যশোরের খড়কি এলাকায় অবস্থিত আইডিয়া পিঠা পার্কের আয়োজিত পিঠা উৎসব শেষ হয়েছে।
শনিবার (১২ নভেম্বর) রাতে সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান।
শুভেচ্ছা বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ পিঠা গবেষণা ইনস্টিটিউটের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ও আইডিয়া পিঠা পার্কের প্রতিষ্ঠাতা সহকারী অধ্যাপক মো. হামিদুল হক, আইডিয়া পিঠা পার্কের কো-অর্ডিনেটর সোমা খান প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক তমিজুল ইসলাম খান বলেন, পিঠা আমাদের সংস্কৃতির ধুলো পড়া এক সমৃদ্ধ রত্নভাণ্ডার। আগামী প্রজন্মের কাছে এর পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্য দরকার দেশীয় সংস্কৃতির প্রচার ও প্রসার। আইডিয়া পিঠা পার্ক শুধু দেশীয় সংস্কৃতিকেই বাঁচিয়ে রাখছে না, তৈরি করছে হাজারো বেকার শিক্ষার্থীর কর্মসংস্থান। তাদের এই পথচলা আরও সুন্দর হোক।
আইডিয়া পিঠা পার্কের স্বপ্নদ্রষ্টা মো. হামিদুল হক জানান, দেশিয় ঐতিহ্যের পিঠার সম্ভার ফিরিয়ে আনার লক্ষে ২০১৭ সালের ৯ ডিসেম্বর অন্যরকম এক সংগ্রামে নামে আইডিয়া পিঠা পার্ক। প্রথমে লক্ষ্য ছিল শিক্ষার্থীদের বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা ও দেশীয় ঐতিহ্যের পিঠার সম্ভার ফিরিয়ে আনা। আমরা যে লক্ষ্য নিয়ে এগিয়েছিলাম মানুষ সেই পিঠাকে সাদরে গ্রহণ করেছে। যথাযথ উদ্যোগ নিতে পারলে পিঠাই হতে পারে আমাদের অর্থনীতির আরেকটি প্রাণশক্তি।
প্রতিষ্ঠানটির উদ্যোক্তারা জানান, আইডিয়া পিঠাপার্ক মূলত শিক্ষার্থীদের বিকল্প কর্মসংস্থান সৃষ্টির একটি উদ্যোগ ও সামাজিক প্রতিষ্ঠান। যশোরের খড়কি শাহ্ আব্দুল করিম রোডে আইডিয়া পিঠা পার্ক যাত্রা শুরুর পর থেকে পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি এ প্রতিষ্ঠানটিকে। এখানে নিরলস পরিশ্রম করছেন শতাধিক স্বেচ্ছাসেবী। যারা সবাই কলেজ এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।
উদ্যোক্তারা আরও জানান, পিঠা পার্ক থেকে অর্জিত লভ্যাংশ শুধু সদস্যরাই নেন না, বরং এর একটা বড় অংশ সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষ ও সামাজিক কাজের জন্য ব্যয় করা হয়।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত গীতিকবি মোহাম্মদ রফিকুজ্জামান, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ড. মুস্তাফিজুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) রফিকুল হাসান ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) তুষার কুমার পাল প্রমুখ।
মিলন রহমান/জেএস/এমএস