অর্থনীতি

কালো নয়, অপ্রদর্শিত অর্থের বিনিয়োগ চান আবাসন ব্যবসায়ীরা

প্রস্তাবিত বাজেটে কালো টাকা সাদা করা কিংবা অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের কোনো সুযোগ রাখা হয়নি। সুযোগ ছিল না গত অর্থবছরও। ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন ফেডারেশন অব বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফবিসিসিআই) থেকেও অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগ নিয়ে কোনো প্রস্তাব দেয়া হয়নি। তবে সরকার সিদ্ধান্ত নিলে এফবিসিসিআই কোনো আপত্তি করবে না বলে জানিয়েছে সংগঠনটি। আর আবাসন ব্যবসায়ীরা বলছেন, তারা কালো টাকা নয়, অপ্রদর্শিত অর্থের বিনিয়োগ চান। এতে দেশের অর্থনীতির পাশাপাশি রাজস্বের মাধ্যমে সরকারও লাভবান হবে।

Advertisement

আবাসনখাতের ব্যবসায়ীরা বলছেন, বিনা প্রশ্নে অপ্রদর্শিত অর্থের বিনিয়োগের সুযোগ থাকলে সরকার বড় অংকের রাজস্ব পাবে। একই সঙ্গে দেশের কর্মসংস্থান তৈরি হবে, কমবে বেকারত্ব। আর বিনিয়োগের সুযোগ না পেলে এসব অর্থ দেশের বাইরে পাচারের আশঙ্কা থাকে। অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ দিতে হবে, কালো টাকা নয়।

আবাসন ব্যবসায়ীদের আশা, সার্বিক দিক বিবেচনায় নিয়ে ৩০ জুনের চূড়ান্ত বাজেটে অপ্রদর্শিত বিনিয়োগের এ সুযোগ দেবে সরকার।

জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে তাহলে কালো টাকা কী, কেন এটার বিনিয়োগ চান না আবাসন ব্যবসায়ীরা। কেনইবা তারা অপ্রদর্শিত অর্থের বিনিয়োগ চাইছেন। নাকি দুটোই এক।

Advertisement

এ বিষয়ে কথা হয় রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (রিহ্যাব) সহ-সভাপতি (প্রথম) কামাল মাহমুদের সঙ্গে। তিনি জাগো নিউজকে বলেন, আমরা সব সময় বলে এসেছি কালো টাকা নয়, অপ্রদর্শিত টাকার বিনিয়োগের বিষয়ে। কালো টাকা আর অপ্রদর্শিত অর্থ এক নয়। বৈধভাবে আয় করা অর্থ, কিন্তু ট্যাক্স-ভ্যাট না দেওয়ায় প্রদর্শিত হচ্ছে না— এটা অপ্রদর্শিত অর্থ। এটার বিনিয়োগ চাই আবাসনখাতে। এ টাকা বিনিয়োগ না হলে পাচার হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আর কালো টাকা হলো সম্পূর্ণ অবৈধ উপায়ে আয় করা, সেটার বিষয়ে আমরা কথা বলি না।

অপ্রদর্শিত অর্থের বিনিয়োগ হলে সরকারের কী লাভ হবে এমন প্রশ্নের জবাবে কামাল মাহমুদ বলেন, ২০২০-২১ অর্থবছরে বিনা প্রশ্নে বিনিয়োগের সুযোগ থাকায় সেসময় ২০ হাজার ৬০০ কোটি টাকা অর্থনীতিতে যোগ হয়েছিল। যেখানে সরকার ২ হাজার কোটি টাকার বেশি রাজস্ব পেয়েছিল। চাঙা হয়েছিল আবাসন ব্যবসা। গত অর্থবছর সেই সুযোগ দেওয়া হয়নি, এবারও (প্রস্তাবিত) রাখা হয়নি এ সুযোগ। এতে সরকার রাজস্ব হারাবে।

