দেশজুড়ে

এতিমখানা থেকে পালিয়ে পুলিশকে মিথ্যা বলেছিল দুই শিশু

ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার দুই নম্বর পুলিশ ফাঁড়িতে আশ্রয় নেওয়া দুই শিশু রাসেল (৮) ও রবিউল (৭) পুলিশের কাছে মিথ্যা তথ্য দিয়েছিল। তারা প্রথমে নিজেদের দুই ভাই পরিচয় দিলেও পরে জানা যায় সেটি মিথ্যা। তারা ফরিদপুর শহরের বায়তুল আমান সরকারি শিশু পরিবার বালক এতিমখানা থেকে পালিয়ে ওই পুলিশ ফাঁড়িতে আশ্রয় নিয়েছিল।

রোববার (৭ জুলাই) দুপুরে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার দুই নম্বর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সুনীল কর্মকার জাগো নিউজকে এ তথ্য জানান।

এর আগে শনিবার (৬ আগস্ট) সন্ধ্যা ৬টার দিকে ফরিদপুর রেলস্টেশনের পাশে একটি গাছের নিচে কাঁদতে দেখে সিয়াম ও শুভ নামে দুই তরুণ তাদের পুলিশ ফাঁড়িতে নিয়ে যান। তখন তারা, নিজেদের দুই ভাই দাবি করে পরিবারের কাছে ফিরতে চায় বলে পুলিশকে জানায়। এরপরই পুলিশ তাদের পরিবারের সন্ধান পেতে তৎপরতা শুরু করে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, শনিবার সন্ধ্যা স্থানীয় সিয়াম ও শুভ নামে দুই তরুণ এলাকার অন্য কয়েক তরুণের সহায়তায় শিশু দুটিকে ফাঁড়িতে নিয়ে আসেন। তখন শিশু দুটি জানায়, তারা দুই ভাই। তাদের মা বেঁচে নেই। বাবা রাগ করায় তারা বাড়ি ছেড়ে চলে এসেছে। তারা এখন বাড়ি ফিরে যেতে চায়। প্রথমে শিশু দুটি বাবার নাম জসিম শেখ বলে। তাদের গ্রামের বাড়ি মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান এলাকায় বলে জানায়। তবে তারা একেক সময় বাড়ির ঠিকানা একেক জায়গার কথা বলে। তারা কখনো বলে তাদের বাড়ি ঢাকায়, আবার কখনো বলে গাজীপুরের কালীগঞ্জে।

এদিকে, প্রকৃত ঘটনা হলো- ওই দুই শিশুর মধ্যে রাসেল গত বৃহস্পতিবার কোতোয়ালি থানা পুলিশের মাধ্যমে এতিমখানায় আসে। তার মা-বাবার নাম জানা যায়নি। আর রবিউলের বাড়ি ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গার পানিগাতী গ্রামে। তার বাবা মৃত আ. রহমান। রবিউলের মা রুপালী বেগম ছেলের অত্যাচারে অতিষ্ঠ হয়ে প্রায় বছরখানেক আগে তাকে এতিমখানায় রেখে যান। এর পর থেকে সে সেখানেই ছিল। শনিবার কোনো একসময় তারা দুজন এতিমখানা থেকে পালিয়ে যায়।

ফরিদপুর বায়তুল আমান সরকারি শিশু পরিবার বালক এতিমখানার অফিস সহকারী মো. মিরাজুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, বায়তুল আমান সরকারি শিশু পরিবার বালক এতিমখানায় মোট আসন সংখ্যা ১৭৫টি। বর্তমানে সেখানে ১৬৫ এতিম বালক রয়েছে। মূলত এ প্রতিষ্ঠানটি উন্মুক্ত। শিশুরা অন্যত্র লেখাপড়া ও খেলাধুলা করে। এখানে শুধু থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা আছে। রাসেল ও রবিউল নামে শিশু দুটি এখান থেকে কাউকে কিছু না বলে পালিয়ে যায়। পরবর্তীকালে আমরা জানতে পারি তারা থানায় আশ্রয় নিয়েছে। এখন আমরা আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করছি।

এ বিষয়ে ফরিদপুর বায়তুল আমান সরকারি শিশু পরিবারের সহকারী তত্ত্বাবধায়ক মো. আমির হোসেন জাগো নিউজকে বলেন, রবিউল নামে শিশুটি প্রায় এক বছর ধরে আমাদের প্রতিষ্ঠানে আছে। সে শান্ত প্রকৃতির। এর আগে তার কোনো খারাপ কিছু পাইনি বা কোনো খারাপ ঘটনা ঘটায়নি। গত বৃহস্পতিবার রাসেল নামে নতুন ছেলেটি আসার পর তাদের দুজনের মধ্যে বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে। তারপরই এ ঘটনা ঘটে। কিন্তু কেন বা কী কারণে তারা এমনটি করেছে তার কোনো কারণ খুঁজে পাচ্ছি না। শিশু দুটিও এ বিষয়ে কোনো কথা বলছে না।

তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে আমরা একটি সাধারণ ডায়েরি করেছিলাম। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাদের ফিরিয়ে নেওয়ার কাজ চলছে।

জানতে চাইলে ফরিদপুর কোতোয়ালি থানার দুই নম্বর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ সুনীল কর্মকার জাগো নিউজকে বলেন, প্রথমে তাদের কথা শুনে আশ্রয় দিয়ে থাকা-খাওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। পরবর্তীতে জানতে পারি তারা আপন ভাই না। তারা প্রথমে যা বলেছে সবই মিথ্যা। তারা এতিমখানা থেকে পালিয়ে এসে মিথ্যা নাটক সাজিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের পরিবারের সন্ধান চাওয়ার বিষয়টি ছড়িয়ে পড়লে রোববার দুপুরে এ ঘটনার সত্যতা বেরিয়ে আসে। ফরিদপুর বায়তুল আমান সরকারি শিশু পরিবার বালক এতিমখানা থেকে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে বিস্তারিত তথ্য জানতে পারি।

তিনি আরও বলেন, প্রকৃত ঘটনা জানার পর শিশু দুটির কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তারা কোনো উত্তর দেয়নি। চুপচাপ রয়েছে। এই বয়সে তাদের মিথ্যাচার ও নাটক দেখে আশ্চর্য হয়েছি। আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের এতিমখানায় হস্তান্তর করা হবে।

এন কে বি নয়ন/এমআরআর/জিকেএস