দেশজুড়ে

৬৭টি দুম্বার ৬৫টিই বিক্রি, খামারে সফল নারায়ণগঞ্জের বিল্লাল

করোনাকালীন চারদিকে তখন হতাশা। কোনো কর্ম নেই। মানুষ কর্ম হারিয়ে বেকার অবস্থায় দিনযাপন করছিলেন ঠিক সেই সময়ে বাণিজ্যিকভাবে গরু-ছাগলের খামার করে সফলতার মুখ দেখছেন মতিউর রহমান বিল্লাল নামের এক যুবক।

নারায়ণগঞ্জের আড়াইহাজার উপজেলার কুমারপাড়া এলাকায় আমিষ এগ্রো নামে তিনি খামার গড়ে তুলেছেন। তার খামারে গৃহপালিত অনেক পশু রয়েছে। তবে সবচেয়ে বেশি লাভবান হয়েছেন দুম্বা পালনে। যে কারণে আগের চেয়ে আরও বেশি দুম্বা পালন করতে চান খামারি মতিউর রহমান।

আড়াইহাজার কুমারপাড়া এলাকার ১০ বিঘা জমিতে মতিউর রহমান বিল্লালের তত্ত্বাবধানে এই খামার গড়ে উঠেছে। বিল্লাল ঢাকার সোনারগাঁ বিশ্ববিদ্যালয়ে মেকানিক্যাল বিষয়ে ২০১৮ সালে পড়াশোনা শেষ করেছেন। ছোটবেলায় তার পশুপাখির প্রতি আগ্রহ ছিল। তার একটা ভালোলাগা কাজ করতো। সেই ভালোলাগা থেকেই এই খামারে আসা।

প্রথমে ভারতের রাজস্থান থেকে টার্কি (তুরস্ক) জাতের ছয়টি দুম্বা এনে খামারের কাজ শুরু করেন মতিউর রহমান। দুই বছর ধরেই কোরবানি ঈদে তিনি দুম্বা বিক্রি করে আসছেন। এবারের ঈদে তিনি ৬৫টি দুম্বা বিক্রি করেছেন।

আমিষ এগ্রোর ব্যবস্থাপনা পরিচালক পদে থাকা মতিউর রহমান বিল্লাল জাগো নিউজকে বলেন, ‘করোনাকালীন যখন চাকরি ছিল না, তখন কয়েকজন উদ্যোক্তার প্রেরণায় বিকল্প কিছু করার চিন্তা থেকে আমি এই খামার গড়ে তুলি। বর্তমানে এই খামারের মালিকপক্ষের মধ্যে আমিও একজন মালিক হিসেবে রয়েছি। দিনরাত আমিই এখানে সময় দিয়ে থাকি। খামারের মাধ্যমে আমি অনেক সফল হয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘আমার এই খামারে বিভিন্ন রকমের পশু-পাখি রয়েছে। আমরা পরিকল্পনা করছিলাম দেশে চাহিদা আছে কিন্তু সেটা দেশে উৎপাদন হয় না এমন কিছু লালন-পালন। পরে দেখলাম দুম্বার চাহিদা আছে কিন্তু সেটা উৎপাদন হয় না। সেই পরিকল্পনা থেকেই খামারে দুম্বা আনা। দুম্বা পালনে অনেক লাভবান হওয়া যায়। আমার মনে হয় ঢাকা বিভাগে আমিই প্রথম দুম্বা পালন করছি। দুম্বা পালনে তেমন খাবারের প্রয়োজন হয় না। আমাদের এখানে পালন করা ছাগলের উচ্ছিষ্ট খাবার খায় দুম্বা।’

বাংলাদেশে দুম্বার প্রচুর চাহিদা রয়েছে বলে জানান মতিউর রহমান। চাহিদার তুলনায় দুম্বার জোগান বা উৎপাদন অনেক কম। দুই বছর ধরেই কোরবানি ঈদে দুম্বা বিক্রি করছেন তরুণ এ খামারি।

বর্তমানে আমিষ এগ্রোতে ৬৭টি দুম্বা রয়েছে। তার মধ্যে দুটি বাদে সবগুলোই বিক্রি হয়েছে। সর্বনিম্ন দেড় লাখ ও সর্বোচ্চ পাঁচ লাখ টাকায় দুম্বা বিক্রি হচ্ছে।

স্থানীয় যুবক মো. শরীফুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘আড়াইহাজারে এই প্রথমবারের মতো দুম্বা পালন করা হচ্ছে। তার (মতিউর রহমান) সফলতায় উৎসাহিত হয়ে আমিসহ এলাকার অনেকেই এখন দুম্বা খামার করার পরিকল্পনা করছি। দুম্বা পালনের মধ্যদিয়ে আমাদের যেমন বেকারত্ব দূর হবে তেমনি মাংস ও আমিষের চাহিদা পূরণ হবে।’

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. সজল দাস বলেন, ‘দুম্বার খামারটি আড়াইহাজার এলাকার জন্য আইকন। অনেকেই তাকে অনুসরণ করবেন। তার খামার দেখে তরুণদের মাঝে উদ্যোক্তা হওয়ার প্রবণতা আমাদের জন্য খুবই পজিটিভ দিক।’

নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বাসনা আখতার জাগো নিউজকে বলেন, ‘দুম্বা একটি সহনশীল প্রাণী। দুম্বা ছাগল ও ভেড়ার মতো লালন-পালন করা যায়। জন্ম নেওয়ার পর তিন থেকে চার বছরে পূর্ণবয়স্ক হয়। প্রাপ্ত বয়স্ক একটি দুম্বার ওজন ১০০-১২০ কেজি পর্যন্ত হয়। এদের মাংসে চর্বি কম থাকে এবং প্রোটিন ও ভিটামিন সির পরিমাণ বেশি থাকে। দুম্বার মাংস খেলে হৃদরোগ ঝুঁকির আশঙ্কা অনেক কম থাকে।’

তিনি আরও বলেন, বাণিজ্যিকভাবে দুম্বার খামার গড়ে তোলা এটা আমাদের জন্য সফলতা। পড়ালেখা শেষ করে একজন যুবক এ পেশায় এসেছেন। এটা অন্যদের জন্য অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করবে।

এসআর/জেআইএম