দেশজুড়ে

পেঁয়াজ-মরিচ চুরির অভিযোগে নারীর চুল কেটে নির্যাতন

যশোরে পেঁয়াজ ও কাঁচা মরিচ চুরির অভিযোগে এক নারীকে গাছে বেঁধে নির্যাতন ও চুল কেটে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।

রোববার (৬ নভেম্বর) রাতে যশোর সদর উপজেলার চুড়ামনকাটি ইউনিয়নে এ ঘটনা ঘটে। সোমবার বিকেলে তাকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী নারী রোববার রাতে নিজ গ্রামের মনছুরের বাড়িতে ‘তেল পড়া’ আনতে যান। এসময় মনছুরের ছেলে দাবি করেন, ওই নারী তাদের রান্না ঘর থেকে পেঁয়াজ ও কাঁচা মরিচ চুরি করেছেন। এরপর তাকে গাছে বেঁধে নির্যাতন করেন তারা।

ভুক্তভোগীর স্বামী সোহরাব হোসেন জানান, তার স্ত্রীকে দড়ি দিয়ে বেঁধে মারধর করতে থাকেন কয়েকজন। পরে তার মাথার চুল কেটে দেন তারা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা বেঁধে মারধর করা হলেও তাকে উদ্ধারে কেউ এগিয়ে আসেনি বলেও তিনি অভিযোগ করেন।

নির্যাতনের শিকার নারী দাবি করেন, একই গ্রামের কলিম গাজীর ছেলে হারুন, তার স্ত্রী লাবনী বেগম, মুনছুর আলীর ছেলে আলামিন ও তার স্ত্রী কেয়া খাতুন, তার বড় ভাবি সীমা বেগম তাকে আটকে রেখে রাতভর নির্যাতন করেন। পরে পাশের বাড়ির জাহিদুলের স্ত্রীর সহযোগিতায় তার মাথার চুল কেটে দেন অভিযুক্তরা।

ভুক্তভোগীর ভাতিজা দুলাল মিয়া বলেন, মিথ্যা চুরির অভিযোগ এনে অভিযুক্তরা আমার ফুফুকে যেভাবে নির্যাতন করেছে তা অমানবিক। সোমবার বিকেলে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল মান্নান ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, একজন মানুষ অপরাধ করলে তাকে পুলিশে দিতে পারতো। কিন্তু চুরির অভিযোগে এক নরীর সঙ্গে যা করা হয়েছে তা জঘন্য।

সাজিয়ালী পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই সেলিম হোসেন বলেন, ঘটনাটি জেনেছি। এ বিষয়ে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

যশোর কোতোয়ালি মডেল থানার কর্তব্যরত কর্মকর্তা এসআই শারমিন আক্তার বলেন, এ ঘটনায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। অভিযুক্তদের আটকের জন্য পুলিশ তৎপরতা শুরু করেছে।

মিলন রহমান/এমআরআর/এএসএম