কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক হাফিজ শেখ চ্যালেঞ্জের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার পাচ্ছেন না এক নেত্রী। তিনদিনেও পুলিশ অভিযোগটি মামলা হিসেবে রেকর্ড করেনি। উল্টো থানায় অভিযোগ দেওয়ার পর থেকে তার জীবন বিপন্ন হয়ে উঠেছে। দফায় দফায় তাকে হত্যার হুমকি দেওয়া হচ্ছে। নিরাপত্তাহীনতায় তার জীবন কাটছে।
বুধবার (২১ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টায় কুষ্টিয়া শহরের একটি রেস্টুরেন্টে সংবাদ সম্মেলন করে এসব অভিযোগ তোলেন ওই ছাত্রলীগ নেত্রী।
তিনি বলেন, ‘আমার মান-সম্মান সব কিছুই আজ হাফিজ শেখ চ্যালেঞ্জের কারণে ধুলায় মিশে গেছে। এর যদি কোনো প্রতিকার না পাই তাহলে আমার আত্মহত্যা ছাড়া আর কোনো উপায় থাকবে না। আমি যদি আত্মহত্যা করতে বাধ্য হই তাহলে এর জন্য হাফিজ শেখ ও পুলিশ প্রশাসন দায়ী থাকবে।’
এদিকে ছাত্রলীগ নেত্রীর অভিযোগ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত দাবি করে পাল্টা সংবাদ সম্মেলন করেছেন সাধারণ সম্পাদক শেখ হাফিজ চ্যালেঞ্জ। বেলা ১১টার দিকে বঙ্গবন্ধু সুপার মার্কেটের চতুর্থ তলায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি আতিকুর রহমান অনিকও উপস্থিত ছিলেন। এ সময় ওই ছাত্রলীগ নেত্রীর মাদকের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা ছাড়াও বিভিন্ন পুরুষের সঙ্গে তার অনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে বলে দাবি করেন তারা।
হাফিজ চ্যালেঞ্জ বলেন, করোনাকালে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নিঃস্বার্থভাবে আমি ও আমার দলের নেতাকর্মীরা হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে মাসের পর মাস স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে সেবা দিয়েছি। শুধু তাই নয়, অসহায়-দরিদ্র মানুষকে ত্রাণ সহায়তা দিয়েছি। কৃষকের মাঠের ধান কেটে মাড়াই করে ঘরে তুলে দিয়েছি। কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে টেন্ডার, হাট-ঘাট, বালু উত্তোলন, চাঁদাবাজিসহ কোনো অভিযোগ আজ পর্যন্ত কেউ দিতে পারেনি। ছাত্রলীগ এসব অপরাধের সঙ্গে যুক্ত নয়। পরিচ্ছন্ন ও পরিশ্রমী ছাত্রলীগ নেতাদের চরিত্র হননের অপচেষ্টা করছে।
জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আতিকুর রহমান অনিক বলেন, ওই নেত্রীর বিরুদ্ধে বহু অভিযোগ আমরা পেয়েছি। তার জন্য ছাত্রলীগের সুনাম নষ্ট হচ্ছে। সে ষড়যন্ত্রমূলক, মিথ্যা ও ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলেছে ছাত্রলীগের নেতাদের বিরুদ্ধে। আমরা তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেবো।
এর আগে হাফিজ শেখ চ্যালেঞ্জের বিরুদ্ধে শ্লীলতাহানির চেষ্টা, দফায় দফায় কুপ্রস্তাব ও হত্যার হুমকির অভিযোগ এনে ১৯ সেপ্টেম্বর কুষ্টিয়া মডেল থানায় লিখিত দেন ওই নেত্রী। ওই অভিযোগ পত্রে চ্যালেঞ্জ ছাড়াও আরও তিন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করা হয়। তার কিছু ছবি এডিট করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়ার অভিযোগ এনে পরের দিন আরও ছয় ছাত্রলীগ নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে থানায় আরও একটি লিখিত অভিযোগ দেন।
আল-মামুন সাগর/এসজে/জিকেএস