দেশজুড়ে

৩০ টাকা কেজি চাল: কেউ পাচ্ছেন ৩০ কেজি, কেউ ৬০

খোলা বাজারে খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির (ওএমএস) চাল বিক্রিতে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের ভাইয়ের বিরুদ্ধে। একজনকে ৩০ টাকা দরে সর্বোচ্চ পাঁচ কেজি চাল দেওয়ার নিয়ম থাকলেও সেটা মানছেন না তিনি। ১০-৬০ কেজি পর্যন্ত চাল দিচ্ছেন তিনি।

সোমবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকালে সরেজমিনে উপজেলার মাওনা উত্তরপাড়া এলাকায় ডিলার রাশেদুল ইসলামের দোকানে গেলে এমনটা দেখা যায়।

ডিলারের সামনেই কথা হয় সমিরণ নামের এক নারীর সঙ্গে। তিনি বলেন, ‘গতকাল দুই বস্তা (৬০ কেজি) চাল নিয়েছিল আমার ছেলে। আজকে আমি আসছি দুই বস্তা নিতে।’

আলেয়া বেগম নামে আরেক নারী বলেন, ‘প্রথমে ৩০০ টাকায় ১০ কেজি চাল নিয়েছিলাম। পরে আবার এক হাজার টাকায় ৩০ কেজি নিলাম।’

সবাইকে বেশি পরিমাণ চাল দেওয়া হচ্ছে কি-না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘হাতে করে বস্তা নিয়ে গেলে তাতে দেয়। তবে সরকারি বস্তায় দেয় না।’

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিলার রাশেদুল ইসলাম নিজেকে উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান লুৎফুর নাহার মেজবাহর ছোট ভাই পরিচয় দেন। তবে অনিয়মের বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে লুৎফর নাহার সংবাদ প্রকাশ না করার অনুরোধ জানান। তিনি বলেন, ‘ভাই এটা মান সম্মানের বিষয়।’

চাল বিতরণে গঠিত ট্যাগ কমিটির সদস্য ও উপজেলা সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা হারুনুর রশিদ জাগো নিউজকে বলেন, ‘একজনকে পাঁচ কেজির বেশি চাল দেওয়ার নিয়ম নাই। আমি ঘটনাস্থলে যাচ্ছি। তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

শ্রীপুর উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক রাহাতুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, ‘বিষয়টি শোনার পরই সংশ্লিষ্ট ডিলারকে সতর্ক করে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। পরবর্তীতে এ ধরনের অনিয়ম পেলে তার ডিলারশিপ বাতিল করা হবে।’

এসজে/এএসএম