দেশজুড়ে

সারাদিন খুলনায় যায়নি কোনো ট্রেন, সন্ধ্যার পর ছাড়লো দুটি

খুলনায় অঘোষিত পরিবহন ধর্মঘটের দ্বিতীয় দিন শনিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যা পর্যন্ত ৬টা পর্যন্ত ট্রেন চলাচল বন্ধ ছিল। এতে খুলনার সঙ্গে কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে যশোর। ট্রেন না আসায় বিপাকে পড়েন যাত্রীরা। তবে সন্ধ্যার পর সুন্দরবন ও সাগরদাঁড়ী এক্সপ্রেস ট্রেন দুটি খুলনার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।

শুক্রবার (২১ অক্টোবর) থেকে যশোর থেকে কোনো গণপরিবহন খুলনার দিকে যাচ্ছে না। শনিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত খুলনাগামী কোনো ট্রেন আসেনি। এতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ পোহাতে হয় ভারতফেরত রোগীদের। সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত তাদের যশোর রেলস্টেশনে অবস্থান করতে দেখা গেছে।

যশোর রেলওয়ে জংশনের স্টেশন মাস্টার আয়নাল হাসান বলেন, বেনাপোল এক্সপ্রেস সকাল ১০টা ২৫ মিনিটে যশোর ছাড়ে। তবে বগির সমস্যার কারণে সেটি বেনাপোল থেকে আসেনি। বেলা ১১টার সাগরদাড়ী এক্সপ্রেসের ইঞ্জিন ঈশ্বরদী স্টেশনে নষ্ট হয়ে যায়। মেরামতের জন্য সেটিও পৌঁছায়নি। শনিবার দিনের বেলা কোনো ট্রেন খুলনায় যেতে পারেনি।

মণিহার, মুড়লি, টার্মিনাল এলাকা ঘুরে দেখা যায়, কুষ্টিয়া, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর ও ঝিনাইদহ থেকে ছেড়ে আসা বাস যশোরে থেমে যাচ্ছে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক রুটের বাস চলাচলও বন্ধ রয়েছে। যাত্রীরা ভেঙে ভেঙে বিকল্প যানবাহনে গন্তব্যে যাচ্ছেন। এজন্য গুনতে হচ্ছে বাড়তি ভাড়া।

পরিবহন শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, শুক্রবার সকাল থেকে খুলনাগামী সবধরণের পরিবহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ১৯ রুটের বাস যশোর টার্মিনালে এসে থেমে যাচ্ছে। ফলে যাত্রীদের অতিরিক্ত ভাড়া নিয়ে ইজিবাইক বা নছিমনে করে কেটে কেটে যেতে হচ্ছে।

যশোর রেলস্টেশনে অবস্থানরত ভারতফেরত যাত্রী গোলাম মোস্তফা জাগো নিউজকে বলেন, ‘ভারতে চিকিৎসা শেষে সকাল সাড়ে ৭টায় বেনাপোলে পৌঁছাই। ট্রেনে করে খুলনায় যেতে চেয়েছিলেন। তবে সেটি হঠাৎ বন্ধ ঘোষণা করায় যশোর বাস টার্মিনালে যাই। সেখানেও বাস বন্ধ পেয়ে আবার রেলস্টেশনে চলে আসি। জানি না খুলনা কীভাবে যাবো।’

ভারতফেরত আরেকযাত্রী মিলন কুমার কুন্ডু জানান, শুক্রবার একাদশী থাকায় সারাদিন না খেয়েই দিন কেটেছে। শনিবার খুলনায় বাড়িতে গিয়ে খাবেন বলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে সারাদিন স্টেশনেই কাটাতে হবে এটা বুঝতে পারেননি তিনি।

যশোর জেলা পরিবহন শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আজিজুল আলম মিন্টু জাগো নিউজকে বলেন, বিএনপির সমাবেশকে কেন্দ্র করে কেউ যেন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটাতে না পারেন সেজন্য মালিকপক্ষ পরিবহন বন্ধ রেখেছে। তবে সন্ধ্যার পর থেকে পরিবহন চলাচল স্বাভাবিক হতে পারে বলে শোনা যাচ্ছে।

যশোর জেলা বিএনপির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু বলেন, খুলনার মহাসমাবেশে যাওয়া ঠেকাতে সরকার অঘোষিত নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে। এতে পরিবহন মালিকরা দুদিন খুলনা রুটে বাস ও শনিবার সকালে ট্রেন চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। তবে সব বাধা পেরিয়ে যশোরের উজ্জীবিত নেতাকর্মীরা খুলনার মহাসমাবেশে পৌঁছে গেছেন বলে জানান তিনি।

মিলন রহমান/এসআর/জেআইএম