গাজীপুরের জয়দেবপুর রেল জংশনে ট্রেনের ইঞ্জিনে অবৈধভাবে যাত্রী তোলার প্রতিবাদ করায় চালককে মারধর করেছেন তিন আনসার সদস্য।
ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা চাঁপাইনবাবগঞ্জগামী একটি ট্রেনের চালক এই মারধরের শিকার হন।
শনিবার (৯ জুলাই) বিকেল সোয়া চারটার দিকে জয়দেবপুর রেল জংশনে এ ঘটনা ঘটে। পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপে দায়ী আনসার সদস্যদের বিচারের আশ্বাসে দেড় ঘণ্টা পর চালক ট্রেন নিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জের উদ্দেশে রওয়ানা দেন।
জয়দেবপুর জংশনে দায়িত্বরত রেলওয়ে পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো. শহিদুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছন। তিনি জানান, এ ঘটনায় তিন আনসার সদস্যকে প্রত্যাহার করে জেলা কার্যালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দুপুরে ঢাকার কমলাপুর স্টেশন থেকে ছেড়ে আসা চাঁপাইনবাবগঞ্জগামী মেইল ট্রেনটি জয়দেবপুর স্টেশনের তিন নম্বর লাইনে এসে দাঁড়ায়। এসময় ঈদ উপলক্ষে স্টেশনে দায়িত্ব পালন করতে আসা তিন আনসার সদস্য ট্রেনের ইঞ্জিনের মধ্যে যাত্রী তুলছিলেন। ট্রেনের চালক আক্তারুজ্জামান মামুন এর প্রতিবাদ করেন। এসময় আনসার সদস্যরা ট্রেনের চালকের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন। একপর্যায়ে আনসার সদস্যরা চালককে মারধর করেন। এ ঘটনার পর চালক তাদের বিচার দাবি করে ট্রেন চালানো থেকে বিরত থাকেন।
আক্তারুজ্জামান মামুন জানান, আনসার সদস্যরা যাত্রীদের কাছ থেকে টাকা নিয়ে অন্যায়ভাবে ট্রেনের ইঞ্জিনের মধ্যে যাত্রী তুলছিলেন। তিনি ইঞ্জিনের মধ্যে যাত্রী না তুলতে অনুরোধ করলে আনসার সদস্যরা তার সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন। একপর্যায়ে তাকে গালাগাল ও মারধর করা হয়।
এ ঘটনার বিচারের জন্য তিনি দেড় ঘণ্টা ট্রেন চালানো থেকে বিরত ছিলেন। রেলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও প্রশাসনের লোকজন ঘটনাস্থলে এসে বিচারের আশ্বাস দিলে তিনি বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটে ট্রেন নিয়ে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওয়ানা দেন।
এ বিষয়ে সদর সার্কেল অ্যাডজুটেন্ট গণেশ যাদব বলেন, আনসার সদস্য ও ট্রেনের চালকের মধ্যে একটি ভুলবোঝাবুঝি হয়েছিল। আমরা আনসারের ওই তিন সদস্যকে দায়িত্ব থেকে প্রত্যাহার করে জেলা কার্যালয়ে নিয়ে এসেছি। তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মো. আমিনুল ইসলাম/এমআরআর/এএসএম