সোমবার মধ্যরাত। বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে একটি ট্রাকের চাকা পাংচার হয়। মেরামতের উদ্দেশ্যে সেখানে অবস্থান নিলে বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থী ওই ট্রাকচালকের কাছে যান। এ সময় তার কাছে গাঁজা আছে কিনা জিজ্ঞেস করেন শিক্ষার্থীরা। গাঁজা না পেয়ে চাঁদা দাবি করেন তারা৷ চাঁদা দিতে অস্বীকার করলে চালককে মারধর করে তার কাছ থেকে ৫ হাজার টাকা ছিনতাই করেন।
অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা হলেন- আইন বিভাগের রেজওয়ান সিদ্দিকী কাব্য ও বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের আল-আমীন হোসেন।
এ ঘটনা গণমাধ্যমসহ বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে পড়লে কাব্য ও তার বেশ কয়েকজন সঙ্গী মঙ্গলবার বিকাল থেকে অস্ত্রসহ ক্যাম্পাসে মহড়া দেন। এ সময় তারা সাংবাদিক ও নিরাপত্তা সেলের কর্মকর্তা আবদুস সালাম সেলিমকে খুঁজতে থাকেন এবং তাদের দেখে নেওয়া হবে বলে হুমকি দিতে থাকেন।
পরে বিষয়টি প্রশাসনকে অবহিত করা হলে মঙ্গলবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি থেকে তাকে গ্রেফতার করলেও তার বাকি সহযোগীরা পালিয়ে যায়। এসময় তার কাছ থেকে একটি ধারালো রামদা উদ্ধার করা হয়।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সহকারী প্রক্টর ড. শফিকুল ইসলাম, ড. আমজাদ হোসেন, ড. মুর্শিদ আলম, শরিফুল ইসলাম, নিরাপত্তা কর্মকর্তা আবদুস সালাম সেলিমসহ অন্যান্য নিরাপত্তা কর্মীরা। পরে তাকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়।
এ বিষয়ে ইবি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এক শিক্ষার্থীকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি ধারালো অস্ত্রও উদ্ধার করা হয়। সে যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, প্রশাসনের সিদ্ধান্ত জেনে তার বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, যেহেতু তাকে অস্ত্রসহ আটক করা হয়েছে, আপাতত ওই শিক্ষার্থীকে বহিষ্কারের প্রক্রিয়া চলমান। এছাড়া তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
রুমি নোমান/এফএ/জেআইএম