৫৮২ জন আমানতকারীকে প্রায় চার কোটি টাকা ফেরত দেবে অনিয়ম-আর্থিক দুর্নীতি ও খেলাপির দায়ে অভিযুক্ত আর্থিক প্রতিষ্ঠান পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড (পিএলএফএসএল)। আদালতকে এ তথ্য জানিয়েছেন প্রতিষ্ঠানটির পরিচালনা বোর্ডের আইনজীবী ব্যারিস্টার মেজবাহুর রহমান।
সোমবার (২৯ আগস্ট) বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের একক বেঞ্চে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
ব্যারিস্টার মেজবাহুর রহমান গণমাধ্যমকে জানান, আমানতকারীদের অর্থ ফেরত দেওয়া শুরু করেছে আর্থিক প্রতিষ্ঠান পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড (পিএলএফএসএল) দায়িত্বরতরা উচ্চ আদালতের অনুমতি নিয়ে এখন পর্যন্ত ১৪ কোটি এক লাখ ১২হাজার টাকা ফেরত দিয়েছে। । এর ধারাবাহিকতায় সোমবার (২৯ আগস্ট) প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে আরো ৩ কোটি ৭০ লাখ ৫৮ হাজার ৭৩৯ টাকা ফেরত দেওয়ার অনুমতি নিয়েছেন আইনজীবীর মাধ্যমে।
তিনি আরও জানান, পিপলস লিজিংয়ে ৬০০ এর বেশি আমানতকারী রয়েছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ৫৮২ জন ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী যারা পিপলস লিজিংয়ে ১ লাখ টাকা পর্যন্ত রেখেছিলেন তাদের অর্থ ফেরত দেওয়া হবে। তাদের ৩ কোটি ৭০ লাখ ফেরত দেবে পিপলস লিজিং।
জানা গেছে, এরই মধ্যে মানবিক বিবেচনায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আমানতকারীদের ১৪ কোটি ৯১ লাখ টাকা পরিশোধ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
এরপর গত বছরের ২৮ জুন আদালত পিপলস লিজিং পুনরুজ্জীবিত করার আদেশ দেন। এর পরে ওই বছরের ১৩ জুলাই পি কে হালদার অর্থ কেলেঙ্কারি নিয়ে আলোচনায় আসা আর্থিক প্রতিষ্ঠান পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড পরিচালনার জন্য ১০ সদস্যর পরিচালনা পরিষদ তথা বোর্ড পুনর্গঠন করে দেন হাইকোর্ট।কামাল উল আলমকে বোর্ডের চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।এরপর ঋণ খেলাপিদের আদালতে হাজির হতে বলেন। অনেকে হাজির হন। কিন্তু যারা হাজির হননি তাদের আটক করে হাজিরের নির্দেশ দিয়েছিলেন হাইকোর্ট।
এরই মধ্যে স্বাস্থ্যগত কারণে গত ১ জুন বোর্ডের চেয়ারম্যান পদ থেকে পদত্যাগ করেন কামাল উল আলম। এরপর অবসরে থাকা জেলা ও দায়রা জজ (অব.) হাসান শাহেদ ফেরদৌসকে তার স্থলাভিষিক্ত করা হয়।
গত বছরের ২১ জুন ২০১ জন আমানতকারী পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড পুনর্গঠন চেয়ে আবেদন করেন। পরে আদালত তাদের কাছে এ বিষয়ে বক্তব্য শোনেন।
২০১৯ সালের ১৪ জুলাই পিপলস লিজিং অবসায়নের জন্য আদালতে মামলা করে বাংলাদেশ ব্যাংক। ওই দিনই মামলার শুনানি শেষে অবসায়নের পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেন আদালত। এছাড়া অবসায়ন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগের উপ-মহাব্যবস্থাপক পদমর্যাদার একজনকে অবসায়ক নিয়োগ দিতে বলা হয়। পরে সাময়িক অবসায়ক হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও বাজার বিভাগের উপমহাব্যবস্থাপক আসাদুজ্জামান খানকে নিয়োগ দিয়েছিলেন কেন্দ্রীয় ব্যাংক।
পরে ২০১ জন আমানতকারী একটি আবেদন করেছিলেন। আবেদনে তারা বলেছেন, পিপলস লিজিংকে রিভাইভ বা রিকনস্ট্রাক্ট করা। এর পরিপ্রেক্ষিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের বক্তব্য শোনার পর আদালত সিদ্ধান্ত নিয়েছেন পিপলস লিজিং রিভাইভ করা হবে।
পিপলস লিজিংয়ের আইনজীবী ব্যারিস্টার মেজবাহুর রহমান জানান,আদালত গঠিত বোর্ড ইতিমধ্যে অনেক কাজ করেছেন। তার ধারাবাহিকতায় ১ লাখ টাকা পর্যন্ত ৫৮২ জন ক্ষুদ্র আমানতকারীর টাকা পিপলস লিজিংয় ফেরত দিয়ে দিবে। মোট টাকা ৩ কোটি ৭০ লাখ ৫৮ হাজার ৭৩৯ টাকা। হাইকোর্ট আজকে এটার পারমিশন দিয়েছেন।
এর আগে হাইকোর্টের আদেশ ছিলো মানবিক কারণে কোনো কোনো আমানতকারীর টাকা ফেরত দিতে পারবে বোর্ড। যেমন মুক্তিযোদ্ধা, বৃদ্ধ,অসুস্থ ইত্যাদি। এই আদেশ অনুসারে ১৪ কোটি ৯১ লাখ ১২ হাজার টাকা ইতিমধ্যে দেওয়া হয়েছে।
এফএইচ/এমকেআর/এএসএম