কয়েক দিনের ভারি বর্ষণ ও ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় সৃষ্ট বন্যা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। বন্যায় গো-খাদ্যের চরম সংকট দেখা দিয়েছে। পানি বন্দি রয়েছে উপজেলার রৌমারী সদর, শৌলমারী, দাঁতভাঙ্গা ও যাদুর চর ইউনিয়নের ৫০ হাজার মানুষ।
এদিকে, বন্যায় রাস্তা-ঘাট তলিয়ে যাওয়ায় নৌকা ও ভেলায় করে চলাচল করছে এসব এলাকার মানুষ। অনেকেই কলাগাছের অভাবে প্লাস্টিকের ড্রাম দিয়ে ভেলা বানিয়ে বিভিন্ন গন্তব্যে যাতায়াত করছেন। বন্যায় নিমজ্জিত রয়েছে ৯৩৫ হেক্টর জমির ধান, ৯০৩ হেক্টর জমির পাট, ৭৮ হেক্টর জমির তিল ও ১৪৭ হেক্টর জমির শাকসবজী ক্ষেত।
কোমরভাঙ্গি নয়াপাড়া গ্রামের কৃষক নুর হোসেন বলেন, পাঁচ বিঘা জমিতে ধানচাষ করেছিলাম। টানা বৃষ্টিতে সেই ধান তলিয়ে যায়। পরে পরিবারের সাবাই মিলে সেই ধান পানির নীচ থেকে কেটে এনেছি। ভেবেছিলাম পর্যাপ্ত ধান না পেলেও অন্তত বাড়ির সাতটি গরুর খাদ্যের জন্য খড়ের ব্যবস্থা হবে। তবে সেই খড় শুকোনোর আগেই বন্যায় তলিয়ে গেল। এখন গরুকে কি খাইয়ে বাঁচিয়ে রাখব?
যাদুরচর ইউনিয়নের কোমরভাঙ্গি নয়াপাড়া এলাকার শহর আলী বলেন, গরু বিক্রির টাকায় তিন একর জমিতে পাটের চাষ করেছিলাম। ভেবেছিলাম পাট বিক্রি করে লাভের টাকায় পুনরায় গরু কিনবো। কিন্তু গরুও শেষ, পাটও বন্যায় তলিয়ে গেছে।
যাদুর চর ইউপি চেয়ারম্যান সরবেশ আলী বলেন, খেওয়ার চর, আলগার চরসহ বেশ কিছু নীচু এলাকায় টিউবওয়েল পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে। চারণ ভূমি ও শুকাতে দেয়া খড় তলিয়ে যাওয়ায় গো খাদ্যের চরম সংকট দেখা দিয়েছে। পানিবন্দি অনেকে কাজকর্ম করতে না পারায় খাদ্য সংকটেও ভুগছে। এখন পর্যন্ত কোনো ত্রাণ সহায়তা জোটেনি।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাউয়ুম চৌধুরী বলেন, বন্যায় মোট দুই হাজার ৬৩ হেক্টর জমির ফসল আংশিক নিমজ্জিত রয়েছে। এর মধ্যে ৯৩৫ হেক্টর জমির আউশ, ৯০৩ হেক্টর জমির পাট, ৭৮ হেক্টর জমির তিল ও ১৪৭ হেক্টর জমির সবজি রয়েছে। পানি স্থায়ী হলে এসব ফসল নষ্ট হয়ে যাবে।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আজিজুর রহমান বলেন, আগামী ৪-৫ দিনের মধ্যে পানি নেমে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। বন্যা দুর্গতদের জন্য প্রাথমিকভাবে ১৫০০ প্যাকেট শুকনো খাবার প্রস্তুত করা হয়েছে। প্রয়োজন তা আরও বাড়ানো হবে।
রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশরাফুল আলম রাসেল বলেন, বন্যার্তদের জন্য তিন লাখ টাকা বরাদ্দ রয়েছে। শুকনো খাবারের প্যাকেট প্রস্তুত করা হচ্ছে।
মাসুদ রানা/এএইচ/এএসএম