কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার বনগ্রামে কৃষক রেজাউলকে কুপিয়ে হত্যার দায়ে আপন পাঁচ ভাইকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের ২৫ হাজার টাকা অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও এক বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
সোমবার (৩১ অক্টোবর) কুষ্টিয়ার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত-১ এর বিচারক মো. তাজুল ইসলাম এ রায় ঘোষণা করেন।
যাবজ্জীবন দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন উপজেলার মাঝগ্রামের মৃত রহমত আলী শেখের ছেলে উজ্জ্বল শেখ (৫১), সেজ্জাত প্রকাশ সুজাত শেখ (৪১), সুজন শেখ (৩৯), আব্দুল গফুর শেখ (৬১) এবং জালাল উদ্দিন শেখ (৫৪)। অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় এই মামলার সাত আসামিকে আদালত বেকসুর খালাস প্রদান করেন।
রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচ আসামির মধ্যে আব্দুল গফুর ও জালাল উদ্দিনসহ খালাসপ্রাপ্ত সাতজন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। দণ্ডপ্রাপ্ত বাকি তিন আসামি এখনো পলাতক। কুষ্টিয়া জজ কোর্টের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট অনুপ কুমার নন্দী রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণ এবং এজাহার সূত্রে জানা যায়, কুমারখালী উপজেলার মাঝগ্রামের কৃষক আফিল উদ্দিন এবং তার ছোট ভাই জামাল উদ্দিন মাঠে সেচ দেওয়ার জন্য একটি যন্ত্রচালিত সেচযন্ত্র পরিচলনা করতেন। জমিতে সেচ দেওয়াসহ জায়গা-জমি নিয়ে তাদের সঙ্গে আসামিদের পূর্ববিরোধ ছিল। এর জেরে ২০০৭ সালের ১১ জুন রাত সাড়ে ১০টার দিকে মাঠে যাওয়ার পথে আসামিরা জামাল উদ্দিন এবং তার ভাগনে রেজাউলকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপালে ঘটনাস্থলেই রেজাউল নিহত হন। জামাল উদ্দিন গুরুতর আহত হন।
হত্যাকাণ্ডের পরদিন নিহত রেজাউলের মামা আফিল উদ্দিন বাদী হয়ে কুমারখালী থানায় ১২ জনকে আসামি করে একটি মামলা দায়ের করেন। এই মামলায় দীর্ঘ তদন্ত শেষে আসামিদের বিরুদ্ধে ২০০৮ সালের ৭ জানুয়ারি তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়া হয়। পরে দীর্ঘ শুনানি শেষে পাঁচজন সাক্ষীর সাক্ষ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে আদালত এই রায় ঘোষণা করেন।
আল-মামুন সাগর/বিএ/জেআইএম