প্রবাস

মিশরে কোরবানির পশু বেচাকেনার হালচাল

আর কয়েক দিন পরই ঈদুল আজহা, ঈদ যত ঘনিয়ে আসছে মিশরে ততই জনপ্রিয় হয়ে উঠছে কোরবানির পশু বেচাকেনা। মিশরে কোরবানির পশু বিক্রির আলাদা হাট নেই। তবে বড় বড় রাস্তার পাশে, মহল্লার অলিতে গলি, কিংবা কসাইদের দোকানের পাশে বিক্রি করা হয় কোরবানির পশু।

Advertisement

রাজধানী কায়রোসহ অন্যান্য শহর বা গ্রামের বাসা বাড়ির ছাদে অনেকেই পশু পালন করে মিশরে। পরিবারের জন্য দুই একটি রেখে অন্যগুলো বিক্রি করে দেন কোরবানি ঈদে। নীলনদের দক্ষিণ পাড়ে গিজা শহরে আল-মানশি নামের একটি পশুর হাট রয়েছে। অনেকে সেখান থেকেও পশু কেনেন।

মিশরে সব পশু ওজনে বিক্রি করা হয়। এদেশে দুম্বা ও উট কোরবানিতে জনপ্রিয় হলেও গরু, মহিষ, ছাগল (পাঠা) ও অনেকেই কোরবানি করে থাকেন। এছাড়া ও জিলহজ মাসের চাঁদ উঠার পর পরেই অনেক বিত্তবানেরা মাংস কিনে গরিবদের মাঝে বিলিয়ে দিতে দেখা যায়।

তাই বিভিন্ন বাজার কসাইদের দোকান এমনকি সুপারশপগুলোতেও বছরের অন্য সময়ের চেয়ে প্রচুর পরিমাণ বেশি মাংস বিক্রি হয়।মিশরে বাংলাদেশর মতো কোরবানির পশু কেনা নিয়ে প্রতিযোগিতা নেই। অনেক মিশরীয়রা কসাইয়ের দোকান থেকে মাংস কিনে সেখানেই ছোট ছোট পুটলা বানিয়ে ব্যাগে ভরে গাড়ি নিয়ে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়ান।

Advertisement

যখনই কোনো শ্রমিক, রাস্তা ঝাড়ুদার, গরিব এমনকি কর্তব্যরত সাধারণ পুলিশ কিংবা নিরাপত্তার কাজে কর্মরত লোক দেখেন, তখনই গাড়ি থামিয়ে তাদের হাতে ধরিয়ে দেন মাংসের ব্যাগ বা পুটলা।

মিশরে ঈদের জামাত শেষ হওয়ার পর থেকে তিনদিন পর্যন্ত কোরবানি করে থাকেন মুসলমানেরা। বিভিন্ন মসজিদে দেখা যায় কোনো ধনাট্য ব্যক্তি বা সংগঠনের পক্ষ থেকে তিনদিন যাবতেই একের পর এক কোরবানি করে গরিবদের মাঝে মাংস বিলিয়ে দিতে।

সাধারণত কোরবানি ঈদের আগে মিশর সরকার পশু বেচাকেনার দাম নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। তবে মহল্লার অলিগলিতে এসবের তোয়াক্কা না করেই কিছু কম বা বেশি দামে বিক্রি করে পশু।

গতকাল রাজধানী কায়রোর বিভিন্ন রাস্তা ও মহল্লার পশু বিক্রির দোকানগুলো ঘুরে দেখা গেলো খারোফ (দুম্বা), মাকসী (ছাগল/ পাঠা) গেদ্দী (ছাগী), বিক্রি হচ্ছে যথাক্রমে ৮০ থেকে ৯০ গিনি/পাউন্ড কেজি। বাংলাদেশি টাকায় ৮০×৫= ৪০০ টাকা প্রতি কেজি।

Advertisement

আর জামাল (উট), বাকারা (গরু), গামুছা (মহিষ) বিক্রি হচ্ছে ৭০ থেকে ৮০ গিনি/পাউন্ড প্রতি কেজি। বাংলাদেশি টাকায় ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা প্রতি কেজি। একটি বড় দুম্বা ওজন করে দেখা গেলো তার ওজন হয়েছে ৯০ কেজি।

যার দাম পড়লো বাংলাদেশি টাকায় ৩৫ হাজার টাকার মতো। আরেকটি বড় খাশির ওজন হল ৫০ কেজি। বাংলাদেশি টাকায় দাম পড়লো ২২৫০০ টাকা। আগামী শনিবার ঈদুল আজহা পালন করবে মিশরসহ মধ্যপ্রাচ্যের মুসলমানেরা।

এমআরএম/জেআইএম