দেশজুড়ে

সাবেক চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মানহানি ও ক্ষতিপূরণের মামলা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শফিকুল আলমের বিরুদ্ধে মানহানি ও ১০০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ চেয়ে মামলা করেছেন নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান আল মামুন সরকার। আগামী ১৫ জানুয়ারি এ মামলার জবাব দিতে শফিকুলের বিরুদ্ধে সমন জারি করেছেন আদালত।

মঙ্গলবার (২২ নভেম্বর) ব্রাহ্মণবাড়িয়ার যুগ্ম জেলা জজ প্রথম আদালতের বিচারক মো. নজরুল ইসলাম এই আদেশ দেন।

মামলা সূত্রে জানা যায়, ১৫ অক্টোবর শফিকুল আলম তার লিখিত বক্তব্যে আল মামুন সরকারকে পৌরসভার ইজিবাইক ও অটোরিকশার লাইসেন্স দেওয়ার মহানায়ক বলেছেন। এছাড়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জনবিচ্ছিন্ন নেতা ও ভোটারদের ভয় দেখিয়ে জয় ছিনিয়ে নেওয়ার পায়তারা করা হচ্ছে বলে দাবি করেন। কিন্তু আল মামুন সরকার পৌরসভার মেয়র কিংবা মুখ্য কোনো কর্মকর্তা নন। তিনি পৌরসভার কোনো কার্যক্রমের সঙ্গেও সম্পৃক্ত নন। তারপরও আল মামুন সরকারের বিরুদ্ধে মিথ্যা, জঘন্য, কটাক্ষপূর্ণ, আপত্তিজনক ও মানহানিকর বক্তব্য দিয়েছেন শফিকুল আলম। যা ১৬ অক্টোবর জাতীয় দৈনিকসহ বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। এতে জনসমক্ষে আল মামুন সরকারের চরম মানহানি হয়েছে।

আইনি নোটিশে উল্লেখ করা হয়, শফিকুল আলম নিজেই দলীয় প্রার্থীর বিরুদ্ধে একাধিকবার নির্বাচন করে শৃঙ্খলা ভঙ্গ করেছেন। অন্যদিকে আল-মামুন সরকার দীর্ঘদিন ধরে নিষ্ঠার সঙ্গে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন। কোনো নির্বাচনে দলীয় প্রার্থী মনোনয়নে ওনার কোনো সম্পৃক্ততা নেই। কেননা, মনোনয়ন বোর্ডের প্রধান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সই এর মাধ্যমে তা চূড়ান্ত হয়। আল-মামুন সরকার পৌরসভার মেয়র কিংবা মুখ্য কোনো কর্মকর্তা নন বলেও নোটিশে উল্লেখ করা হয়। নোটিশে আগামী সাতদিনের মধ্যে বাদীর মানহানির ক্ষতিপূরণ বাবদ ১০০ কোটি টাকা দিতে বলা হয়। অন্যথায় প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে উল্লেখ করা হয়।

মামলার বাদি পক্ষের আইনজীবী তারিক জুয়েল বলেন, আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে আগামী ১৫ জানুয়ারি জবাব দিতে বিবাদীকে সমন জারি করেছেন।

এ বিষয়ে জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান শফিকুল আলম বলেন, ওনার (বর্তমান চেয়ারম্যান) মানহানি হওয়ার মতো আমি কিছু বলিনি। আর যেসব কথা বলেছি এসব বললে মামলা হলে তো প্রতিদিনই সারাদেশে অনেক মামলা হবে। ওনার ক্ষমতা ওনি এখন ব্যবহার করছেন। আইনিভাবেই বিষয়টি মোকাবিলা করা হবে।

 

আবুল হাসনাত মো. রাফি/জেএস/জিকেএস