ফরিদপুর সদরের কানাইপুরে শ্রমিকদের যাতায়াতের পথ উন্মুক্ত করা ও অ্যাসিড কারখানা বন্ধের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেছেন বিসিক শিল্পনগরীর শ্রমিক ও এলাকাবাসী।
বৃহস্পতিবার (১৮ আগস্ট) বেলা ১১টায় ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের কানাইপুর বিসিক শিল্পনগরী সংলগ্ন স্থানীয়দের উদ্যোগে এ মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়।
মানববন্ধনে কানাইপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আবুল কাশেম, ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম, নারীশ্রমিক মিস পলি, মমতাজ, স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুর রাজ্জাক, সানজাউর রহমানসহ বিসিক শিল্পনগরীর সাধারণ শ্রমিক, স্থানীয় এলাকাবাসী, স্কুলের শিক্ষার্থীসহ এলাকার সহস্রাধিক মানুষ যোগ দেন।
স্থানীয়রা অভিযোগ করে বলেন, কানাইপুরে আল-আমিন কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড নামে একটি অ্যাসিড কারখানা গড়ে ওঠে। কারখানাটি বিষাক্ত কেমিক্যাল উৎপাদন করে আসছে। কারখানার উৎপাদন শুরু হলে এর কেমিক্যালের ঝাঁঝালো গন্ধে এলাকার সাধারণ মানুষ রাস্তায় হাঁটাচলা এমনকী ঘরে থাকতে পারেন না।
বিষাক্ত কেমিক্যালের গন্ধে শ্বাস বন্ধ হয়ে আসে। অনেকে জ্ঞান হারিয়ে ফেলেন। আশপাশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়া ব্যাহত হয়। কারখানার বিষাক্ত কেমিক্যালে এলাকার গাছপালা মরে যাচ্ছে। ফসলি জমিতে কোনো ফসল ফলছে না। কেমিক্যালের সালফার অ্যাসিডের বিষাক্ত গ্যাসে স্থানীয়দের শিশু থেকে শুরু করে সব বয়সীরা অসুস্থ হয়ে পড়ছেন।
বিসিক শিল্পনগরীতে কর্মরত শ্রমিকদের অভিযোগ, ওই প্রতিষ্ঠানে শ্রমিকদের জন্য বরাদ্দ আবাসনস্থল থেকে কারখানায় যাতায়াতের রাস্তা বন্ধ করে দেয় অ্যাসিড কারখানা কর্তৃপক্ষ। দীর্ঘ ২৫ বছর ধরে রাস্তাটি চলাচলের জন্য উন্মুক্ত থাকলেও মহামারি করোনা শুরুর প্রাক্কালেই শ্রমিকদের চলাচলের একমাত্র এই রাস্তাটি বিনা নোটিশে বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে শ্রমিকরা কর্মস্থলে যাতায়াতে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।
এ বিষয়ে অ্যাসিড কারখানাটির ম্যানেজার রেজাউল করিম বলেন, মালিক সমিতির নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে বিভিন্ন দুষ্কৃতকারীদের কবল থেকে রক্ষা পেতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রাস্তা দিয়ে চলাচলের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। এছাড়া সরকারি নিয়মানুযায়ী ওই স্থানে রাস্তা দেওয়ার কোনো অনুমতি নেই।
বিষাক্ত গ্যাসের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রত্যেকটা পণ্যেরই গন্ধ থাকে। একইভাবে অ্যাসিড কেমিক্যালেরও গন্ধ রয়েছে, যা অভিযোগকারীরা মেনে নিতে পারেননি। তবে সরকারি নিয়মনীতি অনুসরণ করেই প্রতিষ্ঠানের সব কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
এন কে বি নয়ন/এসআর