দেশজুড়ে

রাজশাহীতে শিক্ষকের কাণ্ড!

রাজশাহীতে মুহতাসিম ঐশিক (১৭) নামে এক ছাত্রের গোঁফ টেনে ছিঁড়ে ফেলেছেন তার ক্লাস শিক্ষক। মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় ক্লাস চলার সময়ে রাজশাহী নিউ গভ. ডিগ্রি কলেজে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ঐশিকের বাবা হাসমত আলী মহানগরীর রাজপাড়া থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে একাদশ শ্রেণির প্রাণিবিদ্যার ক্লাস চলছিল। এ সময় ক্লাসের শিক্ষক ছিলেন ওই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সাইদুর রহমান। ক্লাসে কয়েকজন শিক্ষার্থী শব্দ করে কথা বললে ক্লাস শিক্ষক সাইদুর রহমান ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন।এ সময় সাইদুর রহমান আকস্মিকভাবে ক্লাসের ছাত্র ঐশিকের কাছে যান। এরপর তাকে দাঁড় করিয়ে চড়-থাপ্পড় মারতে থাকেন। একপর্যায়ে তিনি ঐশিকের গোঁফ টেনে ছিঁড়ে ফেলেন। এ সময় ঐশিকের গোঁফের স্থান থেকে রক্ত বোরোতে থাকে। তাকে এ অবস্থায় সহপাঠীরা ক্লাসের বাইরে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা করায়।অভিযোগে আরো উল্লেখ করা হয়, এক মাস আগে একই শিক্ষক সাইদুর রহমান ক্লাস চলার সময়ে ঐশিককে মেঝেতে ফেলে কিল-ঘুষি ও লাথি মারেন। একইভাবে মারধর করা হয় আরেক ছাত্র রাব্বীকে।অভিযোগ রয়েছে, শিক্ষক সাইদুর রহমান অত্যন্ত বদমেজাজি। তিনি ছাত্রদেরকে মারধর করার সময় একটি ছাত্র সংগঠনের পরিচয় দিয়ে নিজের ক্ষমতা এবং দাপট দেখান। ক্লাসে তিনি প্রায়শই বলেন, ছাত্রজীবনে তিনি একটি ছাত্রসংগঠনের ক্যাডার ছিলেন। এ কারণে কেউ তার কিছু করতে পারবে না।বুলবুল, তরঙ্গ, রাফি ও নিবিড় নামের একই শ্রেণির শিক্ষার্থীরা জানায়, সাইদুর রহমান স্যার সব সময় অস্থির থাকেন। তিনি ক্লাসে প্রায় সময়েই ছাত্রদের মারধর করেন।ঘটনার শিকার ঐশিক বলে, ‘এর আগেও আমাকে মেঝেতে ফেলে মারধর করেছেন স্যার। কিন্তু বাসার কাউকে জানাইনি। কিন্তু আজকের ঘটনাটি আমার একজন সহপাঠী বাবাকে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে জানিয়েছে।’এ ব্যাপারে ঐশিকের বাবা হাসমত আলী বলেন, শিক্ষার্থীদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন না করার ব্যাপারে উচ্চ আদালতের সুনির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এরপরও শিক্ষক সাইদুর রহমান শিক্ষার্থীদের নির্যাতন করছেন। এর ফলে শিক্ষার্থীদের মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। আমি আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ওই শিক্ষকের বিচার চাই। এ কারণে তার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দিয়েছি।অভিযোগ অস্বীকার করে সহকারী অধ্যাপক সাইদুর রহমান বলেন, ‘শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের কোনো ঘটনা ঘটেনি। আমার বিরুদ্ধে অযথা অভিযোগ আনা হচ্ছে হয়রানি করার জন্য।’এ ব্যাপারে রাজপাড়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মেহেদী হাসান বলেন, ‘অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। সত্যতা পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’নিউ গভ. ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ অধ্যাপক তোফাজ্জল হোসেন বলেন, ‘এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগ পাওয়ার পর স্টাফ কাউন্সিলের বৈঠকে চার সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত  কমিটি গঠন করা হয়েছে। আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত সম্পন্ন করার জন্য তদন্ত কমিটিকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর এ ব্যাপারে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’