জাতীয়

প্রশ্নের জন্য শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অভিভাবকরাও টাকা দিতেন

‘চলতি এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্নপত্র লাগবে কি না জানতে চেয়ে ফেসবুক পেজ ও গ্রুপে একটি পোস্ট দেওয়া হয়েছিল। সেখানে প্রশ্নপত্র নিতে আগ্রহীদের ইনবক্সে যোগাযোগ করতে বলা হয়। প্রশ্ন দেওয়ার আগে চক্রের সদস্যরা মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে নেয়। টাকার বিনিময়ে প্রশ্ন পেতে ছাত্রদের পাশাপাশি অভিভাবকরাও যোগাযোগ করেন।’

Advertisement

শনিবার (১ অক্টোবর) বিকেলে জাগো নিউজকে এ তথ্য জানান গোয়েন্দা লালবাগ বিভাগের সংঘবদ্ধ অপরাধ ও গাড়ি চুরি প্রতিরোধ টিমের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) মধুসূদন দাস।

তিনি বলেন, গত বৃহস্পতিবার (২৯ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর উত্তরা পূর্ব থানার আজমপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে এসএসসির ভুয়া প্রশ্নফাঁস চক্রের সদস্য মনজির আহমেদ মিশু ওরফে মাসুম মোল্লা (২২) ও মো. শমেস আহমেদ ওরফে সাব্বিরকে (২০) গ্রেফতার করা হয়। তারা দুজনেই এসএসসি পাস। কয়েক বছর আগে তারা ফেসবুক গ্রুপ থেকে ভুয়া প্রশ্নপত্র কিনে এসএসসি পরীক্ষা দেন। ভুয়া প্রশ্নপত্র কিনে টাকা খুইয়ে নিজেরাই জড়িয়ে পড়েন প্রতারণার সঙ্গে।

আরও পুড়ন >> এসএসসির ভুয়া প্রশ্নফাঁস চক্রের দুজন রিমান্ডে

Advertisement

গুগল থেকে আগের বছরের এসএসসি পরীক্ষার প্রশ্ন ডাউনলোডের পর এডিট করতো চক্রটি। এরপর চলতি বছরের প্রশ্ন বলে ফেসবুকের বিভিন্ন পেজ ও গ্রুপে পোস্ট দিয়ে আগ্রহীদের ইনবক্সে যোগাযোগ করতে বলা হয়। সেই অনুযায়ী যারা যোগাযোগ করেন তাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেয় চক্রটি। গ্রেফতারদের মোবাইল ব্যাংকিং পর্যালোচনা করে দেখা গেছে— চলতি এসএসসি পরীক্ষায় তাদের মোবাইল ব্যাংকিংয়ে অর্ধশতাধিক লেনদেন হয়েছে।

মধুসূদন দাস বলেন, প্রশ্নপত্র লাগবে জানিয়ে শিক্ষার্থী সেজে একটি গ্রুপে যোগাযোগ করে গোয়েন্দা পুলিশ। চক্রটি প্রশ্ন দিয়ে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকাও নেয়। পরে অবস্থান শনাক্ত করে রাজধানীর উত্তরা থেকে তাদের গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার এড়াতে ফেক আইডি দিয়ে মোবাইল ব্যাংকিং আ্যকাউন্ট খোলেন তারা।

যেসব অভিভাবক প্রশ্ন পেতে লেনদেন করেছেন তাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে বলেও জানান এ গোয়েন্দা কর্মকর্তা।

টিটি/এমএএইচ/জেআইএম

Advertisement