‘অনেক সময় গাড়ি চালানো অবস্থায় চালকরা মোবাইল ফোনে কথা বলেন। তারা ট্রাফিক সংকেত বোঝেন না। অনেকে আবার সংসারের টানাপড়েন-কিস্তির টাকার টেনশনে থাকেন। এসব কারণে বেশি দুর্ঘটনা ঘটে। রাস্তা পারাপারের সময়ও দুর্ঘটনা ঘটছে।’
লক্ষ্মীপুর নিরাপদ সড়ক চাই আন্দোলনের সভাপতি কার্তিক সেনগুপ্ত বলেন, সম্প্রতি লক্ষ্মীপুরে সড়ক দুর্ঘটনা বেড়ে গেছে। দুর্ঘটনারোধে আমরা মালিক-চালকদের নিয়ে সচেতনতামূলক সভা, নাটক প্রচার ও লিফলেট বিতরণ করেছি। তিনি বলেন, রাস্তায় বের হয়ে ইচ্ছামতো চলাচল করলে হবে না, সবাইকে ট্রাফিক আইন মেনে চলতে হবে।
এ বিষয়ে লক্ষ্মীপুর ট্রাফিক পুলিশ পরিদর্শক (প্রশাসন) প্রবীর কুমার দাস জাগো নিউজকে বলেন, ‘চালকরা সচেতন না। তারা ট্রাফিক আইনকানুনও বোঝেন না। চালকদের সচেতন করতে আমরা মাঠে কাজ করছি।
কাজল কায়েস/এসআর/এএসএম