আলাল উদ্দিন এবার ১৫০ শতক জমিতে বোরো আবাদ করেছিলেন। ধান যখন পাকতে শুরু হয়, তখন আকস্মিক বন্যায় তলিয়ে যেতে থাকে। শ্রমিক না পাওয়ায় দুই ছেলেকে নিয়ে দ্রুত ধান কাটতে থাকেন। তবে অর্ধেক ক্ষেতের ধানই পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় আর ঘরে তোলা সম্ভব হয়নি।
সেটা গত মে মাসের প্রথম দিকের কথা। কিন্তু যে ধান ও খড় শুকিয়ে ঘরে তুলেছিলেন এবারের বন্যায় সেটাও শেষ হয়ে গেলো। ছয়দিন ধরে তার ঘরের মাচার ধান ও পুঞ্জির খড় পানিতে ডুবে ছিল। তবু হাল ছাড়েননি নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার নিশ্চিন্তপুর গ্রামের ওই কৃষক।
শনিবার বিকেলে গিয়ে দেখা গেলো আলাল উদ্দিন স্ত্রী সন্তানদের নিয়ে বাড়ির সামনে কলমাকান্দা-ঠাকুরাকোনা সড়কের নিশ্চিন্তপুর এলাকায় পচা ধান ও খড় রোদে শুকাচ্ছেন। কিন্তু পানিতে ডুবে থাকার ফলে সিদ্ধ ধানগুলো পচে দুর্গন্ধ ছাড়চ্ছে। ধানের খড়ও পচে গেছে। আলাল উদ্দিন জাগো নিউজকে বলেন, ‘এই ধান দিয়াই আমার দুই ছেলের স্কুলের খরচসহ সারা বছরের সংসার খরচ চলে। এবারের বন্যায় আমার সব শেষ। গত মাসের পানিতে ক্ষেতের অর্ধেক ধানই ডুইব্বা পইচা গেছে। আর যে ধান কাইট্টা শুকাইয়া ঘরে তুলছিলাম, এক সপ্তাহ ঘরের ভেতর পানির নিচে থাইক্কা তাও গেছে। অহন এই পচা ধান, খেড় আর দুইডা গরু ছাড়া কিছুই নাই। সব নষ্ট হইয়া গেছে। অহন কী খাইয়া বাঁচবাম? বন্যার পানিতে দুইডা ছাগল, হাঁস-মুরগি ভাইসা গেছে। ঘরের থালবাসনডি খালি আছে আর সব শেষ।’
আলাল উদ্দিনের স্ত্রী ছালেমা খাতুন জাগো নিউজকে বলেন, ‘এই পচা ধানই আমরার সম্বল। আইজ বালা রইদ উঠছে। বাড়িতে অহনো পানি থাহনে রাস্তায় আইন্না তা শুকাইতাছি। এই পচাগলা ধান থাইক্কা যদি কিছু চাউল বাইর হয় তাই খাওন লাগবো।’
এদিকে নেত্রকোনায় সবগুলো নদনদীর পানি কমতে শুরু করেছে। জেলার দশ উপজেলার ৭৩টি ইউনিয়নে ৫ লাখ ৫৪ হাজার মানুষ বন্যার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানি কমতে শুরু করায় ধীরে ধীরে আশ্রয়কেন্দ্র ছাড়তে শুরু করেছে বানভাসিরা।
নেত্রকোনার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহনলাল সৈকত জানিয়েছেন, জেলার ছোটবড় সবগুলো নদ-নদীর পানি কমতে শুরু করছে। তবে উব্দাখালি নদীর কলমাকান্দা পয়েন্টে বিপৎসীমার ৪০ সেন্টিমিটার ও ধনু নদের খালিয়াজুরি পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
নেত্রকোনা জেলা প্রশাসন থেকে ৫১২ মেট্রিক টন চাল ও ২৭ লাখ টাকাসহ ৫ হাজার ৬০০ প্যাকেট শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে।
এইচ এম কামাল/এফএ/এমএস