দেশজুড়ে

প্রধান শিক্ষক লাঞ্ছিত: প্রতিবাদে শিক্ষার্থীদের ক্লাস বর্জন

বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষককে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত, মারধর ও নিয়ম বহির্ভূতভাবে বহিষ্কার করার প্রতিবাদে প্রতিষ্ঠানটির সভাপতির শাস্তি ও বিচারের দাবিতে দুদিন ধরে ক্লাস বর্জন করে আন্দোলন করছে শিক্ষার্থীরা।

রোববার (২১ আগস্ট) সাতক্ষীরা-আশাশুনি সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর ইউনিয়নের ধুলিহর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। আজ সোমবারও কোনো শিক্ষার্থী ক্লাসে উপস্থিত হয়নি। নতুন করে আন্দলোনে যুক্ত হয়েছে সাবেক শিক্ষার্থীরাও। প্রধান শিক্ষক আব্দুস সালামকে মারধর ও বহিষ্কার প্রত্যাহারের দাবিতে রোববার সকাল থেকে সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিয়র আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এই আন্দোলন শুরু করে।

এর আগে শনিবার (২০ আগস্ট) সকালে বিদ্যালয়ের ভেতরেই প্রধান শিক্ষক আব্দুস সালামকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত ও মারধর করেন বিদ্যালয়টির সভাপতি মাহবুবর রহমান।

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, এসএমসি কমিটির নির্বাচনে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক আব্দুস সালাম কোনো পক্ষ অবলম্বন না করায় প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি ও খুলনা জেলা পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মাহাবুবর রহমানের সঙ্গে মনোমালিন্য সৃষ্টি হয় তার। এক পর্যায়ে প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি তার নিজের লোকজন দিয়ে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতির অভিযোগ আনেন। কোনো প্রকার তদন্ত ছাড়াই শনিবার (২০ আগস্ট) সকালে প্রধান শিক্ষক আব্দুস সালামকে দু’মাসের জন্য বহিষ্কার করেন প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি মাহাবুবর রহমান। এ সময় জোরপূর্বক গলাধাক্কা দিয়ে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষককে মারধর করে তার রুম থেকে টেনে হেঁচড়ে বের করেন তিনি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যালয়টির একাধিক সহকারী শিক্ষকসহ ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারীরা জানান, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে যেসকল অভিযোগ এনে তাকে বহিষ্কার করা হয়েছে সেগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা। পূর্ব শত্রুতার কারণে প্রধান শিক্ষককে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার উদ্দেশ্যে দীর্ঘদিন ধরে ষড়যন্ত্র করতে থাকেন বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভাপতি মাহাবুবর রহমান। এরই অংশ হিসেবে প্রধান শিক্ষককে নিয়ম বহির্ভূতভাবে বহিষ্কারের পাশাপাশি তাকে মারধর করেন প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি।

তারা বলেন, পুরো বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি মাহাবুবর রহমানের জিম্মায়। তার বিরুদ্ধে একাধিক দুর্নীতির মামলা রয়েছে। তবে তার দুর্নীতিতে সাফাই না দেওয়ায় এ ঘটনা ঘটতে পারে বলে ধারণা তাদের।

প্রধান শিক্ষককে মারধর প্রসঙ্গে তারা বলেন, বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক যদি দুর্নীতিগ্রস্ত হয় তাহলে তার জন্য দেশে প্রচলিত আইন রয়েছে। কিন্তু আইনের ঊর্ধ্বে গিয়ে একজন শিক্ষককে মারধর করার পাশাপাশি গলা ধাক্কা দিয়ে অফিস রুম থেকে বের করাটা সভাপতির ঠিক হয়নি। তাছাড়া বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির সভায় সবার সর্বসম্মতিক্রমে প্রধান শিক্ষককে বহিষ্কার করা হয়েছে বলে জানানো হয়। কিন্তু ওই মাসিক সভায় এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। সভাপতি তার একক ক্ষমতাবলে এসব করেছেন বলে অভিযোগ করেন তারা।

এ ব্যাপারে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা জানায়, প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ সাজিয়ে কোনো প্রকার তদন্ত ছাড়া প্রধান শিক্ষক আব্দুস সালামকে মারধরসহ তাকে বহিষ্কার করার প্রতিবাদে তারা ক্লাস বর্জন করে বিক্ষোভ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছে। এসময় প্রধান শিক্ষককে স্বপদে বহাল রেখে স্কুল কমিটির সভাপতি মাহবুবুর রহমানকে বহিষ্কার করলে তারা আবার শ্রেণিকক্ষে ফিরবে বলে জানায়।

এ ব্যাপারে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক আব্দুস সালাম জাগো নিউজকে জানান, আমাকে শনিবার স্কুল কমিটির সভাপতি মাহবুবুর রহমান গায়ে হাত তুলে লাঞ্ছিত করেন এবং আমার বিরুদ্ধে শিক্ষক নিয়োগে অনিয়ম, শিক্ষার্থীদের কাছে বই বিক্রি ও স্কুল ফান্ডের টাকা উত্তোলনের মিথ্যা অভিযোগ সাজিয়ে কোনো তদন্ত ছাড়াই আমাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। পরে স্কুলের শিক্ষার্থীরা জানতে পেরে সকাল থেকে ক্লাস বর্জন করে আন্দোলন করছে। আমি তাদেরকে ক্লাসে যাওয়ার কথা বলেছি কিন্তু তারা সেটা না করে আন্দোলন করছে।

এসব বিষয়ে অভিযুক্ত সভাপতি মাহাবুবর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তার ব্যবহৃত নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।

সাতক্ষীরা জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ্ আল মামুন জাগো নিউজকে বলেন, এ বিষয়ে খোজঁ খবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাতেমা তুজ জোহরা জাগো নিউজকে বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি, এটি দুঃখজনক। খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

আহসানুর রহমান রাজীব/এফএ/জেআইএম