দেশজুড়ে

সরকারিভাবে এক কেজি ধানও সংগ্রহ হয়নি নওগাঁর ৪ উপজেলায়

নওগাঁয় সরকারিভাবে চাল সংগ্রহ ঠিক থাকলেও ধানে অনেকটা ব্যর্থ হয়েছে খাদ্য বিভাগ। চলতি বছরের ২৮ এপ্রিল থেকে ইরি-বোরো মৌসুমে ধান-চাল সংগ্রহ অভিযান শুরু হয়ে ৩১ আগস্ট শেষ হয়।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্র জানায়, ৪০ টাকা কেজি দরে জেলার ১১ উপজেলা থেকে চাল সংগ্রহ শুরু হয়। জেলায় চালের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৫৩ হাজার ৩২ টন। এর মধ্যে অর্জিত হয়েছে ৪৬ হাজার ৮০৪ দশমিক শূন্য ২৩০ টন। ৩৯ টাকা কেজি দরে আতপ চালের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয় ৮৩৯ টন। সংগ্রহ হয়েছে ৭০৩ দশমিক ৬৭০ টন।

অপরদিকে ২৭ টাকা মূল্যে এ মৌসুমে ২৬ হাজার ৩৪ টন। যেখানে সংগ্রহ হয়েছে মাত্র এক হাজার ১৪০ দশমিক ৪০০ টন। জেলায় চার উপজেলায় কোনো ধানই সংগ্রহ হয়নি।

সূত্র আরও জানায়, সদর উপজেলায় দুই হাজার ৪৪৮ টনের মধ্যে সংগ্রহ হয়েছে ৩৭৮ দশমিক ৯২০ টন। আত্রাই উপজেলায় দুই হাজার ৫৫২ টনের মধ্যে সংগ্রহ হয়েছে ২৫৫ দশমিক ৩২০ টন। রানীনগরে দুই হাজার ৫৮০ টনের মধ্যে সংগ্রহ হয়েছে ১ দশমিক ৮৮০ টন। মান্দা উপজেলায় দুই হাজার ৭১৭ টনের মধ্যে সংগ্রহ হয়েছে ৬৬ দশমিক ৬৪০ টন। বদলগাছীতে এক হাজার ৬১২ টনের মধ্যে সংগ্রহ হয়েছে ৫৫ টন।

নিয়ামতপুর উপজেলায় তিন হাজার ৯৪ টনের মধ্যে সংগ্রহ হয় ২৫৪ টন। পোরশায় এক হাজার ১২৫ টনের মধ্যে সংগ্রহ হয় ১২৮ দশমিক ৬৪০ টন। সাপাহার উপজেলায় ৮০৩ টন ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও কোনো ধানই সংগ্রহ হয়নি।

এছাড়া মহাদেবপুরে তিন হাজার ৯০০ টন, পত্মীতলায় দুই হাজার ৬৮৯ টন ও ধামইরহাটে দুই হাজার ৫১৪ টন লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও এসব উপজেলায় কোনো ধান সংগ্রহ হয়নি।

সদর উপজেলার পাহাড়পুর গ্রামের কৃষক খন্দকার রেজাউল বলেন, লটারিতে নাম না উঠায় আমরা ধান দিতে পারি না। আবার অনেক সময় আমরা জানতেই পারি না কখন গুদামে ধান সংগ্রহ করা হয়। কিন্তু কিছু ব্যক্তি কৃষকদের কৃষি কার্ড সংগ্রহ করে তারা গুদামে ধান সরবরাহ করেন। এতে করে আমরা ধানের ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হই।

বদলগাছী উপজেলার কোমারপুর গ্রামের কৃষক তোফাজ্জল হোসেন বলেন, গুদামে ধান দিতে গিয়ে নানা বিড়ম্বনার মধ্যে পড়তে হয়। ঘুসের টাকা না দিলে গুদামে ধান দেওয়া সম্ভব হয় না। এর চেয়ে খোলা বাজারে বিক্রি করলে ঝামেলা মুক্ত।

মহাদেবপুর উপজেলার মোহরপুর গ্রামের কৃষক জামাল হোসেন বলেন, প্রতি বিঘায় ১৫-২০ মণ ধানের ফলন পাওয়া যায়। মৌসুমের শুরুতে ধানের দাম ১১০০-১২০০ টাকা। তারপর ১৫-২০ দিন পর ১৩০০-১৪৫০ টাকা বিক্রি হয়। এখন পুরনো ধানের দাম কাটারি ও মিনিকেট ১৫০০-১৬০০ টাকা ও পারিজা ১১০০ টাকা মণ বিক্রি হচ্ছে।

নওগাঁ সদর উপজেলার খাদ্য পরিদর্শক মাসুদ রানা বলেন, অ্যাপের মাধ্যমে ধান সংগ্রহ করা হয়েছে। লক্ষ্যমাত্রা দুই হাজার ৪৪৮ টন হলেও সংগ্রহ হয়েছে ৩৭৮ দশমিক ৯২০ টন। যেহেতু সরকারি একটা মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছিল।

জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আলমগীর কবীর বলেন, প্রথমদিকে খোলা বাজারে ধানের দাম কম থাকলেও পরে বাড়তে থাকে। যে সময়ে বাজারে ধানের দাম কম ছিল তখন কিছু কৃষক গুদামে ধান দিয়েছেন। সরকারি দামের সঙ্গে খোলা বাজারে ধানের দাম সামঞ্জস্য না থাকায় সংগ্রহ অভিযান সফল করা সম্ভব হয়নি। কৃষকরা খোলা বাজারে বেশি দামে ধান বিক্রি করেছে।

আব্বাস আলী/আরএইচ/জেআইএম