দেশজুড়ে

ঈদে ঘুরে আসতে পারেন সোনারগাঁয়ের দর্শনীয় স্থানগুলো

ঈদ মানেই আনন্দ, ঈদ মানেই খুশি। ঈদের সে আনন্দ পরিবারের সঙ্গে ভাগাভাগি করতে ছুটিতে বাড়িতে অবস্থান করছেন বেশিরভাগ মানুষ। ফলে অনেকটাই ফাঁকা প্রাচীন বাংলার রাজধানী নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁ। এরপরও এখানকার স্থায়ী বাসিন্দাসহ যারা রাজধানীতে অবস্থান করা মানুষ চাইলে ঈদের দিন পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরে আসতে পারেন সোনারগাঁয়ের জাদুঘর, বাংলার তাজমহল ও পানাম নগরী।

এক সময়ের প্রাচীন বাংলার রাজধানী সোনারগাঁয়ের এসব দর্শনীয় স্থান মানুষকে আকর্ষণ করে। অন্যবারের মতো এবারের ঈদে এসব দর্শনীয় স্থানে দেশি-বিদেশি রেকর্ডসংখ্যক দর্শনার্থী সমাগম ঘটবে বলে আশা করা যাচ্ছে। আর এজন্য এসব দর্শনীয় স্থানে নেওয়া হয়েছে নানা আয়োজন।

সোনারগাঁ জাদুঘরসোনারগাঁ লোকশিল্প জাদুঘর রাজধানী ঢাকা থেকে ২৭ কিলোমিটার দূরে নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয় অবস্থিত। সোনারগাঁয়ের ‘বড় সর্দার বাড়ি’ নামে পরিচিত একটি প্রাচীন জমিদার প্রাসাদে এ জাদুঘর স্থাপন করা হয়েছে।

জাদুঘরে দর্শনার্থীরা দেখতে পাবেন বাংলার প্রাচীন সুলতানদের ব্যবহৃত অস্ত্র-শস্ত্র, তৈজসপত্র, পোশাক, বর্ম, অলংকার ইত্যাদি। বাংলার প্রাচীন ও মধ্য যুগের লোকশিল্পের অনেক নিদর্শন রয়েছে এখানে, রয়েছে বাংলার প্রাচীন মুদ্রাও। কারুপল্লিতে বৈচিত্র্যময় দোচালা, চৌচালা ও উপজাতীয়দের আদলে তৈরি ঘরে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের অজানা, অচেনা, আর্থিকভাবে অবহেলিত অথচ দক্ষ কারুশিল্পীর তৈরি বাঁশ-বেত, কাঠ খোদাই, মাটি, জামদানি, নকশিকাঁথা, একতারা, পাট, শঙ্খ, মৃৎ শিল্প ও ঝিনুকের সামগ্রী ইত্যাদি কারুপণ্যের প্রদর্শনী দেখতে পাবেন।

বাংলার তাজমহলভ্রমণপিপাসু মানুষের দৃষ্টির পরিতৃপ্তির জন্য বাংলার ইতিহাসের প্রাচীন রাজধানী সোনারগাঁয়ের নির্মিত হয়েছে ভারতের আগ্রার তাজমহলের আদলে বাংলার তাজমহল।

প্রাচীন যুগ ও মধ্যযুগে পৃথিবীতে নির্মিত অতি আশ্চর্যের সাতটি জিনিসের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ছিল মিসরের রাজা বাদশাহদের মমি ও ভারতের মোগল সম্রাট শাহজাহানের স্ত্রী মমতাজ বেগমের স্মৃতির উদ্দেশ্যে নির্মিত আগ্রার তাজমহল। মমি আর তাজমহলের আদলে এ স্থাপনাগুলো নির্মাণ করেছেন চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্ব মুক্তিযোদ্ধা আহসানউল্লাহ মনি নিজ গ্রাম পেরাবতে।

তাজমহলের অভ্যন্তরে আহসানউল্লাহ্ মনি ও তার স্ত্রী রাজিয়া দুজনের সমাধির স্থান রক্ষিত আছে। চার কোণে চারটি বড় মিনার, মাঝখানে মূল ভবন, সম্পূর্ণ টাইলস করা। সামনে পানির ফোয়ারা, চারদিকে ফুলের বাগান, দুই পাশে দর্শনার্থীর বসার স্থান।

এখানে রয়েছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত রাজমনি ফিল্ম সিটি, রেস্তোরাঁ, উন্নতমানের খাবার-দাবারের পাশাপাশি, যারা গ্রুপে বা পিকনিকে আসতে চান তাদের জন্য ও ব্যবস্থা রয়েছে। রাজমনি ফিল্ম সিটি স্টুডিও। ইচ্ছা করলে যে কোনো দর্শনার্থী এখানে ছবি উঠাতে পারবেন। তাজমহলকে ঘিরে বাইরে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন হস্তশিল্পসামগ্রী জামদানি শাড়ি, মাটির গহনাসহ আরও অন্য পণ্য।

পানাম নগরঅতীতে ঐতিহাসিক এক শহর ছিল পানাম নগরী। পৃথিবীর ১০০ ধ্বংসপ্রায় ঐতিহাসিক শহরের মধ্যে একটি হলো পানাম নগরী। সোনারগাঁয়ে ২০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে গড়ে ওঠে এ নগর।

বড় নগর, খাস নগর, পানাম নগর-প্রাচীন সোনারগাঁয়ের এ তিন নগরের মধ্যে পানাম ছিল সবচেয়ে আকর্ষণীয়। পানাম নগরীতে আছে ৪০০ বছরের পুরোনো মঠবাড়ি, নীলকুঠি, পোদ্দার বাড়ি, কাশিনাথের বাড়ি, সোনারগাঁয়ের একমাত্র আর্টগ্যালারি আর নানা প্রাচীন ভবনসহ পঙ্খীরাজ খাল।

বর্তমানে পানাম নগরের দু’ধারে ঔপনিবেশিক আমলের ৫২টি স্থাপনা রয়েছে। এর উত্তরদিকে ৩১টি ও দক্ষিণদিকে ২১টি স্থাপনা অবস্থিত। স্থাপনাগুলোর স্থাপত্যে ইউরোপীয় শিল্পরীতির সঙ্গে মোঘল শিল্পরীতির মিশ্রণ দেখতে পাওয়া যায়।

পানাম নগরীর নকশা নির্মাণ করা হয়েছে বেশ নিখুঁত আকারে। নগরীর প্রায় প্রতিটি বাড়িতেই আছে কূপসহ আবাস উপযোগী নিদর্শন। পানি সরবরাহের জন্য দু’পাশে খাল ও পুকুর রয়েছে। তাছাড়াও নগরীর আশপাশে ছড়িয়ে আছে ঈসা খাঁ ও তার ছেলে মুসা খাঁর প্রমোদ ভবন, ফতেহ শাহের মসজিদ, সোনাকান্দা দুর্গ, পঞ্চপীরের মাজার, কদম রসুল, চিলেকোঠাসহ বহু পুরাতাত্ত্বিক গুরুত্ববহ স্থাপনা। পানামের চারপাশের সবুজের সমারোহ প্রতিনিয়ত যে কারোর নয়ন জুড়িয়ে দেয়।

আরএইচ/জেআইএম