শ্রম আইন লঙ্ঘনের মামলা কেন বাতিল করা হবে না, এ মর্মে জারি করা রুল খারিজ করে দেন হাইকোর্ট। এ রায়ের বিরুদ্ধে আপিল আবেদন করেছেন গ্রামীণ টেলিকমের চেয়ারম্যান ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তার এ আবেদন আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চে শুনানির জন্য আগামী ১৭ অক্টোবর দিন ঠিক করেছেন চেম্বারজজ আদালত।
বুধবার (৩১ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহীমের চেম্বারজজ আদালত এ আদেশ দেন।
আদালতে আজ রাষ্ট্রপক্ষের শুনানিতে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন। ড. ইউনূসের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মামুন। তার সঙ্গে ছিলেন ব্যারিস্টার খাজা তানভীর আহমেদ। অন্যদিকে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তরের পক্ষে ছিলেন সিনিয়র আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান।
ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মামুন বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেন।
গত ২৪ আগস্ট সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ বিষয়ে লিভ টু আপিল আবেদন করেন ড. ইউনূসের আইনজীবী ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মামুন।
এর আগে ১৭ আগস্ট শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে করা মামলা কেন বাতিল হবে না মর্মে জারি করা রুল খারিজ করে দেন হাইকোর্ট। সেই আদেশের বিরুদ্ধে আপিল করেন ড. ইউনূস।
গত ১৩ জুন শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বিরুদ্ধে করা মামলার কার্যক্রম দুই মাস স্থগিত থাকবে বলে আদেশ দেন আপিল বিভাগ। একই সঙ্গে এসময়ের মধ্যে শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে করা মামলা কেন বাতিল হবে না, এ মর্মে জারি করা রুল নিষ্পত্তি করতে নির্দেশ দেওয়া হয়। আপিল বিভাগের আদেশে রুল শুনানি শেষে খারিজ করে দেন আদালত।
গত বছরের ৯ সেপ্টেম্বর শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ চারজনের বিরুদ্ধে মামলা করে ঢাকার কল কারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তর। ঢাকার তৃতীয় শ্রম আদালতে এ মামলা করেন অধিদপ্তরের শ্রম পরিদর্শক আরিফুজ্জামান। এরপর বিবাদীদের আদালতে হাজির হওয়ার জন্য সমন জারি করেন আদালত।
মামলার অন্য আসামিরা হলেন গ্রামীণ টেলিকমের এমডি আশরাফুল হাসান, পরিচালক নুর জাহান বেগম ও শাহজাহান। এ তিন আসামি পৃথকভাবে মামলার আবেদন করেন।
মামলার অভিযোগ থেকে জানা গেছে, কল কারখানা ও প্রতিষ্ঠান অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা ড. ইউনূসের গ্রামীণ টেলিকম পরিদর্শনে যান। সেখানে গিয়ে তারা শ্রম আইনের কিছু লঙ্ঘন দেখতে পান। এর মধ্যে ১০১ জন শ্রমিক-কর্মচারীকে স্থায়ী করার কথা থাকলেও তাদের স্থায়ী করা হয়নি।
শ্রমিকদের অংশগ্রহণে তহবিল ও কল্যাণ তহবিল গঠন করা হয়নি। এছাড়া কোম্পানির লভ্যাংশের ৫ শতাংশ শ্রমিকদের দেওয়ার কথা থাকলেও তা তাদের দেওয়া হয়নি। এসব অভিযোগের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইনে এ মামলা করা হয়।
এফএইচ/এএএইচ/এএসএম