দেশজুড়ে

ফুলগাজীতে মুহুরী নদীর বাঁধের দুই স্থানে ভাঙন

ফেনীর ফুলগাজীতে মুহুরী নদী রক্ষা বাঁধের দুই স্থানে ভাঙন দেখা দিয়েছে। রোববার রাতে ও সোমবার ভোরে নদীর পানি বিপৎসীমার ৮৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় এ ভাঙণের সৃষ্টি হয়। এতে করে উপজেলার উত্তর দৌলতপুর ও দক্ষিণ দৌলতপুর এলাকার বিস্তীর্ণ ফসলি জমি তলিয়ে গেছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, রোববার সন্ধ্যা থেকে পাহাড়ি ঢলের পানি মুহুরী নদীতে বাড়তে থাকে। ওই সময়ে মুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার ৮৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে থাকে। পানির প্রবল চাপে মুহুরী নদী রক্ষা বাঁধে ঝুঁকি সৃষ্টি হয়। সোমবার ভোর ৪টার দিকে উত্তর দৌলতপুর এলাকার বাহার মিয়ার স্কিম সংলগ্ন স্থানে বাঁধ ভেঙে লোকালয়ে পানি প্রবেশ করতে থাকে।

এরপর সকাল সাড়ে ৮টার দিকে দক্ষিণ দৌলতপুর এলাকার সেকান্তর মাস্টার বাড়ি সংলগ্ন স্থানে বেড়িবাঁধে ভাঙন দেখা দেয়। বাঁধভাঙ্গা পানি ঢুকে আশপাশের বাড়িঘর, ফসলি জমি ডুবিয়ে দেয়। তবে সোমবার দুপুরের দিকে পানির চাপ কমতে শুরু করে। এসময় ১০০ সেন্টিমিটার বিপৎসীমার নিচে পানির প্রবাহ রেকর্ড করে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাসুদ রানা জানান, উপজেলার দুটি স্থানে নদী রক্ষা বাঁধের ভাঙনে অন্তত ৫০ হেক্টর আমন জমিতে পানি ঢুকে পড়েছে। পানি জমে থাকলে অথবা পানির চাপ না কমলে এসব জমির ফসল নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

ফুলগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আশরাফুন নাহার জানান, খবর পেয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিসহ ক্ষতিগ্রস্ত স্থান পরিদর্শন করা হয়েছে। পানি নামতে শুরু করেছে। শিগগির ক্ষতিগ্রস্ত স্থান মেরামত করা হবে।

ফেনী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী জহির উদ্দিন জানান, রোববার রাত থেকে প্রায় ১৬ ঘণ্টা ধরে মুহুরী নদীর পানি বিপৎসীমার ৮৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। এসময় উত্তর দৌলতপুর ও দক্ষিণ দৌলতপুরের দুটি স্থানে বেড়িবাঁধে ভাঙন দেখা দেয়। তবে সোমবার দুপুরের পর থেকে পানি বিপৎসীমার ১০০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে যাচ্ছে।

আবদুল্লাহ আল-মামুন/এমআরআর/এএসএম