প্রায় এক যুগ আগে ফরিদপুরের সালথার বুড়িদিয়া-খোয়াড় সড়কের মালঞ্চ বিলের ওপর একটি সেতু নির্মাণ করা হয়। তবে সেতু থাকলেও সংযোগ সড়কের বেহাল দশার কারণে এর সুফল পাচ্ছে না স্থানীয় বাসিন্দারা। সেতুটির সংযোগ সড়ক দিয়ে যান চলাচল তো দূরের কথা হেঁটে চলাচল করাও দুষ্কর। এভাবেই চলছে প্রায় অর্ধযুগ। এতে ওই পথ দিয়ে চলতে গিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন কয়েকটি গ্রামের হাজারো মানুষ।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার গট্টি ও আটঘর ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী বুড়িদিয়া ও খোয়াড় গ্রামের মাঝ দিয়ে বয়ে গেছে মালঞ্চ বিল। বিলের ওপর নির্মিত সেতুর সংযোগ সড়ক যান চলাচলের অনুপযোগী হওয়ায় দুই ইউনিয়নের সেনহাটি, খোয়াড়, বুরিদিয়া, নারায়ণপুর, সিংহপ্রতাপ, মেম্বার গট্টি, গৌড়দিয়া গ্রামের হাজারো মানুষ চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। কৃষকরা তাদের পণ্য মাথায় নিয়ে বাজারজাত করছেন। শতশত শিক্ষার্থীকে পায়ে হেঁটে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যেতে হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, এক যুগ আগে এই দুই ইউনিয়নের মানুষের যাতায়াতের জন্য বিলের ওপর দিয়ে নির্মাণ করা হয় একটি সেতু। শুরুতেই সেতুর দুই পাশে নির্মাণ করা হয় ইটের সংযোগ সড়ক। কিন্তু দীর্ঘদিনেও সংযোগ সড়কের কোনো সংস্কার না করায় ভেঙে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সেই সঙ্গে সড়কের বিভিন্ন স্থান থেকে ইটগুলোও উধাও হয়ে গেছে। ফলে বিলের ওপর সেতুটি ঠাঁই দাড়িয়ে থাকলেও যান চলাচলে অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। উপায়ন্তর না পেয়ে কোনো মতে পায়ে হেঁটে চলাচল করছে স্থানীয়রা।
সিংহপ্রতাপ গ্রামের বাসিন্দা ও ওই পথ দিয়ে নিয়মিত চলাচলকারী মো. সাদেকুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ব্রিজ থাকলেও সংযোগ সড়কের বেহাল দশা। এভাবে ছয় বছরের বেশি সময় ধরে সেতুর ওপর দিয়ে মানুষ বাধ্য হয়ে পায়ে হেঁটে চলাচল করলেও যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
খোয়াড় গ্রামের আরশাদ মাতুব্বর জাগো নিউজকে বলেন, ব্রিজের সংযোগ সড়ক না থাকায় আমাদের চলাচলে চরম অসুবিধা হচ্ছে। কৃষিপণ্য ও বিভিন্ন মালপত্র আনা নেওয়ায় সালথা উপজেলা সদরে যেতে হলে অন্য রাস্তা দিয়ে পাঁচ থেকে সাত কিলোমিটার পথ ঘুরে যেতে হয়। দীর্ঘ ছয় বছর ধরে সড়কটি এভাবেই পড়ে আছে। রাস্তার ইটগুলো একে একে চুরি হয়ে যাচ্ছে। এ নিয়ে কারও মাথা ব্যথা বা ভ্রুক্ষেপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে না।
এ বিষয়ে গট্টি ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান হাবিবুর রহমান লাবলু জাগো নিউজকে বলেন, ব্রিজের সংযোগ সড়কের বেহাল অবস্থার কারণে কয়েক গ্রামের মানুষের কষ্টের যেন শেষ নেই। চলাচলে চরম ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে। যানবাহন তো দূরে থাক পায়ে হেঁটে মানুষ চলতে পারে না। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছি একাধিকবার। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হয়নি।
স্থানীয় আটঘর ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল ইসলাম খান সোহাগ জাগো নিউজকে বলেন, জনগণের জন্য ব্রিজটি নির্মাণ করা হলেও সংযোগ সড়ক ভেঙে চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সংযোগ সড়কের বেহাল দশার কারণে মানুষের চলাচলে কষ্ট হচ্ছে। ব্রিজের কোনো সুফল পাচ্ছে না।
এ প্রসঙ্গে সালথা স্থানীয় সরকার বিভাগের উপজেলা প্রকৌশলী মো. তৌহিদুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে ওই সেতুর সংযোগ সড়ক দ্রুত মেরামত করার উদ্যোগ নেওয়া হবে।
সালথা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোছা. তাছলিমা আকতার জাগো নিউজকে বলেন, উপজেলা প্রকৌশলীকে বলা হয়েছে। এই ব্রিজ এবং রাস্তার বিষয়ে এস্টিমেট করে প্রকল্প অনুমোদনের জন্য ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এন কে বি নয়ন/এমআরআর/এমএস