ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে প্রথমবারের মতো প্রতিবেশী দেশ ভারত থেকে পাথর আমদানি করা হয়েছে।
রোববার (১৩ নভেম্বর) সন্ধ্যা পৌনে ৬টার দিকে ভারতের আগরতলা স্থলবন্দর হয়ে আখাউড়া স্থলবন্দরে ২১টি ট্রাকে করে ৭৭০ টন পাথর এসে পৌঁছায়। এর মধ্যদিয়ে ৪৩ দিন পর কোনো পণ্য আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি করা হলো।
আখাউড়া স্থলবন্দর বন্দর এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ফোরকান খলিফা জাগো নিউজকে বলেন, এই প্রথম ভারত থেকে আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে পাথর আমদানি করা হলো। আমদানি হওয়া পাথর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ নদীবন্দর থেকে আখাউড়া স্থলবন্দর পর্যন্ত নির্মাণাধীন চার লেন মহাসড়কের কাজে ব্যবহার করা হবে।
ভারতীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এফকন্স ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড এই পাথর আমদানি করেছে। তারা প্রতি টন পাথর ১৩ মার্কিন ডলারে আমদানি করেছেন।
স্থলবন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট মেসার্স খলিফা এন্টারপ্রাইজ আমদানি করা পাথরের কাস্টমস ক্লিয়ারিংয়ের কাজ করছে। পাথরগুলোর আমদানি শুল্ক প্রায় ৬৯ শতাংশ।
আখাউড়া বন্দর সূত্র জানায়, অন্য পণ্য আমদানি করে ভালো মুনাফা না হওয়ায় ব্যবসায়ীরা শুধু বিনা শুল্কের গম আমদানি করেন আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে। তবে ভারত সরকারের নিষেধাজ্ঞার কারণে নতুন এলসি খুলতে না পারায় সবশেষ গত ৩০ সেপ্টেম্বর গম আমদানি হয়েছে। এরপর আর কোনো পণ্য আমদানি হয়নি।
এ স্থলবন্দর দিয়ে একসময় প্রচুর পরিমাণে পাথর রপ্তানি হতো। তবে গত কয়েক বছর ধরে ত্রিপুরার সঙ্গে অন্য রাজ্যগুলোর সড়ক ও রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নের ফলে সেখানকার ব্যবসায়ীরা এখন স্থানীয়ভাবে পাথর সংগ্রহ করেন। ফলে আখাউড়া স্থলবন্দর দিয়ে ভারতে পাথর রপ্তানি কমে গেছে।
মেসার্স খলিফা এন্টারপ্রাইজের প্রতিনিধি মোজাম্মেল হক জানান, এলসিতে আমদানির জন্যে ২৭০০ টন পাথরের মধ্যে ৭৭০টন পাথর এসেছে। বাকি পাথরগুলো আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই বন্দরে এসে পৌঁছাবে।
আখাউড়া স্থলবন্দরের সুপারিনটেনডেন্ট সামাউল ইসলাম সাম্মু জানান, পাথরবোঝাই ট্রাক থেকে বন্দরে প্রবেশ ও অবস্থান ফিসহ বিভিন্ন মাশুল বাবাদ টাকা আদায় করা হচ্ছে। আমদানি করা পাথরের খালাসের কাজ চলছে।
আবুল হাসনাত মো. রাফি/এসআর/জিকেএস