দেশজুড়ে

কুমিল্লায় ডিমের ঘাটতি নেই, বাজারে দাম চড়া

জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির পর থেকে ফার্মের মুরগির ডিমের দাম নিয়ে অস্থিরতা তৈর হয়েছে। আড়ৎদারদের অভিযোগ চাহিদার তুলনায় কুমিল্লায় ডিম উৎপাদন হচ্ছে না। প্রতিদিন ঘাটতি থাকে প্রায় সোয়া লাখ ডিম। এতে করে বিভিন্ন জেলা থেকে ডিম সংগ্রহ করায় দাম বাড়ছে।

তবে কুমিল্লা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. নজরুল ইসলাম জানান, জেলায় উৎপাদিত ডিমের সংকট নেই। কুমিল্লায় প্রায় তিন শতাধিক খামারে প্রতিদিন যে পরিমাণ ডিম উৎপাদন হয় সেটি দিয়ে চাহিদা মেটানো সম্ভব। জেলায় গত বছরে ৬১ কোটি ডিম উৎপাদন হয়েছে।

শুক্রবার (১৯ আগস্ট) সকালে বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি হালি লাল ডিম বিক্রি হচ্ছে ৪২-৪৫ টাকায়। আর দেশী হাঁস ও মুরগির ডিম বিক্রি হচ্ছে ৭০ টাকায়। হালিতে কমেছে ৫-৮ টাকা। তবে লাল ডিমের দাম কমলেও বৃহস্পতিবার থেকে হালিপ্রতি হাঁসের ডিমে বেড়েছে ১০ টাকা।

এর আগে গত মঙ্গলবার লাল ডিম বিক্রি হয়েছে ৫০-৫৫ টাকা হালি। এছাড়া হাঁসের ডিম ৬০ টাকা এবং দেশী মুরগির ডিম ৭০ টাকা দরে বিক্রি হয়।

প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্র জানায়, জেলায় যে পরিমাণে মুরগির ডিম উৎপাদিত হয়ে তা জেলার চাহিদা মেটাতে সক্ষম। তবে করোনার কারণে কুমিল্লায় প্রায় শতাধিক খামার বন্ধ হয়ে যায়। যে কারণে কিছুটা উৎপাদন কমলেও সংকট তৈরি হয় নি।

জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. নজরুল ইসলাম জানান, যে পরিমাণ ডিম উৎপাদন হচ্ছে সে অনুসারে একপিস ডিমের দাম সর্বনিম্ন ৯-১০ টাকা হওয়া উচিত। এক শ্রেণির ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে ডিমের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।

কুমিল্লা জেলা ও মহানগর ডিম ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি জাহাঙ্গীর আলম বলেন, কুমিল্লায় দৈনিক দুই লাখের বেশি ডিমের চাহিদা। সেখানে উৎপাদন হচ্ছে মাত্র ৭০ হাজার। হঠাৎ করে সরবরাহ কমে যাওয়ায় চাহিদা পূরণ করতে বিভিন্ন জেলা থেকে ডিম সংগ্রহ করতে হচ্ছে। এতে খরচ বাড়ায় ডিমের দাম কিছুটা বেড়েছে।

ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কুমিল্লা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মো. আছাদুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে নগরীতে ডিম ও ব্রয়লার মুরগির বাজারে অভিযান শুরু হয়েছে। বাজার নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত আমাদের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

জাহিদ পাটোয়ারী/আরএইচ/জিকেএস