দেশজুড়ে

বসার জন্য বিশেষ চেয়ার, সমাধান দিতেন সব সমস্যার

পেশায় একজন চিকিৎসক না হলেও নিজের নামের আগে লেখেন ‘ডা. শামসুদ্দিন’। যে চেয়ারে বসে চিকিৎসা দেন সেখানেও খোদাই করে লেখা ‘ডা. শামসুদ্দিন’। স্বামী-স্ত্রীকে বশে আনা, ছেলে বিদেশ যেতে না পারা, ছেলেকে বিয়ে করতে রাজি করানো, হোমিওপ্যাথি ও অ্যালোপ্যাথিসহ সবধরনের সমস্যার সমাধানের প্রতিশ্রুতি দিতেন তিনি।

চিকিৎসার নামে দেন তাবিজ, পানি পড়া ও রং মেশানো পানি। তবে শেষ রক্ষা হয়নি। অবশেষে তার প্রতারণা ধরা পড়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় চিকিৎসার নামে প্রতারণা করার অভিযোগে একজনকে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর।

বুধবার (১৯ অক্টোবর) বিকেলে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার বগইরে শামসুদ্দিন নামের ওই ভুয়া চিকিৎসকের কথিত চেম্বারে অভিযান চালায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের দল। পরে তাকে জরিমানা করা হয়।

কথিত চিকিৎসক শামসুদ্দিন ওই এলাকার আব্দুল করিমের ছেলে।

অভিযানে নেতৃত্ব দেন অধিদপ্তরের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক মেহেদী হাসান।

তিনি জানান, শহর থেকে অনেক দূরে শামসুদ্দিন নিজ বাড়িতেই গড়ে তুলেছেন এক অবৈধ চিকিৎসা কেন্দ্র। তার কোনো হোমিও ও অ্যালোপ্যাথি চিকিৎসার অনুমতিপত্র নেই। মজুত পাওয়া যায় মেয়াদোত্তীর্ণ বিপুল পরিমাণ ওষুধ। রোগীদের বোকা বানাতে নিজের নামের আগে যোগ করেছেন ‘ডাক্তার’ উপাধি। এলাকার মানুষের কাছে তিনি ‘ডাক্তার’ নামে পরিচিত।

ভোক্তা অধিদপ্তরের এ পরিচালক আরও বলেন, মানুষকে প্রতারণার চূড়ান্ত সবই তিনি করেছেন। এসব অপরাধে তাকে ৬০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। তিনি মুচলেকা দিয়েছেন ভবিষতে আর বেআইনিভাবে কিছু করবেন না।

আবুল হাসনাত মো. রাফি/এসআর/জিকেএস