যশোরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর সমাবেশ ঠেকাতে জেলা যুবলীগের একাংশ পাল্টা সমাবেশ করেছে। পাল্টা সমাবেশকে কেন্দ্র করে পৌর শহরে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
বৃহস্পতিবার (১ সেপ্টেম্বর) দুপুর থেকে রাত পর্যন্ত শহরে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা বিরাজ করে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। বিএনপির সভা থেকে চাকুসহ তিনজনকে আটক করা হয়। তবে তাদের নাম-পরিচয় জানা যায়নি। এছাড়া উভয়পক্ষের সভা-সমাবেশস্থল থেকে ৩০০-৪০০ লাঠি-বাঁশ জব্দ করেছে পুলিশ।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার বিকেলে বিএনপি ৪৪তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে পূর্বনির্ধারিত আলোচনা সভা ও দোয়া মাহফিলের কর্মসূচি শুরু করে। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন দলটি খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। এর ৪০০ গজ দূরেই আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ের নিচে যশোরে বিএনপিকে রাজপথে নামতে না দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে জেলা যুবলীগের ব্যানারে সমাবেশ শুরু হয়।
যুবলীগের সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনটির সহসভাপতি সৈয়দ মেহেদী হাসান। সড়কের ওপরে সমাবেশ করায় শহরের গাড়িখানায় যানজটের সৃষ্টি হয়। দুটি কর্মসূচি ঘিরে শহরে উত্তেজনা দেখা দেয়। দুই দলেরই নেতাকর্মীরা শহরের বিভিন্ন ওয়ার্ড থেকে মিছিল সহকারে জমায়েত হন গাড়িখানাস্থ আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় চত্বরে ও লালদীঘিস্থ বিএনপির দলীয় কার্যালয়ে। উভয় দলের বক্তারা একে অপরকে উদ্দেশ্য করে বক্তব্য দেন।
যুবলীগের সমাবেশে আসা ছাত্রলীগ-যুবলীগের নেতাকর্মীদের হাতে লাঠি-ক্রিকেট স্ট্যাম্প নিয়ে মহড়া দিতে দেখা গেছে। অন্যদিকে বিএনপির সভাস্থলেও বিএনপির নেতাকর্মীদের দলীয় পতাকার সঙ্গে লাঠি-বাঁশ নিয়ে মহড়া দিতে দেখা যায়। পরে পুলিশের একটি টহল টিম উভয় দলের কাছ থেকে লাঠি-বাঁশ জব্দ করে পুলিশের গাড়িতে জমা রাখে। এ সময় বিএনপির সভা থেকে চাকুসহ তিনজনকে আটক করা হয়।
এ বিষয়ে সদর উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান ও জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আনোয়ার হোসেন বিপুল বলেন, সারাদেশে বিএনপি নৈরাজ্য ও যশোরে বিশৃঙ্খলা করার প্রতিবাদে আমরা সমাবেশ করেছি। যশোরে বিএনপির সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করবে যুবলীগ।
বিএনপির খুলনা বিভাগীয় ভারপ্রাপ্ত সাংগঠনিক সম্পাদক অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, যাদের মধ্যে রাজনৈতিক শিষ্টাচারের অভাব তারাই পাল্টা কর্মসূচি দেয়। রাজনীতিকে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতেই এরকম কর্মসূচি তারা পালন করছে।
যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তাজুল ইসলাম বলেন, বিএনপি ও যুবলীগের কর্মসূচিতে শহরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। শহরে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। বিএনপি সমাবেশ স্থল থেকে তিনজনকে চাকুসহ আটক করেছে পুলিশ। এছাড়া দুটি সমাবেশ থেকে ৩০০-৪০০ লাঠি-বাঁশ জব্দ করা হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা স্বাভাবিক রয়েছে।
মিলন রহমান/এসজে/এমএস