দিনাজপুরের হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (হাবিপ্রবি) চারটি হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে রাতভর ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে অর্ধ শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। তারা বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্রে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুন) সন্ধ্যার পর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত থেমে থেমে সংঘর্ষের এ ঘটনা ঘটে। পরে ক্যাম্পাসের পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে।
আহতদের মধ্যে ১৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী আনজারুল ইসলামকে আহত অবস্থায় দিনাজপুরের এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তার পেটে ছুরিকাঘাত করা হয়েছে।
এসময় বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি, প্রধানমন্ত্রীর ছবিসহ জাতীয় নেতাদের ছবি ভাঙচুর করা হয়েছে।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষ ও ভাঙচুরের ঘটনায় পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি গঠন করা করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, পূর্বের কোনো এক ঘটনার জেরে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ডরমেটরি-২ হলের ১৯ ব্যাচের শিক্ষার্থী আনজারুল ইসলামকে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের ৮-১০ জন শিক্ষার্থী মারধরসহ ছুরিকাঘাত করেন। এতে ওই শিক্ষার্থী গুরুত্বর আহত হলে তাকে দিনাজপুরের এম. আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ঘটনা জানাজানি হলে রাতেই ৮-১০ জন শিক্ষার্থী শেখ রাসেল হলে আশ্রয় নেন। এ সময় ডরমেটরি-২ হলের শিক্ষার্থীরা উত্তেজিত হয়ে শেখ রাসেল হলে গিয়ে হামলা চালায়। এতে উভয় হলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়।
খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ঘটনাস্থলে গিয়ে শিক্ষার্থীদের শান্ত করেন বিষয়টি মীমাংসা করে দেয়। এসময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের এক শিক্ষার্থী ডরমেটরি-২ এর সামনে দিয়ে যাওয়ার সময় সেখানকার শিক্ষার্থীরা তাকে থাপ্পড় দেন। পরে শেখ রাসেল হল ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের শিক্ষার্থীরা লাঠিসোটা নিয়ে ডরমেটরি-২ আবাসিক হলের ভিতরে প্রবেশ করে ধাওয়া দিয়ে ভাঙচুর চালায়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসন ক্যাম্পাসে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর প্রফেসর ড. মামুনুর রশিদ বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ ও সার্বিক তথ্য বিশ্লেষণ করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় চিকিৎসা কেন্দ্রের কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. জসীম উদ্দিন বলেন, রাতে আহত প্রায় ৪০ জন ছাত্র প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছে। সকালে আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। এদের মধ্যে ৫-৬ জনকে দিনাজপুরের এম আব্দুর রহিম মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।
এমদাদুল হক মিলন/আরএইচ/এএসএম