গোটা সড়কজুড়েই খানাখন্দ। সামান্য বৃষ্টিতে এসব খানাখন্দ কাদাপানিতে একাকার হয়ে যায়। বেহাল এ সড়কে চলতে গিয়ে প্রায়ই ঘটছে দুর্ঘটনা। সংস্কারের অভাবে সড়কটি দিন দিন পুকুরে বিলীন হয়ে যাচ্ছে।
ফেনী শহরের কোলঘেঁষা তুলাবাড়িয়া এলাকায় এ চিত্র দেখা গেছে। প্রায় দুই কিলোমিটার সড়কটি কালিদহ ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত।
শনিবার (২৯ অক্টোবর) সরেজমিন ঘুরে দেখা যায়, তুলাবাড়িয়া হাইস্কুল সংলগ্ন স্থান থেকে দশমি ঘাট, জয়নাল হাজারী কলেজ ও লালপোল এলাকা পর্যন্ত সড়কের অবস্থা বেহাল। এই এলাকায় তুলাবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়, তুলাবাড়িয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রামকৃষ্ণ সেবাশ্রম, দুর্গামন্দির, তপবনাশ্রম রয়েছে। সড়কটি দিয়ে তুলাবাড়িয়া ও আশপাশের এলাকার হাজারও মানুষের চলাচল। ইট-খোয়া উঠে যাওয়ায় বর্ষায় হেঁটে চলাচলও মুশকিল হয়ে পড়ে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ২০০৩ সালের দিকে সড়কটি পাকা করা হয়েছিল। ২০০৫ সালের ৩ অক্টোবর তৎকালীন সংসদ সদস্য অধ্যাপক জয়নাল আবদীন ভিপি সড়কটির উদ্বোধন করেছিলেন। এরপর ২০১১ সালের দিকে মেরামত করা হয়। তবে সেটি বেশিদিন টেকেনি। এরপর এ সড়ক আর মেরামত করা হয়নি। সড়কটি সংস্কার করা ছাড়া বিকল্প নেই বলে জানান তারা।
রাহুল চন্দ্র দাস নামের স্থানীয় একজন বাসিন্দা জানান, তিনি ফেনী শহরের মহিপালে একটি ফলের আড়তে চাকরি করেন। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির অবস্থা বেহাল। এ সড়ক দিয়ে চলাচল করতে খুবই ভোগান্তির শিকার হতে হয়।
নেপাল চন্দ্র শীল নামের আরেকজন বলেন, ‘বর্ষা মৌসুমে রাস্তাটি আরও ভেঙে গেছে। অতি দ্রুত রাস্তাটি সংস্কার করা না হলে এখানে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।’
স্থানীয় বাসিন্দা অজিত বরণ দাস জাগো নিউজকে জানান, তুলাবাড়িয়া এলাকা হিন্দু-অধ্যুষিত। এখানে স্কুল-কলেজ এমনকী তিনটি ধর্মীয় উপাসনালয়ে ভাঙাচোরা রাস্তা দিয়ে আসা-যাওয়া করতে হয়। একটি রাস্তা সংস্কারের অভাবে পুকুরে বিলীন হয়ে গেছে।
দুর্ভোগের বর্ণনা দিয়ে গ্রামের ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী তপন চন্দ্র দাস বলেন, ‘দীর্ঘদিন ধরে রাস্তাটির করুণ অবস্থা। আমরা বহু কষ্টে আছি। শহর থেকে মালামাল আনা-নেওয়ার সময় খুব কষ্ট হয়। কোনো যানবাহন আসতে চায় না। রিকশা কিংবা অটোরিকশায় মালামাল আনলেও ৩-৪ গুণ বেশি ভাড়া গুনতে হয়।’
তুলাবাড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সঞ্জিত কুমার দাস। তিনি জানান, তার স্কুলের ১৬ শিক্ষকসহ সাড়ে তিনশ শিক্ষার্থীকে নিয়মিত যাতায়াতে ভোগান্তির শিকার হতে হয়। দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় এই সড়কে চলাচল কঠিন হয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে কালিদহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন ডালিম বলেন, বরাদ্দের অভাবে রাস্তাটি সংস্কার হয়নি। তবে ফেনী-২ আসনের সংসদ সদস্য নিজাম উদ্দিন হাজারীর ঐকান্তিক চেষ্টায় এলজিইডি সংস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে।
এলজিইডির সদর উপজেলা প্রকৌশলী দীপ্ত দাস গুপ্ত বলেন, সড়কটি সংস্কারে এলজিইডির পক্ষ থেকে চার কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ রয়েছে। সংস্কার হলে মানুষের দুর্ভোগ কমে যাবে।
জানতে চাইলে ফেনী সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান শুসেন চন্দ্র শীল বলেন, তুলাবাড়িয়ায় সড়কের পাশে ছোট-বড় ১৭টি পুকুর রয়েছে। নির্মাণসামগ্রী পৌঁছানো এবং টেকসই সংস্কার নিশ্চিতের বিষয়ে ভাবা হচ্ছে। আশা করছি নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে কাজ শুরু হবে।
আবদুল্লাহ আল-মামুন/এসআর/জিকেএস