বিএনপির ঢাকা বিভাগীয় গণসমাবেশের দিন সকাল থেকেই রাজধানীর সদরঘাটে ছিল সুনসান নীরবতা। বুড়িগঙ্গা নদীতে বন্ধ ছিল সব ধরনের নৌ চলাচল। বিকেল নাগাদও সদরঘাটে স্বাভাবিক দিনের ব্যস্ততা ফেরেনি। এতে তীব্র ভোগান্তিতে পড়েছেন দুপাড়ের যাত্রীরা। ঘাটে নৌকা পারাপার বন্ধ থাকায় যাত্রীদের অনেককে বাবুবাজার সেতু দিয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে।
সরেজমিনে শনিবার সকালে সদরঘাট এলাকা ঘুরে দেখা যায়, সদরঘাটের ছোট ছোট নৌ ঘাটগুলো বন্ধ রয়েছে। ঘাটে সারি সরি নৌকা থাকলেও মাঝিরা অলস সময় কাটাচ্ছেন। নৌ চলাচল বন্ধ থাকায় ঘাটে এসে যাত্রীরা দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করে ফিরে যাচ্ছেন।
ঘাটে অপেক্ষমান যাত্রীদের অনেকে ক্ষোভ করে জানান, তারা সকাল থেকে পারাপারের অপেক্ষায় ঘাটে এসে বসে আছেন। কিন্তু নৌকা চলাচল করছে না। পূর্বঘোষণা ছাড়া নৌ চলাচল বন্ধ রাখায় তাদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।
ফরিদ উদ্দীন নামে এক যাত্রী জাগো নিউজকে বলেন, ওপারে আমার কাপড়ের দোকান। দুপুরে ঘাটে এসে দেখি নৌ চলাচল বন্ধ। উপায় না পেয়ে অনেকদূর ঘুরে বাবু বাজার ব্রিজ হয়ে যেতে হবে। নৌকা দিয়ে পার হতে লাগে পাঁচ মিনিট। এখন কয়েকগুণ বেশি সময় লাগবে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েজন স্থানীয় যাত্রী বলেন, ঠিক কী কারণে হঠাৎ নৌকা চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে, তা জানা নেই তাদের। তবে বিএনপির গণসমাবেশকে কেন্দ্র করে নৌ চলাচল বন্ধ থাকতে পারে বলে ধারণা তাদের।
ওয়াইজঘাটের কয়েকজন মাঝি জাগো নিউজকে জানান, সকাল থেকে তারাও ঘাটে এসে বসে আছেন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশ থাকা তারা নৌকা চালাতে পারছেন না। তাদের কেউ কেউ বলেন, বিআইডব্লিউটিএ’র নির্দেশে নৌ চলাচল বন্ধ রয়েছে।
তাদের অভিযোগ, ঘাটে নৌ পুলিশ টহল দিচ্ছেন। যাত্রী আনা-নেওয়া করতে গেলে তারা নিষেধ করছেন।
এ বিষয়ে সদরঘাট নৌ-থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুর রহমান জাগো নিউজকে বলেন, নৌ চলাচলের বিষয়ে আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা কেন নৌ চলাচল বন্ধ রেখেছে সেটা আমরা জানি না।
বিআইডব্লিউটিএ চেয়ারম্যান কমোডর গোলাম সাদেকের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলতে তার মোবাইল ফোনে বারবার কল করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি।
এমকেআর/জিকেএস