মেডিকেল কলেজ স্থাপনের একযুগেও হাসপাতাল নির্মাণ না হওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর দ্বারস্থ হয়েছে যশোরবাসী। রোববার (১৩ নভেম্বর) দুপুরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে সমাবেশ ও মানববন্ধন শেষে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে হাসপাতাল বাস্তবায়ন সংগ্রাম কমিটি।
এর আগে যশোর কালেক্টরেট চত্বরে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বাস্তবায়ন সংগ্রাম কমিটির ব্যানারে সমবেত হন। বিশিষ্ট শ্রমিক নেতা মাহবুবুর রহমান মজনুর সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন মাস্টার হাফিজুর রহমান, ইকবাল কবির জাহিদ, হারুন অর রশীদ, অ্যাডভোকেট মাহমুদ হাসান বুলু, ফারাজি আহমেদ সাঈদ বুলবুল, হাচিনুর রহমান, দীপংকর দাস রতন, অ্যাডভোকেট আমিনুর রহমান হীরু, সাবেক কাউন্সিলর মফিজুর রহমান হিমু, সাজেদ রহমান বকুল, তসলিম উর রহমান।
সঞ্চালনা করেন যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বাস্তবায়ন সংগ্রাম কমিটির সদস্য সচিব জিল্লুর রহমান ভিটু।
সমাবেশে নেতারা বলেন, ২০১১ সালে যশোর মেডিকেল কলেজ স্থাপন হয়। ২০১০-১২ সেশনে শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। তখন কলেজের কাজ চলতো যশোর জেনারেল হাসপাতালে। ২০১৬ সালের আগস্টে শহরের শংকরপুর বাস টার্মিনাল এলাকায় হরিণার বিলে নিজস্ব ক্যাম্পাসে কলেজ ভবনে কার্যক্রম চালু হয়। ৭৫ বিঘার নিজস্ব ক্যাম্পাসে বর্তমানে ইন্টার্নসহ চার শতাধিক শিক্ষার্থী আছেন। তবে দীর্ঘ প্রায় ১২ বছরেও এখানে চালু হয়নি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল। এতে ব্যাহত হচ্ছে মেডিকেল শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম। ব্যবহারিক শিক্ষার জন্য তাদের যেতে হয় পাঁচ কিলোমিটার দূরের যশোর জেনারেল হাসপাতালে।
নেতারা আরও বলে, যদিও যশোরের পরে স্থাপিত পার্শ্ববর্তী জেলা সাতক্ষীরা ও কুষ্টিয়ায় মেডিকেল কলেজে হাসপাতাল চালু হয়েছে। তবে যশোরেরটা এখনো বাস্তবায়ন হয়নি। যশোরসহ নড়াইল, ঝিনাইদহ ও মাগুরার মানুষ বর্তমানে সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেয়। এতে হাসপাতালে রোগীর চাপ অনেক বেড়ে যায়। ফলে ভালো চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হন সাধারণ মানুষ। মেডিকেল কলেজ চালু থাকলে সদর হাসপাতালে ৭৫ শতাংশ রোগীর চাপ কমে যেত। চিকিৎসাসেবার মানও বৃদ্ধি পেত। তাই যশোর মেডিকেল কলেজে দ্রুত ৫০০ বেডের হাসপাতাল নির্মাণের দাবি জানান তারা।
পরে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে স্মারকলিপি দেওয়া হয়। স্মারকলিপিতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে অবিলম্বে যশোর মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের আবেদন জানানো হয়েছে।
মিলন রহমান/এসজে/জিকেএস