লক্ষ্মীপুরে বশিকপুর স্কুল অ্যান্ড কলেজের সহকারী প্রধান শিক্ষক পদে নিয়োগ স্থগিত করা হয়েছে। একই সঙ্গে অনিয়মের অভিযোগ তদন্তে নেমেছে প্রশাসন।
মঙ্গলবার (১৫ নভেম্বর) দুপুরে তদন্তকারী কর্মকর্তা ও সদর উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা দেবেস কুমার সিংহ বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেছেন।
অভিযোগ সূত্র জানা যায়, ১৫ আগস্ট প্রতিষ্ঠানের সহকারী প্রধান শিক্ষক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করা হয়। এতে অন্তত ১০ জন প্রার্থী আবেদন করেন। কিন্তু কোনো প্রার্থীকে না জানিয়ে ওই পদে বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সহকারী প্রধান শিক্ষক আবদুল বাছেদকে নিয়োগ দেওয়ার পাঁয়তারা করা হয়। এ লক্ষ্যে ১৫ অক্টোবর লক্ষ্মীপুর আদর্শ সামাদ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ে সাজানো পরীক্ষার আয়োজন করা হয়। এদিকে শিক্ষক নিয়োগ ও পরীক্ষা নিয়ে অভিযোগকারী প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎসাহী সদস্য আবুল ফয়েজ জিলানীকে কোনো কিছুই জানানো হয়নি।
অদৃশ্য নিয়োগ কমিটি গঠন করা হয়েছিল। খবর পেয়ে মোবাইল ফোনে ফয়েজ মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের কুমিল্লা অঞ্চলের পরিচালককে বিষয়টি জানান। এতে বোর্ডের পরিচালক নিয়োগ বোর্ডের সদস্য উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা, ডিজির প্রতিনিধি ও প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষকে মৌখিকভাবে নিয়োগ প্রক্রিয়া বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন।
পরবর্তীতে ১৫ অক্টোবর ফয়েজ লিখিতভাবে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও জেলা শিক্ষা কর্মকর্তাসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ করেন। এ ঘটনায় সদর উপজেলা সমবায় কর্মকর্তা দেবেস কুমার সিংহকে দিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করেন ইউএনও।
অভিযোগকারী আবুল ফয়েজ জিলানী বলেন, ‘নিয়োগে অনিয়ম মেনে নেওয়া যায় না। আবেদনকারীরা পরীক্ষা দিয়ে প্রতিযোগিতার মাধ্যমে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে নিজেকে যোগ্য শিক্ষক প্রমাণিত করবেন। যিনি উত্তীর্ণ হবেন তাকেই দায়িত্ব দিতে হবে। অনিয়ম করে শিক্ষক নিয়োগ করা যাবে না।’
ভারপ্রাপ্ত সহকারী শিক্ষক আবদুল বাছেদ জাগো নিউজকে বলেন, নিয়োগ সম্পর্কে কিছুই জানি না। এখন নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত আছে। তবে এ ধরনের অভিযোগ আরও ১০ বছর আগ থেকে চালু করা উচিত ছিল। তাহলে শিক্ষক নিয়োগে কোনো অনিয়ম হতো না।
প্রতিষ্ঠানের সাবেক অধ্যক্ষ নুরুল হুদা বকুল জাগো নিউজকে বলেন, ঘটনাটি আমি জেনেছি। বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে নিয়োগ কার্যক্রম বন্ধ রেখেছে সংশ্লিষ্টরা। পরবর্তীতে স্বচ্ছতার ভিত্তিতে শিক্ষক নিয়োগ হবে।
এ বিষয়ে ডিজি প্রতিনিধি ও লক্ষ্মীপুর আদর্শ সামাদ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উত্তম কুমার পালের মোবাইল ফোনে কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।
তদন্তকারী কর্মকর্তা দেবেস কুমার সিংহ জাগো নিউজকে বলেন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমরান হোসেন ঘটনাটি তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। সোমবার (১৪ নভেম্বর) প্রতিষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেছি। ভারপ্রাপ্ত সহকারী প্রধান শিক্ষক আবদুল বাছেদ ও অভিযোগকারী আবুল ফয়েজ জিলানীসহ সংশ্লিষ্টদের লিখিত বক্তব্য নেওয়া হয়েছে। ঘটনাগুলো বিস্তর তদন্ত শেষে ইউএনওর কাছে প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে।
কাজল কায়েস/এসজে/জিকেএস