লক্ষ্মীপুরে যুবলীগ নেতা মো. আলাউদ্দিন পাটোয়ারীকে (৪৫) গুলি করে হত্যার ঘটনায় স্থানীয় বিএনপিকে দায়ী করা হচ্ছে। শনিবার (১ অক্টোবর) বিকেলে আলাউদ্দিনের মরদেহের দ্বিতীয় নামাজের জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে। এতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিপুল সংখ্যক লোক মানুষ নেয়।
এর আগে সদর উপজেলার বশিকপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সহ-সভাপতি আলাউদ্দিনকে শুক্রবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাত ১০টার দিকে স্থানীয় রশিদপুর গ্রামের পোদ্দার দিঘিরপাড়ে দুর্বৃত্তরা গুলি করে হত্যা করে।
এদিকে এ হত্যার ঘটনায় শনিবার রাত ৮টায় পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা হয়নি। ঘটনার সঙ্গে জড়িত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি বলেও জানিয়েছেন চন্দ্রগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোসলেহ উদ্দিন।
এদিকে এ হত্যাকে পরিকল্পিত দাবি করেন বিএনপিকে দায়ী করছেন জেলা আওয়ামী লীগ। তারা অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, ঘটনার সঙ্গে জড়িত সন্ত্রাসীদের দ্রুত গ্রেফতার করার জন্য স্থানীয় প্রশাসনকে আল্টিমেটাম দিয়েছেন। তবে বিএনপি নেতারা অভিযোগ অস্বীকার করে বলছেন, অভ্যন্তরীণ কোন্দলের জের ধরে এ হত্যার ঘটনা ঘটেছে। বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীর ফাঁসানোর জন্য চক্রান্ত চলছে।
দলীয় সূত্র জানায়, দুপুর ২টার দিকে পৌর শহরের আহম্মদীয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ও বিকেল ৫টায় রশিদপুর গ্রামের ঈদগাঁহ মাঠে নিহতের নামাজের জানাযা হয়। এতে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি গোলাম ফারুক পিংকু ও সাধারণ সম্পাদক নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন এমপিসহ জেলা ও উপজেলা ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের দায়িত্বশীল সিনিয়র নেতারা বক্তব্য রেখেছেন। দুপুরে পৌর শহরের বিক্ষোভ মিছিল হয়। এর আগে শুক্রবার দিবাগত মধ্যরাতে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা বিক্ষোভ মিছিল করেন।
আওয়ামী লীগ নেতা নুর উদ্দিন চৌধুরী নয়ন এমপি বলেছেন, বিএনপির সন্ত্রাসীরা আলাউদ্দিনকে হত্যা করেছে। তারা আত্মগোপন থেকে বেরিয়ে এটি করেছে। তারা বিভিন্ন সভা-সমাবেশে আমাদের নেতাকর্মীদের হুমকি দিচ্ছে। আমরা ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার ও অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের জন্য দাবি জানাচ্ছি।
লক্ষ্মীপুর জেলা বিএনপির যুগ্ম-আহবায়ক হাসিবুর রহমান বলেন, বিএনপি খুনের রাজনীতি করে না। আধিপত্য বিস্তার নিয়ে এ হত্যার ঘটনা ঘটেছে। বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীর ফাঁসানোর জন্য চক্রান্ত চলছে। এটি আওয়ামী লীগের পুরনো অভ্যাস।
কাজল কায়েস/আরএইচ/এমএস