আন্তর্জাতিক

হাফ ছেড়ে বাঁচলেন ফিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী

ফিনল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী সানা মারিনের পার্টি করার ভিডিও ফাঁস হওয়ার পর ব্যাপক তোলপাড় শুরু হয়। ফাঁস হওয়া ভিডিওতে দেখা যায়, তিনি দেশটির কয়েকজন সেলিব্রেটি ও তার বন্ধুদের সঙ্গে নাচছেন ও গান গাইছেন। এই ঘটনায় বিরোধী দলগুলোর তোপের মুখে পড়েন সানা মারিন। অবশেষে তিনি ড্রাগ টেস্ট করান এবং তার ফলাফল নেগেটিভ এসেছে।

সোমবার (২২ আগস্ট) দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জানানো হয়, সমালোচনার মুখে পড়া ৩৬ বছর বয়সী সানা মারিনের ড্রাগ টেস্টের রিপোর্ট নেগেটিভ এসেছে।

প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ উপদেষ্টা আইডা ভ্যালিন এএফপিকে বলেছেন, সানা মারিনের প্রস্রাবের নমুনায় কোকেন, অ্যামফিটামিন, গাঁজা এবং ওপিওডের মতো বিভিন্ন ওষুধের উপস্থিতির জন্য পরীক্ষা করা হয়েছিল।

তার কার্যালয় থেকে এক বিবৃতিতে জানানো হয় গত ১৯ আগস্ট পরীক্ষার জন্য তার নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এরপর পরীক্ষার রিপোর্ট দেখেন একজন চিকিৎসক এবং এতে তার স্বাক্ষর রয়েছে।

সানা মারিনের নাচ-গানের ভিডিও ফাঁস হওয়ার পর সংবাদ সম্মেলনে মাদক নেওয়ার কথা অস্বীকার করেন তিনি। হেলসিঙ্কিতে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি আরও বলেন, আমি বেআইনি কিছু করিনি।

২০১৯ সালের ডিসেম্বর থেকে ক্ষমতায় রয়েছেন সানা মারিন। দায়িত্ব নেওয়ার সময় বিশ্বের সবচেয়ে কনিষ্ঠ সরকার প্রধান ছিলেন তিনি। এখন এই খেতাব চিলির প্রেসিডেন্ট গ্যাব্রিয়েল বরিকের দখলে।

সানা মারিন খুব স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পছন্দ করেন। পার্টি করার কোনো তথ্য গোপন রাখেন না তিনি এবং প্রায়শই সঙ্গীত উৎসবে তাকে দেখা যায়। গত বছর করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্যক্তির সংস্পর্শে আসার পর ক্লাবে গিয়ে পার্টি করার কারণে তিনি ক্ষমাও চেয়েছিলেন।

Finland’s Prime Minister @MarinSanna is in the headlines after a video of her partying was leaked today.She has previously been criticized for attending too many music festivals & spending too much on partying instead of ruling.The critics say it’s not fitting for a PM. pic.twitter.com/FbOhdTeEGw

— Visegrád 24 (@visegrad24) August 17, 2022

সম্প্রতি জার্মান সংবাদমাধ্যম বিল্ড মারিনকে বিশ্বের আকর্ষণীয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে অভিহিত করে।

ফাঁস হওয়া ভিডিও নিয়ে বৃহস্পতিবার (১৮ আগস্ট) এক মন্তব্যে ফিনিশ প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভিডিও করার কথা জানতেন তিনি। কিন্তু ভিডিও প্রকাশ্যে আসায় হতাশ হয়েছেন তিনি।

দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা রেখে পার্টি করা নিয়ে আলোচনার ঝড় বইছে প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে। তবে ফিনিশ প্রধানমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমার একটি পারিবারিক জীবন, একটি কর্মজীবন রয়েছে। বন্ধুদের সঙ্গে কাটানোর মতো সময় আমার আছে। যা আমার বয়সী একজন মানুষের প্রয়োজন’।

তিনি আরও বলেন, আচরণে পরিবর্তন করার কোনও প্রয়োজনীয়তা তিনি অনুভব করছেন না। সানা মারিন বলেন, এখন পর্যন্ত আমি যেমন মানুষ আছি সেটিই থাকবো এবং আশা করি তা গ্রহণযোগ্য হবে সবার কাছে।

সূত্র: এএফপি, এনডিটিভি

এসএনআর/জেআইএম