জাতীয়

৬ দফা দাবি বাস্তবায়নে আমরণ অনশনের ঘোষণা

৪০তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ নন-ক্যাডার তালিকায় থাকা অপেক্ষমাণ প্রার্থীরা সরকারকে ৬ দফা দাবি জানিয়েছেন। এসব দাবি মানা না হলে আমরণ অনশনের ঘোষণা দিয়েছেন তারা।

সোমবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ১০টা থেকে পিএসসির গেটে ৬ দফা দাবি নিয়ে লাগাতার অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন নন-ক্যাডার তালিকায় থাকা অপেক্ষমাণ প্রার্থীরা। অপেক্ষমাণ প্রার্থীদের সমন্বয়কারীরা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

তারা বলেন, আমাদের লাগাতার অবস্থান কর্মসূচির অংশ হিসেবে আজ সকাল ১০টায় পিএসসির গেটে অবস্থান করি। তবে সেখানেও পুলিশি বাধার সম্মুখীন হতে হয়। এমনকি মাইক ব্যবহারেও নিষেধাজ্ঞা আসে। বাধ্য হয়েই আমরা প্রধান ফটকের পাশে অবস্থান নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি। তবে এখন পর্যন্ত পিএসসির কোনো দায়িত্বশীল কর্মকর্তা আমাদের সঙ্গে কথা বলেননি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক আন্দোলনকারী বলেন, আমরা আরও দুইদিন লাগাতার অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যাবো। এরপরও আমাদের দাবি মানা না হলে আমরা আমরণ অনশনে যাবো।

এর আগে রোববার (৩০ অক্টোবর) দুপুর দুইটা থেকে অবরোধে অংশ নেন নন-ক্যাডার তালিকার অপেক্ষমাণ প্রার্থীরা। আন্দোলন চলাকালীন বিকেল ৪টার পর পিএসসির ফটকগুলোতে অবস্থান নেওয়া প্রার্থীদের পুলিশ সরিয়ে দেয়। পরে সন্ধ্যায় চাকরিপ্রার্থীরা মোমবাতি প্রজ্জ্বলন করে প্রতিবাদ জানান। তবে তাদের দাবি আদায় না হওয়াতে আজও পিএসসির সামনে অবস্থান নিয়েছেন তারা।

প্রার্থীদের ছয় দফা দাবি১. যেহেতু বিজ্ঞপ্তিতে ৪০-৪৩তম বিসিএস পর্যন্ত নন-ক্যাডার পদের সংখ্যা উল্লেখ নাই, সেহেতু বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন কর্তৃক বিজ্ঞাপ্তির পরে ৪০-৪৪তম বিসিএস পর্যন্ত বিজ্ঞপ্তির তারিখ অনুযায়ী নন-ক্যাডার পদ বিভাজনের মাধ্যমে পদসংখ্যা নির্ধারণ করতে হবে।

২. বিজ্ঞপ্তির তারিখ অনুযায়ী পদ বিভাজনের যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, সেখানে ৪০তম বিসিএস নন-ক্যাডারের পদ ৩৬, ৩৭ ও ৩৮তম বিসিএসে নেওয়া হয়েছে। সুতরাং তারিখ অনুযায়ী পদ বিভাজনের এই সিদ্ধান্ত অবিলম্বে বাতিল করতে হবে।

৩. করোনা মহামারিতে ক্ষতিগ্রস্ত ৪০তম বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ নন-ক্যাডার অপেক্ষমাণ তালিকায় থাকা প্রার্থীদের থেকে সর্বোচ্চ সংখ্যক প্রার্থীকে নন-ক্যাডারে সুপারিশ করাতে হবে।

৪. যে প্রক্রিয়া অনুসরণ করে পিএসসি চলতি বছরের ২৯ মার্চ পর্যন্ত ৩৪-৩৮তম বিসিএস নন-ক্যাডার তালিকা প্রকাশ করেছে, সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করে এই সমস্যার সমাধান করতে হবে।

৫. বাংলাদেশের শিক্ষিত ও মেধাবী ছাত্রসমাজে যে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে তার সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা দিতে হবে। একইসঙ্গে বেকারবান্ধব নীতি নবায়ন করতে হবে। এবং

৬. বিগত এক যুগে পিএসসি যে স্বপ্ন, নির্ভরযোগ্য ও বেকারবান্ধব প্রতিষ্ঠান ছিল সেই ধারা অব্যাহত রাখতে হবে।

এমএইচএম/কেএসআর/এমএস