দেশজুড়ে

জ্যৈষ্ঠ বিদায় নিলেও দিনাজপুরে রয়েছে তালশাঁসের কদর

মধু মাস জ্যৈষ্ঠ বিদায় নিয়েছে। শুরু হয়েছে আষাঢ়। তবে রেশ কাটেনি মধু মাসের। বাজারে গেলে এখনো দেখা দেলে আম, লিচু ও কাঁঠালসহ বিভিন্ন মৌসুমি ফলের। এরমধ্যে কদর বেড়েছে তালশাঁসেরও। যা স্থানীয়দের মধ্যে ‘তালকুট’ নামেও পরিচিত।

দিনাজপুর শহরের বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি হচ্ছে এ তালশাঁস। বৃষ্টি আর ভ্যাপসা গরমে জেলা শহরে বেড়েছে এর চাহিদা। স্থানভেদে বিক্রি হচ্ছে তিন পিস তালশাঁস ১৫ থেকে ২০ টাকা দরে। ব্যবসায়ীরা বলছেন, একটি তালে সাধারণত দু-তিনটি শাঁস থাকে। ব্যবসায়ীদের দাবী, আম-লিচুতে বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করা হলেও, তালশাঁসে এসব ব্যবহার হয় না। তাই এটি খাদ্য হিসেবে নিরাপদ বলে দাবি ব্যবসায়ীদের।

তবে গবেষকরা বলছেন, যেসব বিক্রেতা তাল কেটে শাঁস দিয়ে পরসা সাজান, তারা তালের শাঁসের রঙ ঠিক রাখতে ব্যবহার করেন রাসায়নিক দ্রব্য। মাত্রাতিরিক্ত রাসায়নিক দ্রব্য স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়। এক্ষেত্রে সরাসরি তাল কেটে শাঁস কেনার পরামর্শ গবেষকদের।

নিউটাউন এলাকার সাব্বির নামে এক শিক্ষার্থী জানায়, ‘আমি যখন স্কুল থেকে বাড়ি ফিরছি, তখন দেখলাম এখানে তালশাঁস বিক্রি করছে। টাকা না থাকায় তখন খেতে পারিনি। এখন বাড়ি থেকে টাকা নিয়ে এসে কিনে খাচ্ছি। দামটা একটু বেশি এবছর।’

মহসীন আলী নামে এক ব্যক্তি বলেন, ‘তালশাঁসের তেমন কোনো স্বাদ আমি পাই না। তবে বাড়ির ছেলে-মেয়েরা খেতে খুবই আগ্রহী। তাই মাঝে মধ্যে কিনে খাই। আগে তো যখন গ্রামের বাড়ি থাকতাম, তখন পাকা তাল খাওয়ার ধুমটাই ছিল বেশি। এখন কাঁচা শাঁস খাওয়ার কদর বেশি।’

মকছেদ আলী নামে এক ব্যক্তি বলেন, ‘আমি তালশাঁস কিনতে এসেছি। এবার দামটা একটু চড়া। শুনেছি পানি শূন্যতায় তালশাঁস খুবই উপকারী। ৪০ টাকায় বাড়ির জন্য ছয়টি তালশাঁস কিনলাম।’

রাজন নামে এক তালশাঁস বিক্রেতা বলেন, ‘মহাজন মাগুরা থেকে ডাবের সঙ্গে তাল কিনে এনেছেন। আমরা বিক্রি করছি একটি তাল ১৫ থেকে ২০ টাকায়। সারাদিনে তাল বিক্রি হয় ৫০০ থেকে ১০০ টাকা পর্যন্ত। এর মধ্যে আমাকে কিছু দেয়। এখন তালশাঁসের চাহিদা বাজারে ভালো থাকায় বিক্রিও বেড়েছে।’

আনিসুর রহমান নামের আরেক বিক্রেতা বলেন, ‘তালের ব্যবসা করছি ঠিকিই। এ ব্যবসায় করতে গেলে একটু কষ্ট হয়ে যায়। গাছ থেকে পাড়া, তারপরে পরিবহন খরচ আছে, গাছের দাম দিতে হয়। সব মিলিয়ে লাভ কম হয়।’

ডায়াবেটিকস ও স্বাস্থ্যসেবা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডা. ডিসি রায় জাগো নিউজকে বলেন, তালশাঁসে পানির পরিমাণ বেশি থাকায় আমাদের শরীর থেকে ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতা দূর করতে সাহায্য করে। তালশাঁসে প্রচুর অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট রয়েছে যা আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। তালশাঁসে রয়েছে ক্যালসিয়াম যা দাঁতের সুরক্ষায় কাজ করে এবং ক্ষয়রোধ করে। কচি তালশাঁস রক্তস্বল্পতা দূর করতে সাহায্য করে। এতে আয়রন রয়েছে যা মেয়েদের ক্ষেত্রে খুবই উপকারী। অ্যানিমিয়া রোগীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। একই সঙ্গে খাওয়ার রুচিও বাড়ায়।’

দিনাজপুর হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফুড প্রসেসিং অ্যান্ড প্রিজারভেশন অনুষদের চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. মারুফ আহম্মেদ জাগো নিউজকে বলেন, তালশাঁস অনেক উপকারী একটি খাবার। এতে প্রচুর পরিমাণ নিউট্রেশন রয়েছে। মিনারেলও রয়েছে। পাশাপাশি ভিটামিন বি কমপ্লেক্সের একটি ভালো উৎস। অনেক ব্যবসায়ী আছেন তালশাঁস কেটে দোকানে সাজিয়ে রাখেন, সে ক্ষেত্রে শাঁসের রং ঠিক রাখতে রাসায়নিক দ্রব্য ব্যবহার করতে পারেন। এ রাসায়নিক দ্রব্য মাত্রাতিরিক্ত ব্যবহার করলে মানুষের শারীরিক ক্ষতি হতে পারে। তাই ক্রেতাদের সচেতন থাকতে হবে

এমদাদুল হক মিলন/এসজে/এএসএম