আইন-আদালত

মুন্সিগঞ্জে সংঘর্ষ: বিএনপির ১৩৯ নেতাকর্মীর জামিন মঞ্জুর

মুন্সিগঞ্জে বিএনপি-পুলিশ সংঘর্ষের ঘটনায় করা পৃথক দুই মামলায় বিএনপির ১৩৯ নেতাকর্মীর আগাম জামিন মঞ্জুর করেছেন হাইকোর্ট। এদের মধ্যে দলের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, সমাজকল্যাণ সম্পাদক ও জেলা বিএনপির সদস্য সচিব কামরুজ্জামান রতন ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক বেনজীর আহমেদ টিটো রয়েছেন।

Advertisement

তাদেরকে ছয় সপ্তাহের আগাম জামিন দিয়ে বিচারিক আদালেতে আত্মসমর্পণের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। জামিনের বিষয়টি আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. কামাল হোসেন ও অ্যাডভোকেট রোকনুজ্জামান জাগো নিউজকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তবে, বিএনপির কেন্দ্রীয় আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল সাংবাদিকদের জানিয়েছেন মুন্সিগঞ্জে সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় মোট ১৫৩ জনকে জামিন হয়েছে।

জামিন আবেদনের বিষয়ে শুনানিন নিয়ে বুধবার (২৮ সেপ্টেম্বর) হাইকোর্টের বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি মো. খায়রুল আলমের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ তাদের জামিন মঞ্জুর করে আদেশ দেন।

আদালতে আজ জামিন আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন সুপ্রিমকোর্ট বারের সাবেক সভাপতি ও বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যন অ্যাডভোকেট এজে মোহাম্মদ আলী, আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, বিএনপির সুপ্রিম কোর্ট ইউনিটের সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল জব্বার ভুইয়া, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ও সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আলী, অ্যাডভোকেট মনিরুজ্জামান আসাদ, ব্যারিস্টার শফিউল আলম মাহমুদ, মো. কামাল হোসেন, অ্যাডভোকেট রোকনুজ্জামান সুজা, এআর খান পাঠান শায়ের আলী, অ্যাডভোকেট মাসকসুদ উল্লাহ, অ্যাডভোকেট শফিকুল ইসলাম শফিক, অ্যাডভোকেট সালেহ উদ্দীন সম্রাট ও অ্যাডভোকেট উজ্জল হোসেন। এ সময় আদালতে জামিনপ্রাপ্তরাও উপস্থিত ছিলেন।

Advertisement

এর আগে সোম ও মঙ্গলবার (২৬ ও ২৭ সেপ্টেম্বর) দুদিনে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় মুন্সিগঞ্জে সংঘর্ষের ঘটনায় করা মামলায় বিএনপির তিন শতাধিক নেতাকর্মীর আগাম জামিন চেয়ে আবেদন করা হয়।

জামিন আবেদনকারীদের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. কামাল হোসেন মঙ্গলবার (২৭ সেপ্টেম্বর) জাগো নিউজকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তিনি জানান, মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলার মুক্তারপুর পুরোনো ফেরিঘাট এলাকায় বিএনপি ও পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনায় দুটি পৃথক মামলা হয়। এতে বিএনপি নেতাকর্মীদের আসামি করা হয়েছে। সোম ও মঙ্গলবার দুই দফায় আমরা তিনশতাধিক আসামির আগাম জামিন আবেদন করেছি।

জ্বালানি তেলসহ নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং ভোলা ও নারায়ণগঞ্জে বিএনপির তিন নেতাকর্মী নিহতের প্রতিবাদে মুন্সিগঞ্জের মুক্তারপুরে বিক্ষোভ কর্মসূচি করে বিএনপি। ওইদিন বিকেল ৩টার দিকে পূর্বনির্ধারিত কর্মসূচিতে যোগ দিতে বিভিন্ন উপজেলা থেকে আসা নেতাকর্মীরা মুক্তারপুর মোড়ে জড়ো হতে থাকেন। পুলিশ বাধা দিলে তারা মুক্তারপুর থেকে ট্রাকে পুরোনো ফেরিঘাট এলাকায় যান।

Advertisement

সেখানে বিভিন্ন এলাকা থেকে ছোট ছোট মিছিল নিয়ে নেতাকর্মীরা আসতে শুরু করেন। এসময় সদর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মিনহাজুল ইসলাম একটি মিছিলের ব্যানার ধরে টান দিলে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।

এ সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন পুলিশ সদস্য ও বিএনপির অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী আহত হন। তাদের মধ্যে শহিদুল ইসলাম সাওন নামে যুবদলকর্মী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।

গত ২২ সেপ্টেম্বর মুন্সিগঞ্জ সদর উপজেলায় বিএনপি-পুলিশের সংঘর্ষের ঘটনায় দলটির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দুটি পৃথক মামলা হয়।

মামলা দুটিতে এক হাজার ৩৬৫ জনকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে বিএনপির নেতাকর্মী ও অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি আছেন। দুটি মামলায় ২৬ জনকে গ্রেঢতার করে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

পুলিশ জানায়, একটি মামলায় মুন্সিগঞ্জ সদর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মাইনউদ্দিন বাদী হয়ে সরকারি অস্ত্র, গুলি লুট ও মোটরসাইকেল পোড়ানোর অভিযোগে ৩১৩ জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতপরিচয় ৭০০ থেকে ৮০০ জনকে আসামি করে মামলা করেন।

এ মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে জেলা বিএনপির সদস্যসচিব কামরুজ্জামান রতনকে। মামলায় ২৪ জনকে গ্রেফতার দেখিয়ে এরই মধ্যে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

এফএইচ/কেএসআর/জিকেএস