খাত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, অন্তত দু-তিন বছরের জন্য অপ্রদর্শিত টাকা আবাসনখাতে বিনিয়োগের সুযোগ দিতে হবে। এতে মন্দাভাবের আবাসনখাতে বিনিয়োগ আসবে, ঘুরে দাঁড়াবে ব্যবসা, বেকার জনগোষ্ঠীর নতুন কর্মসংস্থানও তৈরি হবে। নির্মাণশিল্প থেকে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব পাবে সরকার, অর্থনীতিও হবে গতিশীল।

এফবিসিসিআই সভাপতি মো. জসিম উদ্দিন বলেন, কালো টাকার বিষয়ে সরকার এখনো কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি, এটার পক্ষে-বিপক্ষে মতামত আছে। তবে ‘অপ্রদর্শিত অর্থ’ অর্থনৈতিক পরিকাঠামোর মধ্যেই রয়েছে। ন্যূনতম কোনো একটি খাতে সরকার এ অর্থ বিনিয়োগে সুযোগ দিলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।

Advertisement

এ বিষয়ে রিহ্যাব সভাপতি আলমগীর শামসুল আলামিন বলেন, আমরা সব সময় আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। কোনো অবৈধ কাজ সমর্থন করি না। আমরা কালো টাকা বিনিয়োগের কথা আনছি না। অপ্রদর্শিত অর্থের কথা বলছি। গত বছরের অপ্রদর্শিত অর্থের বিনা প্রশ্নে বিনিয়োগের সুযোগ না থাকায় সেসব অর্থ পাচার হতে পারে। বিনাপ্রশ্নে অপ্রদর্শিত অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ দিলে প্রতি বছর ৫০ হাজার টাকা করে বিনিয়োগ বাড়বে আবাসনখাতে। এতে দেশ থেকে কোনো টাকা পাচার হবে না, বড় অংকের রাজস্ব আসবে সরকারের কোষাগারে।

সম্প্রতি রাজধানীর একটি হোটেলে সংবাদ সম্মেলন করে রিহ্যাব জানিয়েছিল, ‘আমাদের বেসরকারি উদ্যোক্তাদের একান্ত প্রচেষ্টায় গড়ে ওঠা এ খাত সম্প্রতি নানাবিধ প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন। উদীয়মান এ খাতে নানা করারোপ ও সরকারের নীতিসহায়তার অভাবে ক্রমে ঝুঁকির মুখে পতিত হয়েছে। কোভিড মহামারির ধাক্কা, নির্মাণসামগ্রীর মূল্যবৃদ্ধি, মানুষের সামর্থ্যের মধ্যে মাসিক কিস্তি সুবিধা দেওয়ার মতো এ খাতে পর্যাপ্ত আর্থিক ঋণপ্রবাহ না থাকায় অনেকের বাসস্থানের স্বপ্নপূরণ হচ্ছে না। নতুন করে যুক্ত করার চেষ্টা চলছে ভবন নির্মাণে সিটি করপোরেশনের অনাপত্তি সনদ। এরই মধ্যে ঢাকার এক কাউন্সিলর নোটিশ দিয়েছেন তার অনুমতি ছাড়া ভবন নির্মাণ করা যাবে না। আমরা কয়টা কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সনদ নেবো? একের পর এক সমস্যা এ শিল্পকে সংকটে ঠেলে দিচ্ছে। এ অবস্থায় সরকারের আশু পৃষ্ঠপোষকতা ছাড়া এ সংকট উত্তরণ অসম্ভব। নির্মাণসামগ্রীর দাম বাড়ানোসহ নানা কারণে পুরো গৃহায়ণ খাতে বিক্রির পরিমাণ কমেছে। এ মুহূর্তে যদি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তবে দেশের অর্থনীতিতে এর বিরূপ প্রভাব পড়বে।’

ইএআর/এমএএইচ/এএসএ/এমএস