জৈব বালাইনাশকভিত্তিক প্রযুক্তি ব্যবহারের কারণে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে এ পর্যন্ত দেশে রাসায়নিক কীটনাশকের ব্যবহার প্রায় ১৭ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে বলে জানিয়েছেন বিজ্ঞানীরা।
রোববার (২৪ জুলাই) বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বারি) কীটতত্ত্ব বিভাগ এবং সিমিট-ফিট দ্য ফিউচার বাংলাদেশ আপিএমএর যৌথ আয়োজনে ‘সমন্বিত বালাই দমন ব্যবস্থার (আইপিএম) একটি উপাদান হিসেবে বিভিন্ন পরজীবীর পালন এবং তাদের প্রায়োগিক দিক’ শীর্ষক পাঁচ দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক প্রশিক্ষণের উদ্বোধনে তারা এসব কথা বলেন।
বারির সেমিনার কক্ষে অনুষ্ঠিত সেমিনারে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিলরের নির্বাহী চেয়ারম্যান ড. শেখ মোহাম্মদ বখতিয়ার।
ইউএসএআইডি মিশন, বাংলাদেশের অর্থায়নে ২৩-২৭ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য এ প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে নেপাল ও বাংলাদেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ১০ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশ নিচ্ছেন।
বারির মহাপরিচালক ড. দেবাশীষ সরকারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত কর্মশালায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পরিচালক (সেবা ও সরবরাহ) ড. মো. কামরুল হাসান, পরিচালক (গবেষণা) ড. মো. তারিকুল ইসলাম এবং পরিচালক (প্রশিক্ষণ ও যোগাযোগ) ড. ফেরদৌসী ইসলাম।
অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভার্জিনিয়া টেক ইউনিভার্সিটির আইপিএম ল্যাবের প্রিন্সিপাল ইনভেস্টিগেটর ড. রাঙ্গাসুয়ামি মুনিয়াপ্পান।
বারির কীটতত্ত্ব বিভাগের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. মো. আখতারুজ্জামান সরকারের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ও প্রধান ড. নির্মল কুমার দত্ত।
প্রশিক্ষণের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ দানাদার খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করলেও এখনো কৃষিতে বিভিন্ন ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বিশেষ করে ক্রমহ্রাসমান জমিতে ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাহিদা মেটাতে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন করা একটা বিরাট চ্যালেঞ্জ। বর্তমান সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর প্রথম বিভিন্ন সমন্বিত বালাই দমন প্রযুক্তির নিবন্ধন দেওয়া শুরু করে। বর্তমানে দেশে প্রায় ৬৬টি জৈব বালাইনাশক নিবন্ধিত হয়েছে এবং এসব জৈব বালাইনাশকের বেশিরভাগই কৃষকের মাঠে সফলতার সঙ্গে ব্যবহৃত হচ্ছে।
তারা বলেন, জৈব বালাইনাশকভিত্তিক প্রযুক্তি ব্যবহারের ফলে বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে দেশে রাসায়নিক কীটনাশকের ব্যবহার প্রায় ১৭ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
আমিনুল ইসলাম/এসআর/এএসএম