নারায়ণগঞ্জের আলোচিত সাত খুন মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি নূর হোসেনের পায়ে পচন ধরেছে। একই সঙ্গে তার ডায়াবেটিস বেড়ে যাওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য আদালতে আবেদন করেছেন তার আইনজীবীরা।
বৃহস্পতিবার (৪ আগস্ট) দুপুরে অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (দ্বিতীয়) সাবিনা ইয়াসমিনের আদালতে এ আবেদন করা হয়। আদালত তার আবেদনের বিষয়টি আমলে নিয়ে পরবর্তীতে আদেশের কথা জানিয়েছেন।
এদিন নূর হোসেনের বিরুদ্ধে একটি অস্ত্র মামলার যাবজ্জীবন সাজা হয়েছে। সেই সঙ্গে আরও দুটি মামলায় চারজনের সাক্ষ্যগ্রহণ হয়। আর এ সময়ে নূর হোসেন আদালতের এজলাসে বসা ছিলেন।
নূর হোসেনের আইনজীবী কামাল হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, তার ফোঁড়া ওঠে তাতে পচন ধরেছে। দাঁড়িয়ে থাকার কারণে তার পা দিয়ে রক্ত ঝরছিল। আমরা আদালতকে বিষয়টি জানিয়েছি। মানবিক দিক বিবেচনা করে আদালত তাকে এজলাসে বসার অনুমতি দেন।
তিনি আরও বলেন, তার ডায়াবেটিসের পরিমাণও অনেক বেশি। যার কারণে ফোঁড়া ভালো হচ্ছে না। এ অবস্থায় নূর হোসেনের উন্নত চিকিৎসা করা না হলে ভবিষ্যতে পঙ্গুত্ববরণের দিকে এগিয়ে যাবে। সেই সঙ্গে কারা কর্তৃপক্ষও হয়তো উন্নত চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করতে সক্ষম হবেন না। তাই আমরা আদালতের কাছে উন্নত চিকিৎসার আবেদন করেছি।
এর আগে ২০১৪ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংকরোড থেকে নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের প্যানেল মেয়র নজরুল ইসলামসহ সাতজন অপহৃত হন। ৩০ ও ৩১ এপ্রিল শীতলক্ষ্যা নদী থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। মরদেহগুলো এক কিলোমিটারের মধ্যে পায়ে ২৪টি করে ইট বোঝাই সিমেন্টের ব্যাগ দিয়ে বাঁধা অবস্থায় নদীতে ডোবানো ছিল।
এ ঘটনায় হওয়া মামলায় জেলা ও দায়রা জজ আদালত নূর হোসেন, র্যাবের সাবেক তিন কর্মকর্তাসহ ২৬ জনকে মৃত্যুদণ্ড দেন।
মোবাশ্বির শ্রাবণ/আরএইচ/জিকেএস