দেশজুড়ে

গাজীপুরে যুবলীগ নেতার মৃত্যু নিয়ে রহস্য

গাজীপুরের টঙ্গীতে ব্যবসায়িক কাজে যাওয়ার পথে সাইফুল ইসলাম (৪৮) নামের এক যুবলীগ নেতার রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে।

রোববার (২০ নভেম্বর) রাতে স্থানীয় আউচপাড়া সফিউদ্দিন রোডে এ ঘটনা ঘটে। সাইফুল ৫৪ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ছিলেন।

নিহত সাইফুলের স্বজনরা জানান, সাইফুল রাত ৮টার দিকে ব্যবসায়িক কাজে মোটরসাইকেল নিয়ে বের হন। সোয়া ৮টার দিকে সফিউদ্দিন একাডেমি রোডে বীর মুক্তিযোদ্ধা মাহফুজুর রহমানের বাড়ির সামনে পৌঁছালে কয়েকজন যুবক তার ওপর চড়াও হয়। তাদের হামলায় আহত হন সাইফুল। তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি প্রাইভেট হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।

খবর পেয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। এ সময় পাশের একটি বাড়ির সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়। তাতে দেখা যায়, দুই যুবক মোটরসাইকেল ঘুরিয়ে সাইফুলের কাছে যাচ্ছেন। তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থলে কয়েকটি রিকশা আটকা পড়ে এবং লোকজন জড়ো হয়। ফুটেজে পথচারীদের ভয়ে ওই দুই যুবককে দ্রুত ঘটনাস্থল অতিক্রম করতেও দেখা গেছে।

স্থানীয়রা জানান, মোটরসাইকেল আরোহী দুই যুবক টঙ্গী কলেজ শাখা ছাত্রলীগের সদস্য। তাদের মধ্যে চালকের আসনে রাতুল ও পেছনের সিটে তামীমকে স্থানীয়রা চিহ্নিত করেছেন।

এ বিষয়ে জানতে রাতুলের মোবাইল নম্বরে কল দিলেও বন্ধ পাওয়া যায়। তবে ছাত্রলীগ নেতা তামীম বলেন, ‘আমরা মোটরসাইকেলযোগে যাওয়ার পথে সাইফুল ভাইয়ের সঙ্গে দুজন যুবককে তর্ক করতে দেখি। পরে আমরা মোটরসাইকেল ঘুরিয়ে চলে যাই।’ সাইফুলের সঙ্গে তর্কে লিপ্ত যুবকদের তিনি চিনেননি বলেও দাবি করেন।

ঘটনাস্থলের পাশের দোকান মালিক বিল্লাল হোসেন বলেন, ‘সাইফুল জোরে মোটরসাইকেলের হর্ন বাজালে এক যুবক প্রতিবাদ জানান। এ নিয়ে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে সাইফুল ওই যুবককে থাপ্পড় দেন। এর প্রতিশোধ নিতে ওই যুবক ও তার সহযোগী সাইফুলকে মারধর করেন।’

সাইফুলের প্রতিবেশী বন্ধু মো. জালাল বলেন, ‘সাইফুলকে ঘটনাস্থলে আহত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে পরিচিত একজন আমাকে ফোনে জানান। পরে সাইফুলের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের এক কর্মচারীকে সঙ্গে দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে গিয়ে তাকে অচেতন অবস্থায় পাই। তার নাক দিয়ে রক্ত ও মুখ দিয়ে লালা বের হতে দেখি। রিকশায় উঠিয়ে তাকে ঢাকা ইম্পেরিয়াল হাসপাতালে নিয়ে যাই। তাকে আইসিইউতে স্থানান্তরের পরই বন্ধু মারা যায়।’

জালাল আরও বলেন, ‘হাসপাতালে নেওয়ার সময় রিকশাচালক জানান, সাইফুলকে অজ্ঞাতপরিচয় যুবকরা মারধর করে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে গেছে।’ গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদে মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ডাক্তার মো. শাফি মোহাইমেন জাগো নিউজকে বলেন, ‘নিহতের ময়নাতদন্তকালে শরীরে আঘাতের চিহ্ন ও বুকের নিচে জমাটবদ্ধ রক্ত পাওয়া গেছে।’

তবে টঙ্গী পশ্চিম থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) শুভ মন্ডল জাগো নিউজকে বলেন, ‘নিহত সাইফুলের শরীরে আঘাতের কোনো চিহ্ন পাওয়া যায়নি। যে রক্তের কথা বলা হচ্ছে সেটি সাইফুলের মুখ দিয়ে বের হওয়া পানের পিক।’

নিহতের চাচাতো ভাই হাজী বাবলু বলেন, ‘পুলিশ ইম্পেরিয়াল হাসপাতাল থেকে আমাদেরকে বের করে দিয়ে ঘটনাটি সড়ক দুর্ঘটনা বলে চালিয়ে দিতে উদ্দেশ্যমূলকভাবে ডাক্তারি সনদ নিয়েছে।’

নিহত সাইফুল ইসলামের বড় ভাই মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনের জন্য আমরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি। মরদেহ দাফন শেষে স্বজনদের সঙ্গে পরামর্শ করে থানায় অভিযোগ দেবো।’

টঙ্গী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আশরাফুল ইসলাম জাগো নিউজকে বলেন, যুবলীগ নেতা মারা যাওয়ার বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। এছাড়া ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়া গেলে জানা যাবে এটি হত্যাকাণ্ড না-কি দুর্ঘটনা।

মো. আমিনুল ইসলাম/এসজে/এমএস